E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care

For Advertisement

Mobile Version

মেসির জোড়া গোল, অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা

২০২৬ জুন ২৩ ০১:০৯:৩৩
মেসির জোড়া গোল, অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক : শুরুতে পেনাল্টি মিসের কারণে কিছুটা হতাশা ছড়িয়েছিল আর্জেন্টিনা শিবিরে। কিন্তু যিনি পেনাল্টি মিস করলেন, সেই লিওনেল মেসিই শেষে করলেন জোড়া গোল। তার দুর্দান্ত দুটি গোলে অস্ট্রিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে উঠে গেলো আর্জেন্টিনা।

ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়া। যাদের বিপক্ষে আলজেরিয়ার মত ম্যাচটা এত সহজ হবে না, এটা আগেই জানা ছিল। মাঠেও এর প্রমাণ মিলেছে। আর্জেন্টিনার চোখে চোখ রেখে সমানভাবে লড়াই করেছে অস্ট্রিয়ানরা।

কিন্তু যে দলে মেসির মত ফুটবলার আছেন, সেই দলটিকে আটকে রাখা যে কোনো প্রতিপক্ষের জন্যই কঠিন। যদিও পেনাল্টির মত সহজ সুযোগ পেয়েও মিস করেছিলেন খোদ মেসিই। কিন্তু ঠিকই আর্জেন্টিনার জন্য অস্ট্রিয়ার গোলমুখের তালা খুলে দিলেন তিনি নিজেই।

ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে এগিয়ে দিলেন মেসি। যে গোল নিয়ে ১-০ ব্যবধানে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা এবং অস্ট্রিয়া।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল আর্জেন্টিনা। চতুর্থ মিনিটে লওতারো মার্টিনেজকে বক্সের ভেতর ফাউল করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে ভিএআর পরীক্ষা শুরু হয়। জাভিয়ের স্লাগার, স্টেফান পচস- এ দ ‘জনই একই সময়ে চ্যালেঞ্জে গিয়েছিলেন।

রেফারি ভিএআর মনিটরে দেখে আর্জেন্টিনাকে পেনাল্টি দেন। ৯ম মিনিটে স্পট কিক নিতে আসেন মেসি। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে তার শট পোস্টের ডান পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়। বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির সবচেয়ে হতাশাজনক পেনাল্টি মিসগুলোর একটি। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তিনটি পেনাল্টি মিস করেন তিনি। যা সর্বোচ্চ।

পেনাল্টি মিসের পরও আর্জেন্টিনা আক্রমণ চালিয়ে যায়। ১৯ মিনিটে মেসি বক্সের ভেতর থেকে শট নিলেও অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগার তা রুখে দেন। অন্যদিকে অস্ট্রিয়াও পাল্টা আক্রমণ করে কয়েকবার বিপদ তৈরি করলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণ ভাঙতে পারেনি।

অবশেষে ৩৮ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। থিয়াগো আলমাদা বাম দিকে বল বাড়ান ফাকুন্দো মেদিনার কাছে। মেদিনা নিচু ক্রস ফিরিয়ে দেন বক্সের প্রান্তে ছুটে আসা মেসির দিকে। আর্জেন্টাইন অধিনায়ক প্রথম ছোঁয়াতেই দারুণ বাঁকানো শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। অসহায় শ্লাগার শুধু তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করতে পারেননি।

এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের গোলসংখ্যা ১৭-তে নিয়ে যান মেসি। ফলে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসেকে (১৬ গোল) পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে বসেন তিনি।

গোল হজমের পর কিছুটা চাপে পড়ে যায় অস্ট্রিয়া। ৪০ মিনিটে পসচ হলুদ কার্ড দেখেন, আর ৪২ মিনিটে মেসিকে ফাউল করেও বড় শাস্তি এড়ান ড্যানসো। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে অস্ট্রিয়া একটি ফ্রি-কিক পেলেও ডেভিড আলাবার ডেলিভারি গোলকিক হয়ে যায়।

প্রথমার্ধে মেসির প্রতিটি বল স্পর্শই যেন দর্শকদের মধ্যে আলাদা উত্তেজনা তৈরি করেছে। এমনকি বিরতির আগে নিজের অর্ধে বল পেয়ে পেছনে পাস দিলেও গ্যালারির দর্শকরা দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানিয়েছেন।

সাত মিনিট অতিরিক্ত সময় শেষে বিরতির বাঁশি বাজলে ১-০ গোলের লিড নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। পেনাল্টি মিসের আক্ষেপ ভুলে ইতিহাসগড়া গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছেন মেসি।

এরপর দ্বিতীয়ার্ধ ছিল কিছুটা নিষ্প্রভ। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার একেবারে শেষ মুহুর্তে অবিশ্বাস্যভোবে আরও একটি গোল করলেন মেসি।

(ওএস/এএস/জুন ২৩, ২০২৬)




পাঠকের মতামত:

২৩ জুন ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test