E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

বিশ্বকাপে ট্রাম্পের ‘লাল কার্ড’ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছেই

২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১৭:১২:২৬
বিশ্বকাপে ট্রাম্পের ‘লাল কার্ড’ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছেই

স্পোর্টস ডেস্ক : ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র পাঁচ মাস বাকি। মাঠের লড়াই শুরুর আগে এখন ফুটবল বিশ্বে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন ও ভিসা নীতি। 

গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে আসন্ন বিশ্বকাপের ওপর।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট (অভিবাসন) ভিসা প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
এই তালিকায় ব্রাজিল, কলম্বিয়া এবং মিশরের মতো ফুটবল পরাশক্তিরা রয়েছে। যদিও পর্যটক বা দর্শক ভিসায় এর সরাসরি প্রভাব নেই, তবুও সাধারণ দর্শকদের মধ্যে এটি ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সেনেগাল, আইভরি কোস্ট, ইরান এবং হাইতি—এই চার দেশের সমর্থকরা। ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে এই দেশগুলোর সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক তথ্যমতে, আইভরি কোস্ট ও সেনেগালের নাগরিকদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার হার (ওভারস্টে রেট) বেশি হওয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই কারণে হাইতি এবং ইরানকেও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ অর্থ বছরে হাইতি থেকে আসা পর্যটকদের ক্ষেত্রে 'ওভারস্টে' বা অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার হার ছিল ৩১.৩৮ শতাংশ। অন্যদিকে আইভরি কোস্টের ক্ষেত্রে এই হার ৮.৪৭ শতাংশ এবং সেনেগালের ক্ষেত্রে ৪.৩০ শতাংশ।
ট্রাম্প প্রশাসন এই পরিসংখ্যানকে 'জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি' হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সবসময় বলে আসছেন, ‘বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী সব দেশ, কর্মকর্তা এবং সমর্থকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে, নতুবা বিশ্বকাপ আয়োজন সম্ভব নয়।’

২০১৮ সালে বিড করার সময় ট্রাম্প নিজেও আশ্বস্ত করেছিলেন যে কোনো বৈষম্য ছাড়াই সবাই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। তবে বর্তমানে তার সুর ভিন্ন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘সবাইকে স্বাগতম, কিন্তু খেলা দেখা শেষ হলে সবাইকে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে।

ভিসা ইন্টারভিউয়ের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে ‘ফিফা পাস’ নামক একটি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যারা বিশ্বকাপের টিকিট কিনেছেন, তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভিসার আবেদন করার সুযোগ পাবেন। তবে এটি ভিসার নিশ্চয়তা দেয় না; কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশি ও ব্যক্তিগত তথ্য (যেমন: সোশ্যাল মিডিয়া রেকর্ড, বায়োমেট্রিক তথ্য) যাচাইয়ের পরেই কেবল প্রবেশের অনুমতি মিলবে।

বিশ্বকাপের ৭৫ শতাংশ ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে। বাকি ম্যাচগুলো কানাডা ও মেক্সিকোতে হওয়ার কথা। তবে পর্যটকদের ওপর এমন কড়াকড়ি থাকলে স্টেডিয়ামের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে খোদ আয়োজক শহরগুলোই এখন শঙ্কিত।

(ওএস/এএস/জানুয়ারি ১৮, ২০২৬)


পাঠকের মতামত:

১৮ জানুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test