E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‌‘নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হলেও পরিপূর্ণ নিরপেক্ষ বলা যাবে না’

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৪ ০০:৪০:০৭
‌‘নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হলেও পরিপূর্ণ নিরপেক্ষ বলা যাবে না’

স্টাফ রিপোর্টার : নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হলেও এটিকে পরিপূর্ণ নিরপেক্ষ বলা যাবে না বলে উল্লেখ করেছে বাংলদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। 

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে বাসদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।

বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় দেশবাসীকে অভিনন্দন জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, নানা অনিশ্চয়তা ও শঙ্কার পরেও গতকাল কিছু অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা সত্ত্বেও আপেক্ষিক অর্থে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
ভোটাররা বাধাহীনভাবে ভোট প্রদান করতে পেরেছেন।

তিনি আরও বলেন, ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা বুর্জোয়া গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হলেও এটিকে পরিপূর্ণ নিরপেক্ষ বলা যাবে না। কারণ নির্বাচনে ধনী-গরিবের জন্য সমান সুযোগ ছিল না।

ধনিকশ্রেণির রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের অর্থের প্রভাব এবং ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক প্রচারণা নির্বাচনকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করেছে। তাছাড়া প্রশাসন ও প্রচার মাধ্যম প্রধান দুই জোটের পক্ষেই কাজ করেছে। এবারের নির্বাচনে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংখ্যক আসনে জয়ী হয়েছে। এর প্রভাব গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হতে পারে।
কারণ ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতি গণতন্ত্রের জন্য অন্তরায়।

বিবৃতিতে ফিরোজ বলেন, বিগত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচনে দেশবাসী ভোট দিতে পারেনি। ফ্যাসিবাদী সরকার জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিপরীতে শাসকগোষ্ঠী দেশ পরিচালনা করায় একবার ’৯০-এ এবং এবার ’২৪-এর গণ অভ্যুত্থান সংঘঠিত হয়েছে। ফলে যারা নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তারা যাতে জন আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ’৯০ এবং ’২৪-এর গণ অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করেন এবং বিজয়ীদের দেওয়া নির্বাচনী অঙ্গীকার অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় দ্রুত উদ্যোগ নেয় সেটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা আশা করি, নির্বাচিত সরকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করা বিদেশিদের সঙ্গে বন্দর, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত জাতীয় স্বার্থ বিরোধী সব অন্যায্য চুক্তিসমূহ বাতিলের উদ্যোগ নেবেন। শ্রমিক কৃষকের দাবি, নারীদের অধিকার এবং মর্যাদা, আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

বিবৃতিতে তিনি গণতন্ত্র, মানবাধিকার, জাতি, ধর্ম-বর্ণ, লিঙ্গ, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী নির্বিশেষে সব নাগরিকের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও সবার শিক্ষা-স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানের অধিকার নিশ্চিত, উগ্র-ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক অপশক্তির আস্ফালন প্রতিরোধ করতে বাসদ অতীতের মতোই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।

(ওএস/এএস/ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬)






পাঠকের মতামত:

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test