E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

ভারত থেকে সরে যেতে পারে বিশ্বকাপ, বিকল্প ভাবনায় আইসিসি

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১২:৩৪:১৭
ভারত থেকে সরে যেতে পারে বিশ্বকাপ, বিকল্প ভাবনায় আইসিসি

স্পোর্টস ডেস্ক : ভারত ও পাকিস্তানের চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েন বিশ্ব ক্রিকেটের বড় আসর আয়োজনেও প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদপত্র দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ২০২৯ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এবং ২০৩১ সালের পুরুষদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ বিকল্প ভেন্যুতে আয়োজনের পরিকল্পনা বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। ২০৩১ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজনের কথা ভারত ও বাংলাদেশের।
তবে পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে অস্ট্রেলিয়াকে বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে।

বর্তমান ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাই আলোচনাকে নতুন করে সামনে এনেছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে চলা এই আসরে শুরুতে পাকিস্তান তাদের গ্রুপ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে না দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক তৎপরতা ও উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর পাকিস্তান সরকার দলকে ম্যাচে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পাকিস্তান সরে দাঁড়ালে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি ছিল, যা সিদ্ধান্ত বদলে দিতে ভূমিকা রাখে।

দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন দীর্ঘদিনের। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে উত্তেজনা যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকেও গড়িয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এর পর থেকেই বড় টুর্নামেন্টে দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনার ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সম্প্রতি ম্যাচ শেষে প্রচলিত করমর্দন এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ পাকিস্তান ভারত সফর করেছিল ২০১২–১৩ মৌসুমে।

এই বাস্তবতায় ২০২৪–২০২৭ সম্প্রচার চক্রে দুই বোর্ড ‘হাইব্রিড মডেল’-এ সম্মত হয়। ওই মডেলে ঠিক হয়, আইসিসি আয়োজিত টুর্নামেন্টে একে অপরের দেশে গিয়ে খেলবে না দল দুটি; নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজন করা হবে।

ক্রিকেট প্রশাসকদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতের বড় আসরের সময়সূচি ও আয়োজন অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। তাই আগেভাগেই বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখতে চাইছে আইসিসি।

অস্ট্রেলিয়া সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে আলোচনায় থাকার পেছনে অতীত অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ২০২২ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচে দর্শক উপস্থিতি ছিল রেকর্ডসংখ্যক।

আইসিসি এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে জোর আলোচনা, রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতের বড় টুর্নামেন্টের ভেন্যু পরিবর্তনের নজির আরও বাড়তে পারে।

(ওএস/এএস/ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬)











পাঠকের মতামত:

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test