E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care

For Advertisement

Mobile Version

প্রবাসীদের সিন্ডিকেট থেকে বাঁচাতে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতার

২০২৬ জুন ১১ ১৫:৪২:৩৩
প্রবাসীদের সিন্ডিকেট থেকে বাঁচাতে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতার

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রাখা প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের ‘টাকার মেশিন’ হিসেবে না দেখে তাদের ‘বীরের সম্মান’ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে প্রবাসীদের সিন্ডিকেটের কবল থেকে বাঁচাতে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে ১৪৭ বিধিতে আনীত এক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সিন্ডিকেট নির্মূল ও সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব
মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দেশগুলোতে থাকা নিম্ন আয়ের প্রবাসীদের কষ্টের কথা তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, তারা কষ্টে থাকলেও আপনজনদের চোখের পানি দেখায় না। ভিডিও কলে কৃত্রিম হাসি দেন।

ঘাটে ঘাটে বসে থাকা সিন্ডিকেট চক্র এই মানুষগুলোর রক্ত চুষে খাচ্ছে। এই সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে।

সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দুনিয়ার যেসব দেশে আমাদের প্রবাসীদের সমস্যা বেশি, সেখানে একটি ‘সংসদীয় টাস্কফোর্স’ সরেজমিনে পরিদর্শন করতে পারে। তারা দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে প্রবাসীদের কথা সরাসরি শুনবে।

এ ছাড়া প্রবাসে কোনো কর্মীর মৃত্যু হলে রাষ্ট্রের খরচে সসম্মানে তাদের মরদেহ দেশে আনার দাবি জানান তিনি।

‘টাকার মেশিন’ না ভেবে বীরের সম্মান দিতে হবে
প্রবাসীদের বীর আখ্যা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা যেহেতু তাদের রেমিট্যান্সযোদ্ধা বলছি, তারা যেন মেহেরবানি করে বীরের সম্মান পায়। সরকার উদ্যোগ নিলে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।

দেশে ফিরে প্রবাসীদের হয়রানির শিকার হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবাসীদের আপনজন বা ভাইয়েরাই অনেক সময় তাদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেন। আইনের আশ্রয় নিতে গেলে সেখানেও আরেক দফা হয়রানির শিকার হন তারা। অনেকেই মনে করেন, এই লোকগুলো ‘টাকার মেশিন’, চাইলেই পাওয়া যাবে। টাকা না দিতে পারলে চোখের পানি মুছে তাদের আবার দেশ থেকে বিদায় নিতে হয়।

তিনি বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, জমি ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার যেসব জটিলতা তৈরি করে গেছে, সেগুলো সহজ করতে হবে। আমার বিনীত অনুরোধ, এই ভাই-বোনগুলোকে যেন আমরা টাকার মেশিন হিসেবে না দেখি। আমরা যেন তাদের আমাদের কলিজা হিসেবে দেখি।

প্রবাসীদের প্রতি সম্মানজনক সম্বোধনের দাবি
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রবাসীদের আমরা ‘শ্রমিক’ বলি। এই শব্দটি পরিবর্তনে আমি আগ্রহী। তাদের জন্য সম্মানজনক কোনো শব্দ ব্যবহার করা উচিত, যেটা অন্তত তাদের মানসিকভাবে সান্ত্বনা দেবে যে দেশ তাদের ভালোবাসে এবং শ্রদ্ধার জায়গায় রেখেছে। মানুষ রপ্তানি না হোক, এটাকে একটি সম্মানজনক জায়গায় আমাদের নিতে হবে।

ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্সে জোর
মেধাপাচার (ব্রেইন ড্রেইন) রোধের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমাদের ফিন্যান্সিয়াল রেমিট্যান্স তো অবশ্যই লাগবে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার জন্য। কিন্তু তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয় ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’। উন্নত দেশগুলো তাদের তরুণ-যুবকদের ইনসেনটিভ দিয়ে, মূল্যায়ন করে দেশে ফিরিয়ে আনছে। উদাহরণস্বরূপ, ভারত ডা. দেবী শেঠির মতো রত্নকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। আমাদের মেধাবীরাও টাকা চায় না, তারা সম্মান আর কাজের একটি কমফোর্ট জোন চায়। আমি সরকারকে অনুরোধ করব, ফিন্যান্সিয়াল রেমিট্যান্সের পাশাপাশি ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্সের প্রতিও যেন গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিদেশে বসেই পাসপোর্ট-এনআইডি সংশোধন সুবিধা
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভিসা ও পাসপোর্ট-সংক্রান্ত জটিলতার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এমআরপি থেকে ই-পাসপোর্ট করতে গিয়ে এনআইডির সঙ্গে নামের বানান বা বয়সের সামান্য তারতম্যের কারণে হাজার হাজার প্রবাসী আজ বিদেশে অবৈধ হয়ে যাচ্ছেন। লিগ্যাল ডকুমেন্টস না থাকলে ওই দেশে তারা থাকবেন কীভাবে? তাদের ঠিকানা তো হবে জেল! বিদেশের মাটিতে বসেই এনআইডি এবং পাসপোর্টের এই জটিলতা যাতে অতি সহজে নিরসন করা যায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সেই উদ্যোগ নিতে হবে।

(ওএস/এএস/জুন ১১, ২০২৬)





পাঠকের মতামত:

১১ জুন ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test