E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

পুলিশের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে মব সৃষ্টির মাধ্যমে সুমাইয়া হত্যা, গ্রেপ্তার আরো ৩

২০২৬ অক্টোবর ৩১ ১৮:৫৯:৫০
পুলিশের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে মব সৃষ্টির মাধ্যমে সুমাইয়া হত্যা, গ্রেপ্তার আরো ৩

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কাজলা -কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ও কাশিবাটি গ্রামের এনামুল হকের মেয়ে ফারজানা সুলতানা হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সুমাইয়াকে মব সৃষ্টির মাধ্যমে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় পুলিশ আরো তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার রাতে ও শনিবার সকালে তাদেরকে কালিগঞ্জ উপজেলার কাশিবাটি ও নওয়াপাড়া গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কালিগঞ্জ উপজেলার কাশিবাটি গ্রামের মৃত মীর মহসিন আলীর ছেলে মীর আব্দুস সামাদ (৪০), একই গ্রামের মনিরউদ্দিন খানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান (৪৫) ও নওয়াপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে শিমুল হোসেন (৩২)।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মনিরুজ্জামান মল্লিকের আদালতে আসামী পাঠানোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কাশিবাটি গ্রামের সুমাইয়া খাতুন হত্যা মামলায় পুলিশ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে মীর আব্দুস সামাদকে, নওয়াপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে শিমুল হোসেনকে ও কাশিবাটি গ্রামের নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদেরকে শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রবিবার আদালতে রিমা- আবেদন করা হবে।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মল্লিক মনিরুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলার জন্য কয়েক বার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হোসেন জানান, তাদেরকে শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, কাজলা-কালিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ফারজানা খাতুনের হাত ও পা বাঁধা লাশ কাশিবাটি গ্রামের আমিরুল ইসলামের দেয়াল আলমারির ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা পুলিশের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে আমিরুলের স্ত্রী সুমাইয়া খাতুনকে ইট দিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ফারজানা হত্যার ঘটনায় তার মা নাজমা খাতুন বাদি হয়ে ২২ জুলাই নিহত সুমাইয়া খাতুনের ভাই আল আমিনের নাম উল্লেখ করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। আল আমিন বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। এ ছাড়া ২৫ জুলাই সুমাইয়ার স্বামী আমিরুল ইসলাম বাদি হয়ে করো নাম উল্লেখ না করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরদিন সুমাইয়ার বাবা লতিফ শেখ বাদি হয়ে হামিদুল মোড়ল ও হুসাইন খানসহ আট জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। গত ১১ সেপ্টেম্বও সুমাইয়া হত্যা মামলায় পুলিশ কাশিবাটি গ্রামের নূর ইসলাম মীর ও আরিফুল ইসলমকে গ্রেপ্তার করে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমা- আবেদন জানান।

(আরকে/এসপি/অক্টোবর ৩১, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

৩১ অক্টোবর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test