E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care

For Advertisement

Mobile Version

তপুর জোড়া গোলে ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

২০২৬ জুন ০৬ ১৩:৩১:১৮
তপুর জোড়া গোলে ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

স্পোর্টস ডেস্ক : ইউরোপের মাটিতে কোনো ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে প্রথমবার খেলতে নেমেই বাজিমাত করেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
স্তাদিও অলিম্পিকো সেরাভালে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে জয়ের নায়ক দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। তার দুর্দান্ত দুটি গোলেই নতুন জার্মান কোচ থমাস ডুলির অভিষেক রাঙাল বাংলাদেশ দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল বাংলাদেশ। ১৭ মিনিটেই অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার একটি জোরালো শট প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগ ব্লক করে দেয়।
তবে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পেতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ১৯তম মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে শেখ মোরছালিনের মাপা ক্রসে দারুণ এক হেডে বল জালে জড়ান তপু বর্মণ।
পিছিয়ে পড়ে আক্রমণের ধার বাড়ায় স্বাগতিকরা। ৩১ মিনিটে বেরার্দির একটি কাটব্যাক থেকে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বল জালে জড়ান নিকোলাস জাকোপেত্তি। প্রথমার্ধের ৩৮ মিনিটে সাদ উদ্দিন গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারলে লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হারায় বাংলাদেশ। ফলে ১-১ সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

বাংলাদেশ দলের ডাগআউটে নিজের প্রথম অ্যাসাইনমেন্টেই চমক দেখিয়েছেন কোচ থমাস ডুলি। শুরুতে সমিত সোম, ফাহামেদুলদের বেঞ্চে রাখলেও দ্বিতীয়ার্ধে একাদশে ব্যাপক রদবদল আনেন তিনি। জামাল ও মোরছালিনকে উঠিয়ে মাঠে নামানো হয় তরুণ সমিত সোম ও জায়ান আহমেদকে। এছাড়া ইসা ফয়সালের বদলি হিসেবেও পরিবর্তন আসে।

তপুর জোড়া গোলে ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

দ্বিতীয়ার্ধে চমৎকার পাসিং ফুটবলের পসরা সাজায় ডুলির শিষ্যরা। ৪৮ মিনিটে হামজার দুর্দান্ত থ্রু পাস ধরে রফিকুলের ক্রসে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন সোহেল রানা। ৫৩ মিনিটে সাদের ক্রসে ফাহিমের হেডও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে ৬১ মিনিটে সান মারিনোর কাপিচ্ছিয়োনির ভয়ংকর এক ফ্রি-কিক কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন গোলরক্ষক মিতুল মারমা।

ম্যাচের শেষদিকে ফাহিম ও রফিকুলকে তুলে বিশ্বনাথ ঘোষ ও ফাহামেদুল ইসলামকে মাঠে নামান কোচ। তবে মাঠে নেমেই সহজ একটি সুযোগ নষ্ট করেন বিশ্বনাথ। প্রীতি ম্যাচের নিয়ম মেনে দুই দলের সম্মতিতে বেশ কয়েকটি বদলি করা হয়। এর অংশ হিসেবে ৭৬ মিনিটে সিনিয়র সোহেল রানার জায়গায় নামেন কাজেম শাহ কিরমানি।

ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই ত্রাতা হয়ে আসেন সেই তপু। ৮৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে হামজার ফ্রি-কিকে জটলার সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে বিশ্বনাথের সাইড ভলিতে মাথা ছুঁইয়ে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি আদায় করে নেন এই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার।

বিজয়ের আনন্দে জার্সি খুলে বুনো উদযাপনে মেতে ওঠেন তপু বর্মণ। গ্যালারিতে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও মেতে ওঠেন বাঁধভাঙা উল্লাসে। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত এই লিড ধরে রেখে ইউরোপের মাটিতে স্মরণীয় এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে থমাস ডুলির দল।
(ওএস/এএস/জুন ০৬, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০৬ জুন ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test