E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিন্দুমাত্র কলঙ্ক নিতে চায় না সরকার’

২০২৬ অক্টোবর ১৩ ১৫:০১:২২
‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিন্দুমাত্র কলঙ্ক নিতে চায় না সরকার’

স্টাফ রিপোর্টার : স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিন্দুমাত্র কলঙ্ক নিতে চায় না সরকার। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সরকার ও প্রশাসন কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। 

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে গ্রাম পুলিশের সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের একদম অবস্থান যেটি, সেটি হচ্ছে যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার এবং প্রশাসন হস্তক্ষেপ করবে না।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যাদের দায়িত্ব দেবে মাঠ পর্যায়ে আমাদের সিভিল প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসক সবাইকে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি বা পুনরায় দেব, যাতে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য এবং সব প্রার্থীর জন্য সমঅধিকার নিশ্চিত করার জন্য যা যা করার প্রয়োজন তারা যেন করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিন্দুমাত্র কোনো কলঙ্ক এই সরকার কাঁধে নিতে রাজি নয়।’

আগের বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মীর শাহে আলম বলেন, ‘রোল মডেলের আমি বলব না, আমরা বলব যে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য চেষ্টা করব।’

তিনি বলেন, ‘এ দেশে তো অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন স্থানীয় সরকারের দীর্ঘদিন ধরে হয় নাই। আমরা চেষ্টা করব যে মানুষকে একটি উৎসবমুখর গ্রামের মধ্যে, উৎসবের আমেজের মধ্য দিয়ে মানুষ একটা উৎসবমুখর নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার পায়। এ ব্যাপারে আমরা যতটুকু সহযোগিতা করা দরকার নির্বাচন শেষ নির্বাচন কমিশনকে করব ইনশাআল্লাহ।’

চলতি অর্থবছরের মধ্যে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের পাঁচ ধরনের নির্বাচন শেষ করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আবারও অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। এসব নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন,‘এখন পর্যন্ত সরকারের সিদ্ধান্ত এই অর্থবছরই বহাল আছে। আমরা নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছি যে তারা এর মধ্যে আরও কোনো তারিখ বের করার থাকলে বের করে আমাদের এই সমস্ত নির্বাচনগুলো যেন উনারা জুনের মধ্যে শেষ করে দেন।’

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন মে মাস পর্যন্ত চললে বাকি নির্বাচনগুলো জুনের মধ্যে আয়োজন করা সম্ভব হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটা নির্বাচন কমিশন আপনাদের জবাব দেবে কারণ উনাদের আমরা বারবার অনুরোধ করেছি যে এই অর্থবছরেই নির্বাচনগুলো শেষ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ রেখেছি। এখন উনারা নির্বাচন শেষ করতে না পারলে বাজেট আমাদের রয়ে যাবে, পরের অর্থবছরে চলে যাবে। এই সিদ্ধান্তটা উনাদের নিতে হবে।’

সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মীর শাহে আলম বলেন, ‘সরকারের অবস্থান যে জুনের মধ্যে সমস্ত নির্বাচন যেন উনারা শেষ করে দেয়, আমাদের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদগুলো।’

নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে তো সচিব পর্যায়ের একটা মিটিং হয়, সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন আলোচনা করে না। নির্বাচন কমিশন একটা মিটিং করে সংশ্লিষ্ট সচিবদের নিয়ে এবং সেখানে ক্যাবিনেট সচিবের নেতৃত্বে সচিবরা গিয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘সচিবদের সঙ্গে মিটিং করেই তারা এই স্থানীয় সরকারের প্রাথমিক যে তারিখগুলো তারা সম্ভবত নির্ধারণ করেছে এবং বাকি নির্বাচনগুলোর বিষয়ে তারা সচিবদের সঙ্গে মিটিং করে তারা নির্ধারণ করবে যে কবে করবেন এবং কীভাবে করবেন।’

সব নির্বাচন জুনের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটা নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে নেবেন। কারণ নির্বাচন করার দায়িত্ব তো নির্বাচন কমিশনের। এখন কতটুকু তারা পারবেন, পারবেন না, এর জবাব তারা দেবে, নির্বাচন তো আমরা করব না। নির্বাচন নির্বাচন কমিশনকেই করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের পক্ষ থেকে আবারও আপনাদের মাধ্যমে আজকে বলছি যে এই অর্থবছরের মধ্যে যাতে নির্বাচনগুলো তারা শেষ করে দেন, এ ব্যাপারে আপনাদের মাধ্যমে আমি নির্বাচন কমিশনকে আজকে আবারও বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করছি।’

(ওএস/এএস/অক্টোবর ১৩, ২০২৬)


পাঠকের মতামত:

১৩ অক্টোবর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test