E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন সমাবেশ

২০২৬ অক্টোবর ০৪ ১৮:১৪:০৯
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন সমাবেশ

পার্বতীপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন খনিতে কর্মরত আউটসোর্সিং শ্রমিক-কর্মচারী ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী। চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী খনিতে কর্মরত ৮৭ জন আউটসোর্সিং কর্মচারীকে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান তারা।

আজ রবিবার সকালের দিকে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির প্রধান ফটক, চৌহাটি এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন ও সমাবেশে কর্মচারী নেতা তোফায়েল আহমেদ, সাইদুর রহমান, আবু বক্কর সিদ্দিক, আবুল খায়ের, সাখাওয়াত হোসেন, গোলাম মোস্তফা, এরশাদ, বুলবুল, মোশাররফ হোসেন, লিয়াকত আলী ও মাহাবুব হোসেনসহ অনেকে বক্তব্য দেন। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ গ্রামের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা এবং ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সাইদুর রহমান বক্তব্য রাখেন।

এ সময় পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম শাহ, মমিনুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, দীপঙ্কর মানিক শাহ ও রবিউল ইসলাম বাবুসহ দলীয় নেতাকর্মীরা কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। আন্দোলনকারীদের হাতে বিভিন্ন দাবিসংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এতে লেখা ছিল— “অবৈধ নিয়োগ বাতিল কর, করতে হবে” এবং “১২৮৮/২০১৮ উচ্চ আদালতের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই”।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে বর্তমানে নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে খনিতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত দক্ষ ৮৭ জন আউটসোর্সিং কর্মচারীকে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও চলমান প্রক্রিয়ায় তাদের অধিকাংশই বাদ পড়ছেন। তারা চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়োগ সম্পন্ন করার দাবি জানান।

কর্মচারী নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খনিতে কর্মরত অভিজ্ঞ আউটসোর্সিং কর্মচারীদের স্থায়ী নিয়োগের জন্য আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। সেখানে বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে শিথিলতার বিষয়ও বলা হয়েছে। কিন্তু লিখিত পরীক্ষা নেওয়ায় অধিকাংশ কর্মচারী উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এতে তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, খনির কারণে স্থানীয় মানুষ জমি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অথচ স্থানীয় ও দীর্ঘদিনের কর্মরত কর্মচারীদের স্থায়ী নিয়োগ না দিয়ে বহিরাগতদের নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে খনি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও রয়েছে।

বক্তারা বলেন, উচ্চ আদালতের রায় ও নির্দেশনার আলোকে আইনগত, স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ায় নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি অর্থের বিনিময়ে কোনো পছন্দের বা মনোনীত প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হলে তা প্রতিহত করার ঘোষণা দেন তারা।

সমাবেশে বিএনপি নেতা দীপঙ্কর মানিক শাহ বলেন, কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি মেনে না নিলে আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি খনি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন। তবে এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে কোনো সহিংসতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দাবি আদায়ের আহ্বান জানান সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ছানা উল্লাহ বলেন, উচ্চ আদালত খনিতে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মচারীদের পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের কথা বলেছেন। তবে বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে শিথিলতা রেখে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী নিয়োগ কার্যক্রম চলছে।

তিনি বলেন, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী তারা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেবেন। আদালত ৮৭ জনকে নিয়োগের কথা বললেও বর্তমানে খনিতে অনুমোদিত পদ রয়েছে মাত্র ২২টি। সেই পদসংখ্যা অনুযায়ীই নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

আন্দোলনকারীরা দ্রুত তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দাবি পূরণ না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

(আর/এসপি/অক্টোবর ০৪, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০৪ অক্টোবর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test