E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care

For Advertisement

Mobile Version

ইকুয়েডরকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে মেক্সিকো

২০২৬ জুলাই ০১ ১৪:১৮:৩৫
ইকুয়েডরকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে মেক্সিকো

স্পোর্টস ডেস্ক : গ্যালারি ভরে উঠেছিল খেলা শুরুর অনেক আগেই। আনুষ্ঠানিক হিসেবে দর্শক সংখ্যা ৮০ হাজার ৮২৪।

গর্জনে প্রকম্পিত চারপাশ। কিন্তু গর্জে উঠল প্রকৃতিও। বজ্রঝড়ে খেলা শুরু হতে দেরি হলো ১ ঘণ্টা। প্রকৃতি শান্ত হওয়ার পর মাঠে ঝড় তুলল মেক্সিকো।

গতিময় ফুটবলে প্রথম আধ ঘণ্টাতেই দুর্দান্ত দুটি গোল! এরপর আর গোল হলো না ম্যাচে। প্রয়োজনও পড়ল না।
উৎসবের মঞ্চ রাঙিয়ে গোটা দেশকে আনন্দে ভাসিয়ে পৌঁছে গেল তারা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয়।

বিশ্বকাপের ম্যাচটিতে একুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে ৪০ বছরের খরা কাটাল মেক্সিকো।

সবশেষ সেই ১৯৮৬ নিজ দেশের আসরে নকআউটের ম্যাচ জিততে পেরেছিল তারা। এখনকার কোচ হাভিয়ের আগিরে ছিলেন সেই দলের ফুটবলার।

১৯৯৪ থেকে টানা সাতটি আসরে গ্রুপ পর্ব উতরে পরের ধাপেই মুখ থুবড়ে পড়েছে তারা। এবার কেটে গেল সেই ধারা।

ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়ামে (এখনকার মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম) বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে গোল দুটি করে হুলিয়ান কিনোনেস এবং রাউল হিমেনেস।

এবারের বিশ্বকাপের প্রথম গোলস্কোরার কিনোনেসের গোল এখন তিনটি। অভিজ্ঞ হিসেবে এবারের আগে তিনটি বিশ্বকাপ খেলেও গোলের দেখা পাননি। এবার ৩৫ বছর বয়সে গোল করলেন তিনি দুটি।

'ডার্ক হর্স' হিসেবে বিশ্বকাপে আসা একুয়েডর ছিটকে গেল গ্রুপ পর্ব পেরিয়েই। শেষ সময়ে মুখ ঢেকে কথা বলার জন্য লাল কার্ড পান তাদের ডিফেন্ডার পিয়েরো ইনকাপিয়ে।

ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ বোঝাপড়ায় আক্রমণ গড়ে তুলতে থাকে মেক্সিকো। ষষ্ঠ মিনিটে লুইস রোমোর নিচু শট বাইরে দিয়ে চলে যায়। পরের মিনিটে তার নিখুঁত ক্রস থেকেই হিমেনেসের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে মেক্সিকো এগিয়ে যায় ২২তম মিনিটে।

একুয়েডরের আক্রমণ ঠেকিয়ে দারুণভাবে বল বাড়ান হেসুস গাইয়ার্দো। নিজের অর্ধে থেকেই অফসাইড ফাঁদ এড়িয়ে বাম দিক দিয়ে ছুটতে থাকেন কিনোনেস। এরপরই দেখা যায় বিধ্বংসী একক নৈপুণ্য। সরাসরি গোলের দিকে দৌড়ে গিয়ে বক্সের ঠিক ভেতর থেকে এক অপ্রতিরোধ্য শট নেন। সেই গোলা সামলানোর উপায় ছিল না গোলকিপারের।

পরের গোলটি আসে দ্রুতই। সেখানে বড় অবদান একুয়েডরের রক্ষণভাগের বড় ভুলের। তকে হিমেনেসের ফিনিশিং ছিল দুর্দান্ত।

বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে জোয়েল ওর্দানেস সরাসরি দিয়ে বসেন হিমেনেসকে। তিনি কিনোনেসের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে বক্সের একটু ভেতরে দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে দারুণ শটে বল জালে জড়ান পোস্ট ঘেঁষে।

একুয়েডরকে মনে হচ্ছিল তখন ছন্নছাড়া। তবে ৩৫ মিনিটের পর থেকে একটু গুছিয়ে নেয় তারা। ৪০তম মিটে ইবোয়ার জোরাল শট লাফিয়ে ফিরিয়ে দেন রাউল রাহনেল। ৪২তম মিনিটেও কর্নার করে দলকে রক্ষা করেন মেক্সিকোর গোলকিপার। পাল্টা আক্রমণে ৪৫তম মিনিটে হিমেনেসের ভলি চলে যায় ওপর দিয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ২০ মিনিটে বল নিয়ন্ত্রণে বেশি রাখে একুয়েডর। তবে তেমন কোনো পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কোনো দল। ৬৭ মিনিটে সম্ভাবনা জাগায় মেক্সিকো। সেসার মন্তেসের হেড অসাধারণ রিফ্লেক্সে এক হাতে বাইরে পাঠিয়ে দেন একুয়েডরের গোলকিপার এর্নান গালিন্দেজ। সেখান থেকে পাওয়া কর্নারে জোহা ভাস্কেসের হেড চলে যায় একটু বাইরে দিয়ে।

(ওএস/এএস/জুলাই ০১, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০১ জুলাই ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test