E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘১৮০ দিনের ব্যর্থতার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত’

২০২৬ আগস্ট ২৪ ১৩:৫০:৫৭
‘১৮০ দিনের ব্যর্থতার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত’

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “১৮০ দিনের ব্যর্থতার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উচিত ছিল জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং বিরোধী দলসহ জনগণের সহযোগিতা চাওয়া। কিন্তু, তা না করে সরকার মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।” 

রবিবার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও চলমান কর্মসূচি নিয়ে বৈঠক শেষে ১১ দলীয় ঐক্যের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এই তরুণ সংসদ সদস্য বলেন, “সরকার সংকট স্বীকার না করে ১৮০ দিনের সাফল্য তুলে ধরার চেষ্টা করছে। এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা এবং বিভ্রান্ত করার শামিল। আমরা যখনই জনগণের কাছে যাচ্ছি, মানুষ তাদের ভোগান্তির কথা বলছে। এই প্রতারণার রাজনীতির শুরু হয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করা এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার মাধ্যমে।”

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, “বিএনপি সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পুনর্গঠন করা উচিত। প্রয়োজনে বিরোধী দল সরকারকে নীতিগতভাবে সহযোগিতা করবে।”

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম হয়তো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন হবে। কারণ, তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) ইতোমধ্যে ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মোটেও উন্নতি হয়নি। যেসব মন্ত্রণালয় ক্রমাগতভাবে ব্যর্থ হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে সরকারের মন্ত্রণালয় পুনর্গঠন করা উচিত। সেক্ষেত্রে বিরোধী দল প্রয়োজনে সরকারকে নীতিগতভাবে সহায়তা করবে।”

তিনি বলেন, “সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে অপরিকল্পিত ও অব্যবস্থাপনার কারণে জনগণের ভোগান্তি বেড়েছে। একইসঙ্গে সরকারের প্রতি জনগণের যে আস্থা প্রয়োজন, তা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ, দাবি করে তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি উন্নত হওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা হয়নি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “জ্বালানি সংকট, গ্যাস সংকট, বিদ্যুৎ সংকট— সবকিছু মিলিয়ে দেশে সংকট তৈরি হয়েছে। ঢাকাতেও লোডশেডিং হচ্ছে। গ্যাসের দাম ও সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে। কয়েকশ কারখানা বন্ধ হয়েছে। ব্যবসায়ীরা একদিকে চাঁদাবাজির ভোগান্তিতে রয়েছেন, অন্যদিকে গ্যাস-বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। কৃষকরাও সার সংকটে ভুগছেন।”

সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, “দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, তার একটি পরিকল্পনা রয়েছে এবং তিনি দেশ ও অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে পারবেন। কিন্তু, ছয় মাসের মধ্যেই মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করতে হয়েছে। এতে বোঝা যায়, সরকারের পরিকল্পনা ও হোমওয়ার্ক যথাযথ ছিল না।”

তিনি বলেন, “এই মন্ত্রিপরিষদকে আরো পরিবর্তন করতে হবে। কারণ, বেশিরভাগ মন্ত্রীই তাদের কার্যক্রমে ব্যর্থ হবেন। সরকারের কাছে দেশ পরিচালনার কোনো পরিকল্পনা নেই।”

সরকার বিরোধী দলের কাছে পরিকল্পনা চাইলেও বিরোধী দল আগেই ইশতেহার, বাজেট এবং বিকল্প বাজেটের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানান নাহিদ ইসলাম। জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদীয় কমিটিতেও ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত কর্মসূচি প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম জানান, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম লং মার্চ শুরু হবে। এতে ১১ দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি গণতন্ত্রকামী সাধারণ মানুষকেও অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “শুধু ১১ দল নয়, আমরা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা আশাবাদী, এই লং মার্চে সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করে এটিকে সফল করবেন। বিশেষত যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলেন এবং গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়ে সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছিলেন, সেই তরুণদের আমরা লং মার্চে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রতি সরকারের কমিটমেন্টের কাজ শুরু করা উচিত।”

জ্বালানি ও আইনশৃঙ্খলাসহ জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাগপার সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, এবি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এবি পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়্যুম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, জাগপার মহাসচিব অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মুখপাত্র মো. নাজমুল ইসলাম তালুকদার, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন রানাসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা।

(ওএস/এএস/আগস্ট ২৪, ২০২৬)





পাঠকের মতামত:

২৪ আগস্ট ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test