E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

পদ্মায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মা ইলিশ শিকার, ব্যবসায় সক্রিয় অসাধু চক্র 

হোম ডেলিভারিতে পাওয়া যাচ্ছে ‘মা’ ইলিশ 

২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১৯:১১:৩১
হোম ডেলিভারিতে পাওয়া যাচ্ছে ‘মা’ ইলিশ 

মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ : জাতীয় সম্পদ ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় পদ্মায় ২২ দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলছে। তবে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও যৌথ অভিযানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পদ্মার বুকে একশ্রেণীর অসাধু জেলে অবাধে মা ইলিশ শিকার করে চলেছে। শুধু তা-ই নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে মাছ বিক্রির কৌশলেও এসেছে বড় পরিবর্তন। প্রশাসনের ভয়ে বাজার বা ঘাটে না গিয়ে ধরা পড়া ইলিশের এখন চলছে সরাসরি 'হোম ডেলিভারি'।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীর চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকাগুলোতে গভীর রাতে বা ভোরে চটজলদি জাল ফেলে ডিমওয়ালা মা ইলিশ ধরে ফেলা হচ্ছে। এরপর ঘাটে বা খোলা বাজারে মাছ বিক্রি না করে তা মোবাইল ফোনের যোগাযোগ কিংবা পরিচিত মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। ক্রেতারাও কিছুটা কম দামে পাওয়ার আশায় গোপনে বাড়ি বসেই কিনে নিচ্ছেন ডিমওয়ালা এসব ইলিশ।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, "নিষেধাজ্ঞার কারণে বাজারে ইলিশ মাছ পাওয়া যায় না। কিন্তু আগের দিন রাতে জেলেদের বা মাঝারি বিক্রেতাদের অর্ডার দিয়ে রাখলে ভোর রাতের দিকে তারা গোপনে পাড়া-মহল্লায় এসে মাছ দিয়ে যায়। এছাড়া হাড়ি-পাতিলে করে ইলিশ নিয়ে তারা বাড়ি বাড়িও বিক্রি করছে। বিশেষ করে পদ্মা নদী সংলগ্ন হলদিয়া. কনকসার, কুমারভোগ, মেদিনীমন্ডল ও গাওদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের এ ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে সিংহেরহাটি, হলদিয়া, সাগঘড়িয়া শিমুলিয়াসহ বিভিন্ন গ্রামে এখন হোম ডেরিভারী ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইলিশ মাছ বিক্রি করা হচ্ছে। এর এর পেছনে কাজা করছে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট চক্র। ফলে প্রশাসনের চোখে ধুলো দেওয়া সহজ হচ্ছে।"

স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তা ও নৌ পুলিশ জানিয়েছে, নদীতে পর্যাপ্ত টহল বজায় রাখা হয়েছে। নিয়মিত স্পিডবোট ও ট্রলার নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে জাল ও নৌকা জব্দ করা হচ্ছে। তবে জেলেরা অভিযানের দল চলে যাওয়ার পর সুযোগ বুঝে অল্প সময়ের জন্য নদীতে নেমে মাছ ধরছে এবং কৌশলে নদীর তীরবর্তী লোকালয়ে লুকিয়ে ফেলছে।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম ছাড়ার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যদি এভাবে মা ইলিশ শিকার ও কেনাবেচা চলতে থাকে, তবে দেশের ইলিশের সার্বিক উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। সচেতন মহল মনে করছেন, শুধু জেলেদের আটক বা জরিমানা করলেই হবে না; যেসব অপসংস্কৃতির কারণে বাড়িতে বসে মাছ কেনার চাহিদা তৈরি হচ্ছে, সেই ক্রেতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

প্রশাসন জানিয়েছে, 'হোম ডেলিভারি'র মতো অভিনব অপতৎপরতা রুখতে নদীর পাশাপাশি নদীর তীরবর্তী গ্রাম ও পাড়া-মহল্লাগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। ডাঙ্গায় গোপন তথ্য সংগ্রহ করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান জোরদার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রাসেল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

(এমকে/এসপি/অক্টোবর ১৪, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১৪ অক্টোবর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test