E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

আইন ও ফিটনেস পরীক্ষায় পাস করলেই দলে ফিরতে পারবেন সাকিব

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৪:৫৯:০৯
আইন ও ফিটনেস পরীক্ষায় পাস করলেই দলে ফিরতে পারবেন সাকিব

স্পোর্টস ডেস্ক : ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসবে, অন্য সময়ের মতো নিজ দেশে ঘুরবে-ফিরবে, অনুশীলন করবে এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলবে- এমন প্রত্যাশাই ছিল সাধারণ ক্রিকেট অনুরাগী ও সাকিব ভক্তদের; কিন্তু দীর্ঘদিন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের তকমা গায়ে থাকা সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরার পথে বাধা ছিল জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আন্দোলনের সফল রূপকারদের পক্ষ থেকে।

তাদের অকাট্য যুক্তি- সাকিব আল হাসান ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর এবং আওয়ামী লীগের এমপি। যেখানে খোদ আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে, দলের নেতাকর্মীরা জনরোষের মুখে দেশ ছেড়েছেন কিংবা অন্তরালে চলে গেছেন- সেখানে সাকিব আল হাসান আওয়ামী লীগের এমপি হয়ে কিভাবে দেশে এসে সাধারণ জীবনযাপন করবেন এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন?

মূলত এই চিন্তা থেকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাকিব আল হাসানকে দেশে আনার চেষ্টা করেনি বরং সাকিব যাতে দেশের বাইরে থাকেন, সে ব্যবস্থাই করা হয়েছে। পাশাপাশি আরেকটি বিষয় সাকিবের দেশে আসার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়- তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা রয়েছে। সেই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আইনের চোখে সাকিব একজন আসামি।

তিনি প্রকৃতপক্ষে দোষী কি না, তা নির্ধারণের দায়িত্ব আদালতের। যতক্ষণ পর্যন্ত আদালত তাকে নির্দোষ ঘোষণা না দিচ্ছে, ততক্ষণ তিনি অভিযুক্ত। এটিও একটি বড় কারণ ছিল। মামলা যেহেতু হয়েছে এবং সেটা হত্যা মামলা, সেহেতু মামলা থেকে অব্যাহতি না পাওয়া পর্যন্ত কিংবা নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত দেশে ফেরা মানেই গ্রেপ্তারের ঝুঁকি।

এসব কারণ মিলিয়ে সাকিব আল হাসান ১৮ মাসের বেশি সময় দেশের বাইরে ছিলেন এবং জাতীয় দলের হয়েও খেলতে পারেননি। তবে আশার কথা- এখন তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ চলছে। বিসিবি সাকিবের ব্যাপারে অনেকটাই ইতিবাচক। তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিসিবির উদ্যোগেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

বোর্ড জানিয়েছে, সাকিবকে দেশে ফেরাতে করণীয় কাজের একটি অংশ তারা সম্পন্ন করেছে। এখন বাকি বিষয় সরকারের হাতে। অর্থাৎ হত্যা মামলায় নিষ্কৃতি পাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সরকারের দায়িত্ব।

ধারণা করা হচ্ছে, আইনি জটিলতা কাটিয়ে নির্দোষ ঘোষণার পরই সাকিবকে দেশে আনা হতে পারে। যেহেতু দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং বিসিবি সরকারের কাছে কাগজপত্র পাঠিয়েছে, তাই ধরে নেওয়া যায় সরকারেরও এতে সম্মতি ও সবুজ সংকেত রয়েছে। সে হিসেবে সাকিবের দেশে ফেরার পথে বড় ধরনের বাধা বা শঙ্কা আপাতত নেই। তিনি দেশে ফিরতে পারেন এবং আবার জাতীয় দলে খেলতে পারেন- এমন প্রত্যাশাই অনেকের।

তবে অনেকে ধরে নিয়েছেন, টি-টোয়েন্টি ও টি-টেন লিগে নিয়মিত খেলা সাকিব দেশে ফিরলেই জাতীয় দলে জায়গা পাবেন। যুক্তরাষ্ট্র, আমিরাত, দুবাই, শারজাহ, ওয়েস্ট ইন্ডিজসহ বিভিন্ন দেশে তিনি ২০ ও ১০ ওভারের ক্রিকেট খেলছেন। তাই ভক্তদের একটি অংশ মনে করছেন, তিনি সহজেই দলে অন্তর্ভুক্ত হবেন।

কিন্তু বাস্তবতা কি তাই? দেশে ফিরলেই কি তিনি জাতীয় দলে সুযোগ পাবেন?

জাতীয় দলের পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানে থাকা টিম ম্যানেজমেন্ট এবং নির্বাচকদের সঙ্গে কথা বলে যে ধারণা মিলেছে তা হলো- ক্রিকেটার হিসেবে সাকিব অনন্য এবং বাংলাদেশের অন্যতম সেরা পারফরমার। তবে দীর্ঘদিন তিনি টি-টোয়েন্টি ও টি-টেন ছাড়া উচ্চমানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেননি। ফলে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার মতো পর্যাপ্ত ফিটনেস আছে কি না, শারীরিকভাবে কতটা সক্ষম- তা খুঁটিয়ে দেখা হবে। তার ব্যাটিং-বোলিংয়ের বর্তমান অবস্থাও যাচাই করা হবে। যেভাবে অন্য একজন ক্রিকেটারকে জাতীয় দলে নেওয়ার আগে নিক্তির পাল্লায় মেপে দেখা হয়, সাকিবের ক্ষেত্রেও সেটাই প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ তিনি এলেন আর সরাসরি দলে ঢুকে গেলেন- বিষয়টি এমন হবে না।

ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম জানিয়েছেন, ‘অন্য ক্রিকেটাররা যেমন নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করে এবং ফিজিও-ট্রেনারের ফিটনেস সার্টিফিকেট নিয়ে দলে বিবেচনায় আসেন, সাকিবের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। প্রথমেই দেখা হবে তিনি শারীরিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার উপযুক্ত কি না। এরপর তার বর্তমান পারফরম্যান্স, নেটে বা ঘরোয়া টুর্নামেন্টে- যাচাই করা হবে। তার প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়নের পরই নির্বাচকরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে স্পষ্ট- সাকিবকে পরীক্ষার মধ্য দিয়েই জাতীয় দলে ফিরতে হবে, তা ফিটনেস হোক বা পারফরম্যান্স।

এ কারণেই আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি বিসিবির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও গাজী আশরাফ হোসেন লিপুকে প্রধান নির্বাচক হিসেবে আরও এক মাস দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করেছে ক্রিকেট বোর্ড এবং বিষয়টি ইতিবাচকভাবে গৃহীত হয়েছে। তিনি আরও একমাস জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করবেন। অর্থাৎ ১১ মার্চ থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকায় শুরু হওয়া তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ এবং মে মাসে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে সাকিবের খেলার মতো অবস্থা আছে কি না, তা যাচাইয়ের দায়িত্বও তার ওপর বর্তাবে।

সব মিলিয়ে স্পষ্ট- জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার যে মানদণ্ড, সাকিবকেও সেই একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। নিজের শারীরিক সক্ষমতা ও পারফরম্যান্সের সর্বোচ্চ মান প্রমাণ করেই তাকে দলে ফিরতে হবে, অন্যথায় নয়।

(ওএস/এএস/ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬)

















পাঠকের মতামত:

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test