E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‌‘যুবকদের জন্য চাঁদাবাজমুক্ত ন্যায় ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি’

২০২৬ জানুয়ারি ৩০ ০০:৩৯:৪০
‌‘যুবকদের জন্য চাঁদাবাজমুক্ত ন্যায় ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি’

স্টাফ রিপোর্টার : যুবকদের হাতে বাংলাদেশ তুলে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা যুবকদের কারণেই একটি চাঁদাবাজমুক্ত ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি। যুবকদের কারণে আমরা চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি। 

তিনি বলেন, আমাদের যুব সমাজের কাউকে চাঁদাবাজ, দখলবাজ, অস্ত্রবাজ বানাবে- আমরা তা সহ্য করবো না। তাদেরও আমরা বুকে টেনে নেবো।

সম্মানের কাজ তুলে দেবো। আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেবো না। আমরা তাদের হাতকে দক্ষ কারিগরের হাত হিসেবে গড়ে তুলবো। তারাই বাংলাদেশ গড়ে দেবে।
আমরা বিশ্বাস করি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করলে, বাংলাদেশ জাম্প দিয়ে, লাফ দিয়ে সামনে এগিয়ে যাবে।

চাঁদাবাজ রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক কী? এটি তো দুর্বৃত্তপনা। রাজনীতি হলো নীতির রাজা। কেন চাঁদাবাজি করবেন? চাঁদাবাজি বন্ধ করতে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাঠাবো না। সঙ্গে আমরাও মাঠে নামবো বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা-১২ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বৈষম্য চাই না। অবশ্য ন্যায় বিচার কায়েম করতে হবে, সাম্য ফিরিয়ে আনতে হবে। এই যে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, বাজপাখির মতো কালো চেহারা ধারণ করে মানুষের ওপর ছুঁ মারে।

তিনি বলেন, ২৮ তারিখ চাঁদাবাজদের হাতেনাতে শিক্ষা দিয়েছিলেন কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা। আমি দেশের মানুষদের কারওয়ান বাজারের মতো সবখানে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান করছি। যেভাবে চাঁদাবাজি হচ্ছে, এটা হতে পারে সরকারের দায়িত্ব অবহেলা ও কিছু লোকের বাটোয়োর কারণে। এসব দমন করা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি ১২ তারিখ জনগণের ভোটে আমরা নির্বাচিত হলে, সব চাঁদাবাজদের নির্মূল করা হবে। আমরা আশা রাখি, ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাবে। নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে ৯০ ভাগ চাঁদাবাজের হাত অবশ হয়ে যাবে। কারও মুখের দিকে তাকানো হবে না। চাঁদার কবল থেকে মুক্তির জন্য আমরা সেদিন নির্দয় নিষ্ঠুর হবো।

আমিরে জামায়াত বলেন, ১৯৪৭ সালে আমরা একটা ভুখণ্ড পেয়েছি। এই সীমানার ওপর ভিত্তি করে ৭১ সালে যুদ্ধ হয়েছে, পরে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। ২৪ এর আন্দোলনে দেশের আপামর জনসাধারণ অংশগ্রহণ করেছিল। কিন্তু নেতৃত্বে ছিলেন ছাত্ররা।

তিনি বলেন, এই আন্দোলনকে দমন করার জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছিল। ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সাহসী বিপ্লবী দাঁড়িয়ে বলেছিল, হয় আমার অধিকার দে, না হয় আমাকে একটা গুলি দে। আবু সাঈদ ডানা মেলে দিয়ে বলেছিলেন, বুকের ভেতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর। তিনি জীবন দেওয়ার মাধ্যমে তার লাশ আর রক্ত এই জাতির কাছে আমানত রেখে গেছে, আমি যে প্রয়োজনে জীবন দিয়েছি, তোমরা সেটা পূরণ করবা।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কৃষক তার পণ্যের মূল্য পায় না। পণ্য ঢাকায় আসতে আসতে মূল্য তিন চারগুণ হয়ে যায়। এটির কারণ, সিন্ডিকেট ও চাঁদা। এদের কারণে কৃষক, ভোক্তা ও ব্যবসায়ী সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি বলেন, এখন মুসিবতে পড়েছি, আমি রাজনীতি করবো, আমি চাঁদাবাজিও করবো; কিন্তু আমাকে চাঁদাবাজ বলবেন না। এটা কোন ধরনের কথা? চাঁদাবাজি ছেড়ে দেন, আপনাকে কেউ চাঁদাবাজ বলবে না।

জামায়াত আমির বলেন, ঢাকা-১২ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন এই এলাকার অনেক সমস্যার কথা বলেছেন। আগামীতে ক্ষমতায় এলে, আমরা আমাদের অঙ্গীকার রাখবো, ইনশাআল্লাহ। আমাদের কাজের প্রমাণ, আমরা অতীতেও দিয়েছি। আমাদের দ্বারা পরিচালিত দুটি মন্ত্রণালয়ে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ছিল।

এত দুর্নীতির মধ্যেও কেন আমরা পদত্যাগ করে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেয়নি? বিরোধীদের এমন সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, অনন্ত তিনটি মন্ত্রণালয় বেঁচে যাক, দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা পাক। দেশ ভালো মানুষের হাতে থাকলে দুর্নীতি হয় না, এটি অন্তত মানুষ বুঝতে পারে। দোয়া করেন, আমরা যদি ওয়াদা রক্ষা করতে পারি। জিতলে ওয়েলকাম, না জিতলে ওয়েলকাম, আমি ফল মানি না; এই সিস্টেম বন্ধ করতে হবে। কিন্তু নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে।

৫ আগস্ট পরবর্তী দলীয় ভূমিকার বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বলেছিলাম, কারও ওপর প্রতিশোধ নেবো না, কারও ওপর জুলুম করবো না। একটিও মিথ্যা মামলা দেয়নি। আমাদের আর্থিকভাবে নিঃস্ব করে দেওয়া হয়েছে। তবুও আমাদের সহকর্মীরা কারও সঙ্গে অন্যায় করেনি। আমাদের সহকর্মীরা দেশকে ভালোবাসে, তাই তারা চাঁদাবাজি করে না। আমাদের কর্মীরা আল্লাহকে ভয় করে। তাই, তারা কোনো অন্যায় করে না।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে ইসির উদ্দেশে তিনি বলেন, আলামত ভালো নয়। মা বোনদের গায়ে হাত দেওয়া হচ্ছে। জায়গায় জায়গায় হামলা হচ্ছে, বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। আপনারা বলেছেন, ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্বাচন উপহার দেবেন। এখনো জনগণ আশ্বস্ত হয়নি। আপনারা উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে জনগণকে আস্থায় আনেন। অন্যতায় ব্যর্থতায় দায় নিতে হবে।

প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে উদ্দেশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ আমাদের বন্ধুদের বলবো, গাল ভরে যে গণতন্ত্রের কথা বলেন, সেই গণতন্ত্রের পথে হাঁটুন। আপনার কর্মসূচি আপনি নিয়ে যান, জনগণের ইচ্ছা হলে গ্রহণ করবে।

(ওএস/এএস/জানুয়ারি ৩০, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

৩০ জানুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test