E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘আমরা খেলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না’

২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১৩:২৯:১৬
‘আমরা খেলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না’

স্পোর্টস ডেস্ক : প্রায় ৯ ঘণ্টার ম্যারাথন বোর্ড সভা শেষে আলোচনায় থাকার কথা ছিল নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে সামনে চলে আসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ প্রসঙ্গ, যেখানে প্রস্তুত থাকলেও শেষ পর্যন্ত খেলতে যেতে পারেনি বাংলাদেশ। 

এ নিয়ে সাংবাদিকদের একের পর এক প্রশ্নের জবাব দিতে হয়েছে বিসিবির প্রতিনিধি হয়ে আসা চার পরিচালককে। বিসিবির দাবি, সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও সরকারের সিদ্ধান্তই আটকে দিয়েছে বাংলাদেশকে।

ক্রিকেটারদের মতামত না নিয়েই বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বোর্ড ও ক্রিকেটাররা সম্মত ছিলেন, এমন দাবি করেছিলেন তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তবে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার দাবি করেন, বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া কিংবা না যাওয়ার বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো আলাপই করা হয়নি।

যদিও বিশ্বকাপ ‘মিস’ হওয়ার পর আসিফ বলেছিলেন, ‘বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত অবশ্যই সরকার নিয়েছে।
কিন্তু এটিও সত্য যে, এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়রা বিনা প্রতিবাদে মেনে নিয়েছে। আর্থিক ক্ষতি, না খেলার বঞ্চনা এবং আরও শাস্তির ভয় থাকা সত্ত্বেও তারা এটি মেনে নিয়েছে। এই হিসেবে দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও দেশের মর্যাদার স্বার্থে বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্তের কৃতিত্বের মূল দাবিদার তারাই।’

সরকারের এমন সিদ্ধান্তের সময় বিসিবির পরিচালকরা পুরো বিষয়টি মেনে নিলেন কেন? কোনো যুক্তি-তর্কই কি করা হয়নি? শনিবারের বোর্ড সভা শেষে উপস্থিত পরিচালকরা জানান, সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের কিছু করার ছিল না।

আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ও বিসিবি পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, ‘খেলোয়াড়দের কাছ থেকে আপনারা পরিষ্কার সংকেত পেয়েছেন। আমি যতটুকু জানি, আলোচনা হয়নি। সালাউদ্দিনও (জাতীয় দলের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন) বলেছে। সেদিন যারা ছিল, ফাহিম ভাই বলতে পারবে… ফাহিম ভাই সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছে।’

ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন ফাহিম বলেন, ‘বিশ্বকাপ ঘিরে মুস্তাফিজ ইস্যুর পর আমরা অবশ্যই প্রথমে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি।
আমাদের ভিন্ন ধরনের চিন্তাভাবনা ছিল। সরকার থেকে যখন একটি সিদ্ধান্ত আসে, তখন সেটিই অনুসরণ করতে হয়েছে। আমরা যখন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলাম, তখন আমার ধারণা ছিল তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হবে, দর কষাকষি হবে। হয়তো তারা ‘সরি’ বলবে, বিভিন্ন সমাধানের কথা বলবে। এরপর হয়তো আমরা রাজি হয়ে যেতাম যাওয়ার জন্য। কিন্তু সে পথে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। কারণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছিল—আমরা যাব না।’

মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান মোখসেদুল কামাল বাবুও দাবি করেন, ‘বোর্ড অবশ্যই বিশ্বকাপ খেলার পক্ষে ছিল।’

তর্ক-বিতর্কের এই সংবাদ সম্মেলনে পরিচালকরা জোর গলায় বলেন, ‘পরিচালক হিসেবে আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চেয়েছি। আমরা অপেক্ষায় ছিলাম।’

একদম শেষে বিশ্বকাপ খেলার মিশনে বিসিবি কতখানি ইতিবাচক ছিল সেই ব্যাখা দিতে গিয়ে ফাহিম বলেছেন, ‘২৩ তারিখে বিপিএল ফাইনাল হয়েছে। চট্টগ্রামে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনার কারণে দেরি হয়ে যায়, ফলে সিলেটে বেশি ম্যাচ খেলতে হয়েছে এবং দ্রুত ঢাকায় ফিরতে হয়েছে। আমরা চাইলে আরও দুই দিন সময় নিয়ে চট্টগ্রামে খেলা শেষ করতে পারতাম। কিন্তু তা করিনি, কারণ আমাদের বিশ্বকাপে যেতে হতো। হয়তো আমরা ২৮ তারিখে রওনা দিতাম। আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলাম।’

‘কিন্তু সরকার নিরাপদ নয় বলার পর আমাদের আর কিছু বলার সুযোগ ছিল না। একপর্যায়ে আমাদের মতামত ততটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। এখনকার সরকার চায় ভারত বা যেকোনো দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে। তাই এটি মূলত সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। সরকার যা চাইবে, আমরা সেটিই অনুসরণ করব। দেশীয় দৃষ্টিভঙ্গিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।’

(ওএস/এএস/এপ্রিল ০৫, ২০২৬)


পাঠকের মতামত:

০৫ এপ্রিল ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test