E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

পিলখানা ট্রাজেডি ইতিহাসের ঘৃণীত অধ্যায় : মোস্তফা ভুইয়া

২০২২ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৬:০৭:৫০
পিলখানা ট্রাজেডি ইতিহাসের ঘৃণীত অধ্যায় : মোস্তফা ভুইয়া

স্টাফ রিপোর্টার : ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা ট্রাজেডি ইতিহাসের ঘৃণীত অধ্যায় বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, সেদিন বাংলা হারিয়েছিল জাতির সূর্য্য সন্তানদের। বিডিআর বিদ্রোহের নেপথ্য রহস্য জাতিকে জানানো উচিত সরকারের। সেই সাথে সেনা হত্যাকান্ডের নেপথ্য নায়কদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা সরকারের দায়িত্ব।  

শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পল্টনের আনোয়ার জাহিদ মিলনায়তনে পিলখানা ট্রাজেডির ১৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, পিলখানা হত্যাকান্ডের পেছনে উদ্দেশ্য ছিল তা হলো আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে নিশ্চি‎হ্ন করা। ষড়যন্ত্রকারীরা মেধাবী সেনা অফিসারদের হত্যা করে সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। এর পেছনে যে কারণটি ছিল তা হলো আমাদের ঐক্যহীনতা। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সাড়ে সাত কোটি বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ স্বাধীন করে। কিন্তু স্বাধীনতার বিগত ৫০ বছরে একদিকে বৈদেশিক ষড়যন্ত্র পক্ষান্তরে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিভক্তিসমূহ একটি দিনের জন্য এই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে দেয়নি।

তিনি বলেন, বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী সহল এই জাতিকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে দেয়। এসব অপশক্তি না থাকলে আমরা একটি একক ও শক্তিশালী জাতিসত্তা গঠন করতে পারতাম। আমাদের এই অনৈক্যের সুযোগে আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশকে ঘিরে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এবং আধিপত্যবাদী রাষ্ট্রের যে ষড়যন্ত্র সেই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতার ফসল হচ্ছে পিলখানার নারকীয় ট্রাজেডি।

জাসদ উপদেষ্টা এনামুজ্জামান চৌধুরী বলেন, শহীদ সেনা অফিসাররা সকলেই ছিলেন জাতির সম্পদ। তাদের অভাব পূরন করা খুবই কঠিন কাজ। বাংলার মাটিতে হত্যাকান্ডের নেপথ্য নায়কদের ক্ষমা নাই, যত শক্তিধর হোক না কেন তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় হতেই হবে একদিন।

লেবার পার্টি চেয়ারম্যান হামদুল্লাহ আল মেহেদী বলেন, বিডিআর ট্রাজেডির সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে ব্যর্থ হলে জাতি আমাদের ক্ষমা করবেনা। বাংলাদেশকে অকার্যকর করার যে চক্রান্ত তারই অংশ হিসেবেই বিডিআর ট্রাজেডির ঘটনা। ষড়যন্ত্রকারী ও তাদের এদেশের দোসররা বাংলাদেশের পতাকা-মানচিত্র ধ্বংস করতে প্রথমেই আঘাত করেছে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে।

সভাপতির বক্তব্যে মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা ২৫ ফেব্রুয়ারি সরকারিভাবে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করার জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি দেশপ্রেমিক ও মুক্তিযুদ্ধের সরকারের কাছ থেকে জাতি এই ধরনের সিদ্ধান্তই প্রত্যাশা করছে দীর্ঘ সময় যাবত। এই সরকারের কাছে কোন ধরনের সিদ্ধান্তহীনতা প্রত্যাশা করে না জাতি। ট্রাজিডির ১৩বছর পরও যখন জাতীয় শোক দিবস ঘোষনা করা হয়না তখন জনমনে বিভিন্ন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়, ক্ষোভও সঞ্চিত হয়।

সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা'র সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহন করেন বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, জাসদ উপদেষ্টা এনামুজ্জ্জামান চৌধুরী, লেবার পার্টি চেয়ারম্যান হামদুল্লাহ আল মেহেদী, গণতান্ত্রিক ঐক্যের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ন্যাপ যুগ্ম মহাসচিব মো. মহসীন ভুইয়া, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন আল আমিন, কেন্দ্রীয় নেতা বেলাল হোসেন রাজু, মহসীন মুন্সী, শহিদুল ইসলাম, মঞ্জুরুল ইসলাম কাজল প্রমুখ।

আলোচনা সভায় ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর ট্রাজেডিতে শাহাদাত বরণকারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

(এম/এসপি/ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২২)

পাঠকের মতামত:

১৮ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test