E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘বাংলাদেশের ওপর চাপ কতটা, তাদের কোচকে জিজ্ঞেস করুন’

২০২৬ অক্টোবর ২৬ ১৪:৫৪:০৪
‘বাংলাদেশের ওপর চাপ কতটা, তাদের কোচকে জিজ্ঞেস করুন’

স্পোর্টস ডেস্ক : হাসিমুখে কথা বললেও লক্ষ্য পূরণে কোনো ছাড় দিতে রাজি নন ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজকে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চক্রে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে ক্যারিবীয়রা।

বুধবার মিরপুরে শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টের আগে তাই প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চান না তারা।

সিরিজে বাংলাদেশের ওপর চাপ বেশি কি না, এমন প্রশ্নে কৌশলী জবাব দিয়েছেন স্যামি
বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ওপর চাপ কতটা, সেটা তাদের প্রধান কোচকে জিজ্ঞেস করুন।’

সোমবার সংবাদ সম্মেলনে স্যামি জানান, দুই দলের জন্যই সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চক্র শুরু করার সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল। বর্তমান অবস্থান বিবেচনায় সেই লক্ষ্য অর্জনের ভালো সুযোগ দেখছেন তিনি।

‘সবাই টেস্ট ক্রিকেট খেলে জেতার জন্য। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করার সময় আমাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা ছিল, আমরা কোথায় শেষ করতে চাই। আমাদের বর্তমান অবস্থান, প্রতিপক্ষ এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা সেই লক্ষ্য অর্জনের খুব ভালো অবস্থানে রয়েছি,’ বলেন স্যামি।

চলতি বছর টেস্ট ক্রিকেটে প্রত্যাশামতো পারফর্ম করতে না পারলেও বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ দুই ম্যাচে সর্বোচ্চটা দিতে চান ক্যারিবীয় কোচ। তার মতে, এই চক্রে নিজেদের লক্ষ্য পূরণের জন্য হাতে আর খুব বেশি সময় নেই।

‘এটি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আমাদের শেষ সিরিজ। খেলোয়াড়দের প্রতি আমার বার্তা হলো, নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দাও। এই চক্রে আমাদের সামনে আর সর্বোচ্চ ১০ দিনের টেস্ট ক্রিকেট বাকি। তাই মাঠে গিয়ে নিজেদের সবটুকু দিয়ে খেলতে হবে। যা কিছু তোমাদের অনুপ্রাণিত করে, সেটিকে কাজে লাগিয়ে ভালো পারফরম্যান্স করো।’

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স কিংবা দলটির দুর্বলতা নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি স্যামি। প্রতিপক্ষের চেয়ে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নেই বেশি মনোযোগী তারা।

‘বাংলাদেশ কী করছে, তা আমি জানি না। আমি শুধু আমার দলকে নিয়ে ভাবতে পারি। নিজেদের মাঠে বাংলাদেশের কোন কোন জায়গায় আঘাত করা যায় এবং কীভাবে ধারাবাহিকভাবে সেটি করা সম্ভব, তা নিয়ে আমরা আলোচনা করব। আমরা সাধারণত নিজেদের দিকেই বেশি মনোযোগ দিই, আমরা কী করতে পারি, সেটির ওপর,’ বলেন তিনি।

বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানা না থাকাটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য স্বস্তির কি না, এমন প্রশ্নেও সরাসরি কিছু বলেননি ক্যারিবীয়দের সাবেক অধিনায়ক। বরং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাসের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

‘বাংলাদেশের দল এ বছর ভালো খেলেছে। তারা অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে দারুণ করেছে, খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসও উঁচুতে। তাদের খেলোয়াড়েরা ভালো খেলছেন, পারফর্ম করছেন। আমার দলেও এ বছর অনেকে ভালো খেলেছে।’

সাদা বলের ক্রিকেটে ভারতের বিপক্ষে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট দল নিয়েও প্রত্যাশা বেড়েছে। স্যামির দাবি, টেস্টেও দল ভালো অবস্থানে রয়েছে।

‘এ বছর টেস্ট ক্রিকেটে আমরা যেভাবে খেলেছি, তাতে কোনো সিরিজ হারিনি। অনেক দিন পর আমরা এমন একটি বছর পার করছি, যেখানে কোনো সিরিজ হারিনি,’ বলেন তিনি।

বাংলাদেশের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথাও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেছেন স্যামি। খেলোয়াড়ি জীবনে এ দেশে অনেক ভালোবাসা পেয়েছেন বলে জানান তিনি। বাংলাদেশে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সেরা কিছু ম্যাচ খেলার কথাও স্মরণ করেন ক্যারিবীয় কোচ।

‘আমি যখন খেলতাম, তখনও বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যেখানে শুধু আমাকে নয়, আমাদের দলকেও সব সময় ভালোবাসা দেওয়া হয়েছে। সাধারণত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সবার দ্বিতীয় প্রিয় দল। বাংলাদেশে আমার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কয়েকটি ম্যাচ খেলেছি। বাংলাদেশের বিপক্ষে আমাদের দারুণ কিছু সিরিজও হয়েছে।’

স্যামির মতে, দুই দলই এ বছর ভালো ক্রিকেট খেলেছে। তাই সিরিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলেই আশা করছেন তিনি। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ও মোমেন্টাম ধরে রাখাই জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করেন ক্যারিবীয় কোচ।

‘শেষ পর্যন্ত যে দল নিজেদের পক্ষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ও মোমেন্টাম বেশি সময় ধরে রাখতে পারবে, সাধারণত তারাই জিতবে। আমরাও সেই লক্ষ্য নিয়েই এখানে এসেছি।’

প্রস্তুতি ম্যাচের আগে পেটের সমস্যায় ভোগা পেসার শামার জোসেফ এখন সুস্থ বলে জানিয়েছেন স্যামি। নেটে তার জোরে দৌড়ানোর কথা উল্লেখ করে এই পেসারের সামর্থ্যের ওপর আস্থা প্রকাশ করেন তিনি।

‘হ্যাঁ, সে সুস্থ। আজ নেটেও বেশ জোরে দৌড়েছে। শামার সম্পর্কে একটি বিষয় আমি জানি, ম্যাচের ঘণ্টা বাজলে এবং সে নিজেকে খেলার জন্য প্রস্তুত বলে জানালে, প্রতিবারই তার কাছ থেকে ১১০ শতাংশ পাওয়া যাবে।’

এদিকে শাই হোপকে না পাওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন স্যামি। তবে তার মতে, একজনের অনুপস্থিতি অন্য ক্রিকেটারদের সামনে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ তৈরি করে।

‘শাই হোপকে আমরা মিস করব, তবে এটি অন্য কারও সামনে এগিয়ে এসে নিজের নাম প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ।’

জাস্টিন গ্রিভস, জন ক্যাম্পবেল, ব্র্যান্ডন কিং, ওয়ারিকান, শামার জোসেফ ও জেডেন সিলসের মতো ক্রিকেটারদের ওপরও আস্থা রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচের।

সবশেষে স্যামি স্পষ্ট করেছেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছে না তার দল। হাসিমুখে কথা বললেও মাঠের লড়াইয়ে লক্ষ্য পূরণে তারা পুরোপুরি মনোযোগী।

‘আমি হয়তো হাসছি, সব সময়ই হাসিমুখে থাকি। তবে আমরা খুবই সিরিয়াস। বিশেষ করে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এমন একটি অবস্থানে থেকে শেষ করতে চাই, যে লক্ষ্য নিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম। তাই এই দুটি টেস্টকে আমরা খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি।’

(ওএস/এএস/অক্টোবর ২৬, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২৬ অক্টোবর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test