E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘কাউকে এক পয়সাও চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না’

২০২৬ জানুয়ারি ২৩ ১১:৪৫:৪৭
‘কাউকে এক পয়সাও চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না’

স্টাফ রিপোর্টার : নারী-পুরুষ সবাই মিলে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে রাজনৈতিক চাঁদাবাজি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে। কাউকে এক পয়সাও চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে মিরপুর-১০ আদর্শ স্কুল মাঠে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নারী-পুরুষ সবাই মিলে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। সব সহ্য করব, মা-বোনদের ইজ্জতের ওপর আঘাত সহ্য করা হবে না। নারীর প্রতি কোনো ধরনের সহিংসতা চলতে দেওয়া হবে না। সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, খুন, ধর্ষণ, ব্যাংক ডাকাতি চলতে পারবে না।
সমাজের কোনো স্তরে বৈষম্য থাকবে না। ইনসাফভিত্তিক বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জনগণের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসনের বিদ্যামান সমস্যাগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, এই এলাকায় ১০ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই এলাকায় একটি সরকারি হাসপাতাল নেই।
এমনকি উন্নতমানের একটি বেসরকারি হাসপাতালও নেই। এখানে নেই একটি আন্ডারগ্রাজুয়েট কলেজ বা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়। এই এলাকার প্রতিটি অলি-গলিতে ড্রেনের ময়লার গন্ধে বসবাস করা অত্যন্ত কঠিন। গ্যাস সংকট নিত্যদিনের সঙ্গী। জামায়াতে ইসলামী এই আসনে নির্বাচিত হলে জনগণের মৌলিক এসব সমস্যা সমাধান করে জনগণের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।
মনিপুর হাইস্কুল দেশের সেরা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে মনিপুর হাইস্কুলকে সেরা তালিকা থেকে মুছে দিয়েছে।

আগামীতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের শিক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি আজ এখানে জামায়াতের আমির হিসেবে দাঁড়াইনি। আমি দাঁড়িয়েছি রিকশা-ভ্যান-ঠেলা চালক, গার্মেন্টস কর্মী, দোকান-কর্মচারী ও সাধারণ শ্রমিক-জনতার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে। যারা বৈষম্যের শিকার আমি তাদের হয়ে জনগণের সামনে দাঁড়িয়েছি। আমি চব্বিশের বিপ্লবীদের হয়ে দাঁড়িয়েছি। যেই বিপ্লবীদের জীবন আজ হুমকির মুখে। এক হাদিকে হত্যা করে ১৮ কোটি জনগণের হৃদয়ে হাদির জন্ম হয়েছে। কোটি কোটি মানুষ হাদি হতে প্রস্তুত। এদেশে আর কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।

তিনি বলেন, আধিপত্যবাদ-ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। আমরা বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের আর কোনো ছায়াও দেখতে চাই না। ফ্যাসিবাদের নতুন জামা পরে কেউ আসলে ৫ আগস্টের মতোই তাদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল তারা ভোট ডাকাত। আমরা আর কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চাই না। বিগত তিনটি নির্বাচন নয়—এমনও মানুষ আছে যারা জীবনেও ভোট দিতে পারেনি। কারণ তাদের ভোট ডাকাতি করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন,নিজের দলের লোকদের চাঁদাবাজি, পাথর মেরে হত্যা, গাড়িচাপা দিয়ে হত্যা—এগুলো থেকে যারা নিজের কর্মীকে বিরত রাখতে পারবে, আশা করি তারা আগামীর বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবে। আর যারা এগুলো করতে পারবে না তারা যতই স্বপ্ন দেখাবেন, জাতি তাদের মতলব বুঝতে মোটেই কোনো অসুবিধা হবে না।

এ জামায়াত নেতা বলেন, যারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল এবং যারা তাদের মূল দোসর ছিল, তাদের দেখা যায় না। যারা ফ্যাসিবাদের কবলে পিষ্ট হয়েছিলেন, আমরা যারা সেই কষ্ট ভোগ করেছি—মেহেরবানী করে জনগণকে সেই কষ্টটা আর দেবেন না। কিন্তু এখনো দিচ্ছেন। আমরা দেখতে চাই এগুলো বন্ধ হচ্ছে। যদি বন্ধ না হয় আগামী ১২ তারিখ জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবে, পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষায়, ঘুণে ধরা রাজনীতির কাঠামো পরিবর্তনে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, ব্যাংক ডাকাতদের বিরুদ্ধে, মা-বোনদের ইজ্জতে যারা হাত দেয়—তাদের বিরুদ্ধে।

তিনি বলেন, এক ট্যাক্স সরকার আদায় করে জনগণের জন্য ব্যয় করে, আরেক ট্যাক্স একটি দলের নেতাকর্মীরা আদায় করে। তারা সেই ট্যাক্স দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের থেকেও আদায় করে। এমনকি একজন রিকশা-ভ্যান-ঠেলাওয়ালার কাছ থেকেও তারা চাঁদাবাজির সেই ট্যাক্স আদায় করে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে রাজনৈতিক চাঁদাবাজির ট্যাক্স চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে। কাউকে এক পয়সাও চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না।

জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় জোট নির্বাচিত হলে এই বিজয় কোনো পরিবার বা কোনো দলের হবে না—উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, এই বিজয় হবে জনগণের। ১০ দলীয় জোট নির্বাচিত হলে জনগণের সরকার গঠিত হবে।

সারাদেশে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

শফিকুর রহমান বলেন, যুবক ও তরুণ-তরুণীদেরকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে আমরা পেশাগত শিক্ষা দিতে চাই। তাদের নৈতিক শিক্ষা দিতে চাই—যা তাদের দেশপ্রেমিক হতে শেখাবে এবং স্বার্থপর নয়, আত্মকেন্দ্রিক নয়, সার্টিফিকেট সর্বস্ব নয়। তাদের দক্ষতার হাত গড়ে তাদের হাতেই বাংলাদেশ তুলে দেবো। খয়রাত দিয়ে তাদের অপমান করতে চাই না।

জামায়াত আমির মঞ্চে থাকা এনসিপির আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী নাহিদ ইসলামের হাতে সমন্বিত ‘শাপলা কলি’ ও ‘দাঁড়িপাল্লা’র প্রতীক তুলে দেন। পরে তিনি ঢাকা-১২, ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৬, ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থীর হাতে দাঁড়িপাল্লার প্রতীক তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত জনতা হাত উঁচিয়ে তাদের স্বাগত জানান ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। জামায়াত আমির সবার বিজয় কামনা করেন।

(ওএস/এএস/জানুয়ারি ২৩, ২০২৬)







পাঠকের মতামত:

২৩ জানুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test