E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

অনিয়মের অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে ধানের শীষের জয়

২০২৬ অক্টোবর ৩০ ১৭:৫০:৪১
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে ধানের শীষের জয়

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : দু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ। নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন। অন্যদিকে নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এ আসনটির ১৮৫টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করেছে জেলা নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচনী মাঠে মোতায়েন ছিলো নিরাপত্তা বাহিনীর ৫ হাজার ৩শ সদস্য। পুলিশের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে ২১ প্লাটুন বিজিবি, এসআরবি-১৩’র ৮টি টহল দল।

ভোটে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাড়িপাল্লার দেলাওয়ারের চেয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। এই জয়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় প্রার্থী ও দলীয় নেতাকর্মীরা মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন এবং ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিজয়ী প্রার্থী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "এই বিজয় জনগণের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের বিজয়।"

বেসরকারীভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে দাড়িপাল্লার দেলোওয়ার হোসেন পেয়েছে ৯৬৪৫০ ভোট, ধানের শীষের মির্জা ফয়সল আমিন ২২৭৭৮৯ ভোট, বটগাছ প্রতিকের আব্দুল আলিম নিজামি ৮৩৬ ভোট, হাতপাখার কাদেমুল ইসলাম ৩২৮৮ ভোট, ডাব প্রতিকের হোসন মো ওমর ফারুখ ৪৪৯ ভোট,এছাড়াও বাতিলকৃত ভোট ৫১৬৩ টি।

এদিকে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর পরই ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম, জালিয়াতি এবং নানা ধরনের কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে জামায়াত ও স্বতন্ত্র এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি, দিনভর ব্যালট পেপার ছিনতাই ও ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দেয়ার মত ঘটনা ঘটেছে, নির্বাচন কমিশনের কাছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণের দাবি জানানো হলেও তা রক্ষা হয়নি।

সরেজমিনে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে দেখা গেছে। কোথাও কোনো ধরনের সহিংস পরিস্থিতি চোখে পড়েনি। নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভোটারদের পরিচয় যাচাই করে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এদিন সকালে ভোটারদের উপস্থিতি কম দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বিভিন্ন বয়সী ভোটারদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয় ভোটকেন্দ্রে।

নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। প্রথমবার ভোট দেওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে কেউ কেউ আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। আবার অনেকেই আট মাসের ব্যাবধানে দ্বিতীয়বার ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

রিয়াজ মাহমুদ নামে এক তরুণ ভোটার বলেন, যদিও এটি উপনির্বাচন। কিন্তু জীবনের প্রথম ভোট দিতে পেরে আমাকে খুব ভালো লাগছে।

অপু নামে এক ভোটার জানান, বিগত সরকারের আমলে আমি ভোটার হলেও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারিনি। কিন্তু এবার আট মাসের ব্যবধানে দুইবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। এটা আমার জন্য সত্যিই আনন্দের। কখনো ভাবিনি একই আসনে কয়েক মাসের ব্যবধানে দুইবার ভোট দিতে পারব। আগে শুনেছি, ভোটাররা ঠিকভাবে ভোট দিতে পারতেন না, কেন্দ্রে যাওয়ার আগেই তাদের ভোট দেওয়া হয়ে যেত। কিন্তু এবার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজে দিতে পেরেছি তাও আবার কয়েক মাসের ব্যবধানে দু বার।

সোহেনী রায় নামে এক সনাতন ধর্মালম্বীর ভোটার জানান, আগে ভোটের সময় অমুককে ভোট দিতে হবে, তমুককে ভোট দিতে হবে-এরকম চাপ দিতো, কিন্তু এবার সেটা দেখা যায়নি। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।

উপনির্বাচন ঘিরে ভোটকেন্দ্রগুলোতে নেওয়া হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুলিশের পাশাপাশি মাঠে দায়িত্ব পালন করেছেন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছিল সতর্ক অবস্থানে।

উল্লেখ্য,ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৫ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার রয়েছেন ৪ জন। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫ জন প্রার্থী।

প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের ডা. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।

(এফআর/এসপি/অক্টোবর ৩০, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

৩০ অক্টোবর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test