E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

তাইজুলের বোলিং নয়, বাংলাদেশের ব্যাটিংয়েই দোষ দেখছেন শান্ত

২০২৬ নভেম্বর ০১ ১৫:০৮:৩১
তাইজুলের বোলিং নয়, বাংলাদেশের ব্যাটিংয়েই দোষ দেখছেন শান্ত

স্পোর্টস ডেস্ক : ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে ৮ উইকেটের হার দিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ। নিজেদের মাঠে স্পিনবান্ধব উইকেটে প্রতিপক্ষের স্পিন আক্রমণ সামলাতে ব্যর্থ হয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। তবে হারের পর বোলারদের দিকে আঙুল তুলতে নারাজ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার মতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা ভালো বোলিং করলেও বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল আরও বেশি হতাশাজনক। বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুল ইসলামের বোলিংয়ের চেয়ে নিজেদের ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই বড় করে দেখছেন তিনি।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ‘আমি সত্যি বলতে কাউকে ছোট করছি না, তবে আমার মনে হয় ও (তাইজুল) যতটুকু না ভালো বল করেছে, তার চেয়ে আমরা খারাপ ব্যাটিং বেশি করেছি। ওনার প্রতি কোনো অনাদর না দেখিয়েই বলছি, আমার মনে হয় আমরা আরেকটু ভালো হ্যান্ডেল করতে পারতাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাইজুল ভাই বিগত বছরগুলোতে সবসময়ই অনেক ভালো বোলিং করেন, কিন্তু এই ম্যাচটায় হয়তো একটু কম ভালো বোলিং করেছেন বলব। তবে এটা হতেই পারে, কারণ এত তাড়াতাড়ি এত সেরা একজন বোলার যে কিনা এত বছর ধরে পারফর্ম করছে, তাকে বিচার করা উচিত না। আমি বিশ্বাস করি, দ্বিতীয় টেস্টে উনি ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে দুই ইনিংসেই। প্রথম ইনিংসে সাদমান ইসলামের ১০৫ রানের সেঞ্চুরিতে ২৭২ রান করেছিল স্বাগতিকরা। জবাবে নাইম হাসানের চার উইকেটের সুবাদে ২৪৫ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি স্বাগতিকরা। রোস্টন চেজ ও জোমেল ওয়ারিক্যানের স্পিনে মাত্র ১৪২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। নাইম হাসানের ৫২ রানের লড়াকু অর্ধশতক না থাকলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারত। তাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাড়ায় মাত্র ১৭০ রান।

বাংলাদেশের স্পিনারদের সামলাতে প্রতিপক্ষ ব্যাটররা সুইপ, রিভার্স সুইপ কিংবা কাট শটের মতো শট খেলেছেন অবলীলায়।কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটারদের ক্ষেত্রে তা ছিল অনুপস্থিত এমন প্রশ্নে শান্ত স্বীকার করেন, স্পিন উইকেটে এসব শট কার্যকর হতে পারত। তবে ব্যাটাররা উইকেটে থিতু হতে না পারায় পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারেননি। ‘স্পিন উইকেটে অবশ্যই এটা একটা ভালো অপশন। আমার মনে হয়, আমরা নিতে পারতাম, নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ম্যাচের সময় যে যে জায়গায় ব্যাটিং করেছে, একেকজনের পরিকল্পনা একেক রকম থাকে। আর কেউ আসলে ওইভাবে সেটে হতে পারেনি। তাই ওই অপশনটাই তৈরি হয়নি।’ যোগ করেন শান্ত।

বাংলাদেশের অধিনায়কের বিশ্বাস, দলের ব্যাটিং সামর্থ্য অনুযায়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের আরও ভালোভাবে সামলানো সম্ভব ছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো স্পিন ভালো খেলি, কখনো ফাস্ট বোলিং ভালো খেলি। তবে আমার কাছে মনে হয়, আমাদের যে ব্যাটিং আছে, সেই বিবেচনায় ওদের স্পিনারদের আমরা আরেকটু ভালোভাবে সামলাতে পারতাম একটা ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে। দুর্ভাগ্যবশত সেটা করতে পারিনি। তবে আমি এখনো বিশ্বাস করি, স্পিনারদের আরও ভালোভাবে সামলানো সম্ভব ছিল।’

হারের পর দলের প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে সংবাদ সম্মেলনে। টেস্টের আগে দুবাইয়ে ওয়ানডে ফরম্যাটে খেলা, দেশে ফিরে সীমিত সময়ের দলীয় অনুশীলন এবং ব্যাটিং কোচের পরিবর্তন এসব কারণে প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল কি না, জানতে চাওয়া হয় শান্তর কাছে। তবে অধিনায়কের দাবি, প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি ছিল না। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিটি ফরম্যাটের জন্য আলাদাভাবে প্রস্তুত হওয়াই তাদের দায়িত্ব।

ম্যাচের আগে মুশফিকুর রহিমকে না পাওয়া এবং দ্বিতীয় ইনিংসে মুমিনুল হকের অনুপস্থিতিকেও দুর্ভাগ্যজনক হিসেবে দেখছেন শান্ত। মুশফিকের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অভাব অনুভব করেছেন তিনি। তার জায়গায় দলে আসা তাওহিদ হৃদয় প্রথম ইনিংসে ভালো ব্যাটিং করছিলেন বলেও জানান অধিনায়ক। তবে ইনিংস বড় করতে না পারায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের বোলিং নিয়েও সন্তুষ্ট নন শান্ত। ১৭০ রানের লক্ষ্য যে যথেষ্ট ছিল না, তা স্বীকার করলেও তার মতে, বোলাররা আরও ভালো করতে পারতেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, দ্বিতীয় ইনিংসে আমরা ভালো বোলিং করিনি। ১৭০ অবশ্যই কম রান, কিন্তু আমার মনে হয়, তবুও আমরা আরেকটু ভালো বোলিং করতে পারতাম।’

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে নিজের ব্যাটিং ব্যর্থতার দায়ও স্বীকার করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। দীর্ঘদিন ধরে টেস্ট খেলা এবং এই কন্ডিশনে অভিজ্ঞতা থাকার কারণে দলের প্রয়োজনে আরও বড় ইনিংস খেলা উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি। শান্তর ভাষায়, ‘বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে আমাদের ব্যাটিং ভালো হয়নি। একজন সিনিয়র ব্যাটার হিসেবে আমার দায়িত্ব আরও বড় নেওয়া উচিত ছিল। আমি যদি এখান থেকে একটা বড় রান করতে পারতাম, তাহলে হয়তো দলীয় রান ১৭০-এর জায়গায় ২৭০ বা ৩৭০ হতে পারত।’

(ওএস/ এএস/নভেম্বর ০১, ২০২৬)







পাঠকের মতামত:

০১ নভেম্বর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test