E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

মামলা-রিমান্ডের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১৯:২৪:৫৭
মামলা-রিমান্ডের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে আটকের পর রিমান্ডে নেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার স্ত্রীর কাছ থেকে দুই লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আশিস দাসের বিরুদ্ধে।

একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর স্ত্রী।

জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে সদর উপজেলার গোয়ালপাড়া এলাকা থেকে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ এনামুল হক এনাম নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করে এসআই আশিস দাসের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল। পরে এনামের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে এনামকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

অভিযোগ রয়েছে, অন্যান্য মামলা ও রিমান্ড থেকে রেহাই দিতে এনামের পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন এসআই আশিস দাস। পরে কোনো উপায় না পেয়ে স্বামীকে রিমান্ড থেকে রক্ষা করতে আশিসের সঙ্গে ‘দুই লাখ টাকার চুক্তি’ করেন এনামের স্ত্রী।

এ ঘটনায় টাকা লেনদেনের বেশ কিছু তথ্য পেয়েছেন এই প্রতিবেদক। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিট থেকে ১০টা ৩৮ মিনিটের মধ্যে শহরের মর্ডান মোড় এলাকার একটি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের দোকান থেকে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন এনামের স্ত্রী। পরে ওই টাকা নিয়ে স্থানীয় এক কুরিয়ারকর্মীকে সঙ্গে করে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান তিনি এনামের স্ত্রীর দাবি, “আমি এসপি কার্যালয়ে সকাল ১১টার দিকে যাই। আমার সঙ্গে থাকা ওই ছেলেকে ধমক দিয়ে বের করে দেয় ডিবি পুলিশের কয়েকজন সদস্য। আমি আমার স্বামীর সঙ্গে দেখা করার কথা বললে আশিষ দারোগা আমার কাছে টাকা চায়। পরে আমাকে একটি রুমের মধ্যে নিয়ে গিয়ে আমার কাছ থেকে তাকে দুই লাখ টাকা বুঝিয়ে দিই।”

“সে সময় ওই দারোগা আমাকে বলে এ কথা কাউকে জানালে তোরসহ পরিবারের সকলকে জেলে পাঠাব”- এমন দাবি করে এনামের স্ত্রী বলেন, “একপর্যায়ে আমি ভয়ে এসপি অফিস থেকে চলে আসি।”

ঝিনাইদহের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকারিয়া মিলন বলেন, মাদক মামলার আসামিকে রিমান্ডের ভয় দেখিয়ে পুলিশের টাকা আদায় করা ফৌজদারি অপরাধ। কোনো পুলিশ সদস্য এ ধরনের অপরাধ করলে ডিপার্টমেন্ট তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে এসআই আশিস দাসের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তার কার্যালয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে ক্ষুদেবার্তায় তিনি জানান, এ বিষয়ে তার সিনিয়র স্যার কথা বলবেন।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকসংক্রান্ত বিষয়ে কোনো পুলিশ সদস্যের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

(এইচআর/এসপি/অক্টোবর ০৭, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০৭ অক্টোবর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test