E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

শ্যামনগরে পশু চিকিৎসক  অনিমেষ অপহরণ মামলা

বনদস্যু আশরাফ ও মাহামুদুলসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল

২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৯:০০:২০
বনদস্যু আশরাফ ও মাহামুদুলসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বৈশখালি গ্রামের পশু চিকিৎসক অনিমেষ পরমান্য অপহরণ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক সুদেব পাল সম্প্রতি আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখিত আসামীরা হলেন, শ্যামনগর উপজেলার মীরগাং গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে যুবদল নেতা মাহামুদুল হাসান ডন(৩২), একই গ্রামের সুজাউদ্দিনের ছেলে আব্দুর জব্বার গাজী(৩৫), নেছার আলীর ছেলে শাহীনুর গাজী (৩০), ট্যাংরাখালি গ্রামের আনছার ঢালীর চেলে আশরাঢ ঢালী(৪৫), পারশেখালি গ্রামের মোফাজ্জেল গাজীর ছেলে চেঞ্জিস রবিউল ইসলাম(৩৫) ও মতিয়ার গাজী ও পশ্চিম কৈখালি গ্রামের কালিন্দিপাড়ার সামছুর রহমানের চেলে আরজ খান ওরফে এসআর খান(৩৮)।

মামলার বিবরণে জানা যায়, চলতি বছরের ২ মে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ট্যাংরাখালি গ্রামের আনছার ঢালীর ছেলে বর্তমানে কৈখালি ইউনিয়নের বৈশখালি গ্রামে বসবাসকারি বনদস্যু আশরাফ আলী পশু চিকিৎসক বৈশখালি গ্রামের নিতাইপদ পরমান্যের ছেলে অনিমেষ পরমান্যকে ভারতীয় অসুস্থ গরু চিকিৎসার কথা বলে সুন্দরবন বাজার থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তাকে সুন্দরবনের মধ্যে নিয়ে তারই মোবাইল থেকে স্ত্রী সবিতা রানীর কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। এ সময় তার উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।

পুলিশের তৎপরতার ফলে বনদস্যুরা ৪ মে পৌনে ১০টার দিকে ধলাই খাল থেকে বনদস্যুদের সহযোগী মীরগাং এলাকার শাহীনুরের জেলে নৌকায় তুলে দেয়। মীরগাং থেকে তাকে একটি মটর সাইকেলে সুন্দরবন বাজারে নেওয়া হয়। অপহরণের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে রাতেই পুলিশ আব্দুল জব্বার গাজী, যুবদল নেতা মাহামুদুল হাসান ডন ও শাহীনুরকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় অনিমেষ পরমান্য বাদি হয়ে রাতেই থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় আব্দুল জব্বার গাজী, যুবদল নেতা মাহামুদুল হাসান ডন, শাহীনুর, চেঞ্জিস রবিউল, মতিয়ার ও আশারাফুলকে আসামী শ্রেণীভুক্ত করা হয়। পরদিন বিচারিক হাকিম শফিকুল ইসলামের কাছে শাহীনুর, বিচারিক হাকিম নূসরত জাহানের কাছে আব্দুর জব্বার ও বিচারিক হাকিম মেহেদী হাসানের কাছে মাহামুদুল হাসান ডন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জব্বার গাজী তার জবানবন্দিতে অন্যান্য আসামী ছাড়াও এসআর খান ওরফে আরজ খানের নাম উল্লেখ করেন। অনিমেষ পরমান্য এর স্ত্রী সবিতা রানীর কাছে সে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ফোন করে। রাতে নৌকায় থাকতে না চাইলে রবিউল এক লাখ টাকা দেওয়ার জন্য তাকে (জব্বার) ও মাহামুদুলকে প্রস্তাব দেয়। ৩ মে দুপুররে জব্বারের ছেলে ও শাহীনুর আসামীদের জন্য ধলাই খালে ভাত নিয়ে যায়। রবিউল ও আশরাফ টাকা না পেলে ডাক্তারকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

মাহামদুল তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করে যে, দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকা মৈজদ্দির মোড়ে ডাক্তার অনিমেষ পরমান্যের স্ত্রীকে আনতে বলা হয়। পুলিশের উপস্তিতি টের পেরে মতিয়ার ওই মোড় থেকে চলে যায়। সে (মাহামুদুল) ও জব্বার নৌকা থেকে পালিয়ে যায়। সে ২০১৭ সালে বনদস্যু হিসেবে র‌্যাব এর কাছে আত্মসমর্পণ করে।

আসামী রবিউল গাজী ও মতিয়ার গত ২৬ জুলাই মহামান্য হাইকোর্ট থেকে ৪৩০৩৯/২৬ ক্রিঃমিস কেস মূলে ৬ সম্পাহের অন্তবর্তীকালিন জামিন পান। আদালতের নির্দেশে তারা হক ৬ সেপ্টেম্বর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবদেন জানালে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেশন জজ গৌতম মল্লিক(অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২য় আদালত) তা নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই আদালত থেকে আসামী আশরাফ ঢালী গত ৯ আগষ্ট ৫০০২১/২৬ নং ক্রিঃমিস কেস মূলে ছয় সপ্তাহের অন্তবর্তীকালিন জামিন পান। গত ২০ সেপ্টেম্বর তিনি সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির হয়ে আবেদন জানালে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর আদালতে সাত জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

আসামীদের পিসিপিআর এ আব্দুর জব্বারের বিরুদ্ধে বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলায় সিআর ৯/২১ নং প্রতারণা মামলা, শ্যামনগর থানায় গত বছরের ২ অক্টোবর হত্যা চেষ্টা মামলা,মাহামুদুল হাসান ডন এর বিরুদ্ধে শ্যামনগর বিচারিক আদালতে সিআর -৪১/২৩ ও ৪২/২৩ নং বিচারাধীন মামলা রয়েছে।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হক জানান, আগামি ৩ ডিসেম্বর ধার্য দিনে অভিযোগপত্র গ্রহণ সংক্রান্ত শুনানী হবে। অভিযোগপত্রে উল্লেখিত আরএস খান পলাতক রয়েছে। অপর ছয় আসামী কারাগারে রয়েছে।

(আরকে/এসপি/অক্টোবর ১২, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১২ অক্টোবর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test