E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন জাতির জন্য তাৎপর্যময়’

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১৬:৩২:২৪
‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন জাতির জন্য তাৎপর্যময়’

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, একুশ আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত তাৎপর্যময়। একুশের ধারাবাহিকতা থেকেই ’৬৯, ’৭১, ’৯০ ও ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে, যা ছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওস্থ এফডিসিতে নির্বাচনী বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর চ্যাম্পিয়ন, রানারআপসহ বিজয়ী দলগুলোর সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, দীর্ঘদিন দেশে যথাযথভাবে গণতন্ত্র চর্চা সম্ভব হয়নি। তাই ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যময়। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে এবং দলীয়করণ, আত্মীয়করণ, দুর্নীতি ও অযোগ্যদের দায়িত্ব দেওয়ার কারণে রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের যুবসমাজ হতাশায় ভুগছে। তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ ও আক্ষেপ দূর করতে না পারলে অগ্রগতি সম্ভব নয়। বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে রূপান্তর করা গেলে দেশের চেহারা বদলে যাবে এবং বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে।

সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, অতীতের যে কোনো নির্বাচনের তুলনায় ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এটি শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়, নাগরিক মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্বাচন।

তিনি বলেন, নির্বাচনে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির বার্তা দিচ্ছেন, যা আশাব্যঞ্জক।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করবে। খাল খনন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, একইসঙ্গে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগে আস্থা ফেরানো, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জ্বালানি নিরাপত্তা ও মব কালচার প্রতিরোধের মতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করা, তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিবর্তে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক করা, এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক সূচনার ইঙ্গিত দেয়।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- স্টেট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান, অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান, অধ্যাপক ড. আফরোজা বেগম ও অধ্যাপক সিক্তা দাস।

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইডেন মহিলা কলেজ ও তেজগাঁও কলেজ যথাক্রমে চ্যাম্পিয়ন, প্রথম রানারআপ ও দ্বিতীয় রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হন ইডেন মহিলা কলেজের বিতার্কিক মাসনুন নাবিলাহ আলম।

চ্যাম্পিয়ন দলকে ২ লাখ টাকা, প্রথম রানারআপকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় রানারআপকে ১ লাখ টাকা পুরস্কারসহ ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদ দেওয়া হয়। শ্রেষ্ঠ বক্তাকে ৫০ হাজার টাকা, ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদ দেওয়া হয়।
(ওএস/এএস/ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬)













পাঠকের মতামত:

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test