E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘আমি হলে এভাবে আউট করতাম না’

২০২৬ মার্চ ১৪ ১৪:৪৮:৫৮
‘আমি হলে এভাবে আউট করতাম না’

স্পোর্টস ডেস্ক : বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার ম্যাচে মেহেদী হাসান মিরাজের করা একটি রান আউটকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ক্রিকেটের নিয়মে আউট হলেও বিষয়টি ‘স্পোর্টসম্যানশিপ’ বা খেলোয়াড়সুলভ আচরণের পরিপন্থী কি না, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্রিকেট মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

ম্যাচের ৩৯তম ওভারের ঘটনা। মিরাজের করা চতুর্থ বলটি সোজা ব্যাটে খেলেন রিজওয়ান।

মিরাজ পা দিয়ে বলটি থামানোর চেষ্টা করলেও তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। সে সময় নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকা সালমান আঘা ক্রিজের বাইরে ছিলেন। বলটি মিরাজের হাত ফসকে যাওয়ায় সালমান সেটি হাতে তুলে ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করেন। ঠিক একই মুহূর্তে মিরাজও ক্ষিপ্রতার সাথে বলটি তুলে নিয়ে আন্ডারআর্ম থ্রোতে নন-স্ট্রাইক প্রান্তের স্টাম্প ভেঙে দেন।

মুহূর্তের মধ্যে রান আউটের কবলে পড়েন সালমান।

তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকার সময় থেকেই সালমান আঘাকে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ দেখা যায়। আউট ঘোষণার পর তিনি মেজাজ হারিয়ে ফেলেন এবং রাগে নিজের হেলমেট ও গ্লাভস ছুঁড়ে মারেন। সাজঘরে ফেরার পথে বাউন্ডারি লাইনের কাছে গিয়েও একইভাবে সরঞ্জাম ছুঁড়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায় তাকে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সে সময় রিজওয়ানকে এগিয়ে আসতে হয়।

ম্যাচে পাকিস্তান ১২৮ রানের বড় জয় পেলেও সংবাদ সম্মেলনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এই রান আউট। সালমান আঘা জানান, পুরো বিষয়টি ছিল ‘হিট অব দ্য মোমেন্ট’। তিনি বলেন, ‘সবাই দেখেছেন কী ঘটেছে। আমি বলটি কেবল ফেরত দিতে চেয়েছিলাম, রান নেওয়ার কোনো চিন্তাই আমার মাথায় ছিল না।
বলটি আমার প্যাডে লেগে আসায় ভেবেছিলাম রান আউটের কোনো সুযোগ নেই।’

স্পোর্টসম্যানশিপ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে সালমান স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনের দিক থেকে আউটটি ঠিক ছিল। কিন্তু আমি যদি মিরাজের জায়গায় থাকতাম, তবে স্পোর্টসম্যানশিপকেই বেছে নিতাম। আমি বা আমার দল অধিনায়ক হিসেবে কখনোই প্রতিপক্ষকে এভাবে আউট করতাম না।’

ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী, বল ‘ডেড’ হওয়ার আগ পর্যন্ত ব্যাটসম্যানকে ক্রিজের ভেতরে থাকতে হয়। সালমান ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসায় মিরাজ আইনত তাকে আউট করার সুযোগটি নিয়েছেন। তবে সালমান দাবি করেছেন, মিরাজ বল মিস করলেও তিনি দৌড় দিতেন না, বরং বলটি যেন দূরে চলে না যায় সেজন্যই তিনি সামনে এগিয়ে গিয়েছিলেন।

উত্তেজনার মাথায় উইকেটকিপার লিটন দাসের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হলেও পরে তা নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি সালমান। ম্যাচ শেষে জয়ের স্বস্তি থাকলেও মিরাজের সেই রান আউট যে পাকিস্তানি ব্যাটারের মনে তিক্ততা রেখে গেছে, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট।

(ওএস/এএস/মার্চ ১৪, ২০২৬)





পাঠকের মতামত:

১৪ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test