E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর নেশা আমারও আছে’

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১৫:৩৫:২৮
‘অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর নেশা আমারও আছে’

স্পোর্টস ডেস্ক : ইংল্যান্ডের নতুন টেস্ট কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন। আর শুরুতেই জানিয়ে দিলেন, ইংলিশ ক্রিকেটের মতো তারও অ্যাশেজ নিয়ে ‘নেশা’ আছে।

অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর লক্ষ্য নিয়েই ইংল্যান্ডের দায়িত্ব নিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক।

জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের টেস্ট কোচ হিসেবে নিয়োগ পান ফ্লেমিং।
ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর দিয়ে শুরু হবে তার দায়িত্বের মাঠের অধ্যায়। এর পরের অ্যাশেজ হবে আগামী গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডের মাটিতে।
২০১৫ সালের পর প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে অ্যাশেজে হারানোর লক্ষ্য থাকবে ইংল্যান্ডের। গত শীতের অস্ট্রেলিয়া সফরে ৪-১ ব্যবধানে হারের হতাশাও ভুলতে চাইবে তারা।

অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর জন্য ইংল্যান্ডের অতিরিক্ত আবেগ কাজ করে কি না, বিবিসি স্পোর্টসের এমন প্রশ্নে ফ্লেমিং বলেন, ‘না, কারণ আমারও এ নিয়ে নেশা আছে। নিউজিল্যান্ডেও এ নিয়ে নেশা আছে, আমরা এটা ভালোবাসি।’

‘আমরা অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে চাই। ছোট ভাইয়ের মতো অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আমাদের গভীর সম্পর্ক, তাই সবকিছুতেই তাদের হারানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকে। ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্সের সঙ্গেও আমরা ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। এর অংশ হতে পেরে আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৪টি টেস্ট খেলেও একটিতেও জয় পাননি ফ্লেমিং। এবার কোচ হিসেবে সেই দলের বিপক্ষেই জয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

ফ্লেমিংয়ের আগে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের কোচ ছিলেন তার সাবেক সতীর্থ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। চলতি গ্রীষ্মে তাকে টেস্ট কোচের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও সাদা বলের দলের কোচ হিসেবে বহাল রাখা হয়েছে। ম্যাককালামের শেষ ১০ টেস্টের মধ্যে মাত্র দুটিতে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড, যার মধ্যে ছিল অস্ট্রেলিয়া সফরের ৪-১ ব্যবধানের হার।

ম্যাককালাম ও ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক বেন স্টোকসের সময়ে দলের অন্যতম সমালোচনা ছিল টেস্টের পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের খেলার ধরন বদলাতে না পারা এবং খুঁটিনাটিতে পর্যাপ্ত মনোযোগের ঘাটতি।

ম্যাককালামের সঙ্গে দারুণ বন্ধুত্ব ফ্লেমিংয়ের। দুজন ব্যবসায়িক অংশীদারও। নিজেদের পার্থক্য বোঝাতে গিয়ে রসিকতা করে ফ্লেমিং বলেন, ‘আমি ফেভারিটের ওপর বাজি ধরব, আর সে সবচেয়ে বেশি প্রতিকূলতার ওপর বাজি ধরবে।’

টেস্ট ক্রিকেটে নির্দিষ্ট কোনো ‘ব্র্যান্ড’ বা খেলার ধরন চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষপাতী নন ফ্লেমিং। তার মতে, পরিস্থিতি ও কন্ডিশন অনুযায়ী খেলার সামর্থ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

‘আমি চাই মানুষ বলুক, আমরা ভালোভাবে পরিকল্পনা করি, শৃঙ্খলা মেনে চলি এবং আমাদের একটি শক্ত মৌলিক কাঠামো আছে। তবে এর সঙ্গে কিছুটা সৃজনশীলতাও থাকবে।’

ম্যাককালামের শেষ সময়ের দায়িত্বকাল রাত জেগে মদ্যপান নিয়ে নানা বিতর্কে আলোচিত ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ইংল্যান্ডের পেসার ব্রাইডন কার্সকে ঘিরেও তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। গত মাসে হামলার অভিযোগে কার্সের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। শুক্রবার ডার্বিশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, সেই তদন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এখন ক্রিকেট রেগুলেটরের তদন্তের মুখোমুখি কার্স।

পুলিশি তদন্তে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলেও ইংল্যান্ডের কোনো ফরম্যাটের দলে গত কয়েক মাসে জায়গা পাননি কার্স। তবে নির্বাচনের জন্য তিনি এখনও বিবেচনাযোগ্য।

দলের শৃঙ্খলা নিয়ে ফ্লেমিং স্পষ্ট করে বলেছেন, পারফরম্যান্সের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের আচরণেরও নির্দিষ্ট মানদণ্ড থাকবে।

তার ভাষায়, ‘আমাদের কিছু মানদণ্ড আছে। মূলত রান ও উইকেটের ভিত্তিতেই আমরা খেলোয়াড় বাছাই করব। তবে কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ডও যে থাকা দরকার, সেটা অস্বীকার করা বোকামি।’

‘আপনাকে নিজের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আচরণ করতে হবে। আমরা খুবই সুবিধাপ্রাপ্ত অবস্থানে আছি। সেই সুবিধা এবং এর সঙ্গে আসা দায়িত্বটা বুঝতে হবে। এটা সুবিধামতো করা যাবে না। যখন ভালো আচরণ করতে ইচ্ছে করবে তখন করলাম, আর ইচ্ছে না করলে করলাম না, এমনটা হতে পারে না।’

এদিকে বেন স্টোকসের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েও কথা বলেছেন ফ্লেমিং। জুলাইয়ে হঠাৎ অবসরের ঘোষণা দেওয়া স্টোকসের সঙ্গে আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তার। তবে অবসর ভেঙে ফেরার জন্য স্টোকসকে রাজি করানোর চেষ্টা করবেন না বলে জানিয়েছেন ফ্লেমিং।

‘তার সিদ্ধান্তের প্রতি আমার শতভাগ সম্মান আছে। সে খুব ভালো অবস্থায় আছে, ডারহামের হয়ে সময়টা উপভোগ করছে। পরিবারের সঙ্গে শীতের জন্যও তার ভালো পরিকল্পনা আছে এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে সে শান্তিতে আছে।’

‘একজন খেলোয়াড় যখন অবসরের সিদ্ধান্ত নেয়, আমি সেটাকে শতভাগ সম্মান করি। সেই সিদ্ধান্ত বদলানোর চেষ্টা করা বা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ঠিক নয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে কতটা ভাবতে হয়, আমি জানি।’

শনিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি দেখতে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ছিলেন ফ্লেমিং। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে কয়েকটি কাউন্টি সফর করেন এবং ডারহাম ও উস্টারশায়ারের ম্যাচে স্টোকসের সঙ্গেও দেখা করেন।

ফ্লেমিংয়ের অধীনে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের প্রথম বড় পরীক্ষা ডিসেম্বরের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। তবে তার চোখ যে অ্যাশেজেও, সেটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন নতুন কোচ। ‘ফ্লেমবল’ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে অবশ্য রসিকতা করে সেটিকে ‘একটি চিকিৎসাগত সমস্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬)








পাঠকের মতামত:

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test