E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

বাড়ছে উদ্বেগ, দ্বন্দ্ব সংকটে পোশাক খাত

২০২৬ জানুয়ারি ২৪ ১৩:৫৭:২০
বাড়ছে উদ্বেগ, দ্বন্দ্ব সংকটে পোশাক খাত

স্টাফ রিপোর্টার : সুতার ওপর শুল্ক আরোপ নিয়ে পরস্পরের মুখোমুখি পোশাক খাতের শীর্ষ তিন সংগঠন। অভ্যন্তরীণ এই সংকটের কারণে গ্রাহক বা বায়ারদের কাছে ইমেজ সংকটের ঝুঁকিতে পড়েছে। গত ৫ মাস ধরে বিশ্বের ২৬টি দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের তুলনায় কমেছে। সুতা নিয়ে অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে এ খাতের ইমেজ ক্ষুণ্ন হতে পারে।

নিট পোশাক ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুল্ক অরোপের ফলে পোশাকের দাম বাড়বে ফলে বায়াররা অন্য দেশ থেকে পোশাক অর্ডার করবেন। স্পিনিং মিলকে বাঁচাতে গিয়ে আমদানি সীমিত করলে নিটিং, ডাইং এবং গার্মেন্টস সেক্টর ঝুঁকিতে পড়বে। আর বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, নানা কারণে ইতোমধ্যে ৫০টি কারখানা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বস্ত্রকলগুলোয় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার সুতা অবিক্রীত রয়েছে। বস্ত্র কারখানার স্বার্থে সুতার বন্ড সুবিধা বাতিল প্রয়োজন।

জানা যায়, ভারত থেকে আমদানি কমাতে ১০-৩০ কাউন্টের কটন ও ব্লেন্ডেড সুতা আমদানিতে ২০ শতাংশ সেফগার্ড শুল্ক আরোপ বা বন্ড সুবিধা বাতিলের দাবি করে গত ২৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনে একটি চিঠি দেয় বস্ত্রকলমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। বিটিএমএর চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ট্যারিফ কমিশন ৫ জানুয়ারি সংগঠনটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে। পরদিনই ট্যারিফ কমিশন ১০-৩০ কাউন্ট সুতা আমদানি বন্ড সুবিধার বাইরে রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠায়। এই প্রক্রিয়ার আপত্তি জানিয়ে ৬ জানুয়ারি ট্যারিফ কমিশনকে পৃথক চিঠি দেয় বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)।

সব পক্ষকে নিয়ে ৮ জানুয়ারি সভা করে ট্যারিফ কমিশন। সভায় বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএর নেতারা সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের বিরোধিতা করেন। ফলে সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভা শেষ হয়। গত ১২ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড-সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করে এনবিআরকে। ভারতসহ অন্য দেশ থেকে কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিল করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ নিয়ে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

বিটিএমএ-এর সভাপতি শওকত আজিজ বলেন, পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাদের একাধিকবার আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে। এর আগে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বিটিএমএ, বিজিএমইএ এবং বিকেএমই নেতারা দেশীয় শিল্পের স্বার্থে একমত হয়েছিল যে, যেসব সুতা শতভাগ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা সম্ভব, সেগুলো বন্ড সুবিধার বাইরে আনা যেতে পারে।

বিকেএমইএ-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সুতা আমদানি নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তায় বিদেশি ক্রেতারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এই দোটানার ফলে তারা বাংলাদেশে নতুন অর্ডার দিতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন, যা দেশের পোশাক খাতের দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ড ইমেজকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এই সমস্যার সমাধান করতে হলে আমাদের জানতে হবে স্পিনিং মিলের সুতাগুলো অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে কেন।

তিনি আরও বলেন, পোশাক শিল্পে যত প্রতিযোগী দেশ রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে অসুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। গভীর সমুদ্রবন্দর না থাকায় প্রতিযোগী দেশগুলোর (চীন, ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা) তুলনায় বাংলাদেশের পণ্য পৌঁছাতে ১৫-২০ দিন বেশি সময় লাগে। কারখানা থেকে মালামাল জাহাজে উঠতে এক সপ্তাহ লেগে যায়। এখান থেকে সিঙ্গাপুর যায়, সিঙ্গাপুর ফিডার ভেসেলে গিয়ে ওখান থেকে মাদার ভেসেল ধরতে হয়। দেখা যায় অন্য দেশের তুলনায় আমাদের লিড টাইমটা অন্তত ১৫ থেকে ২০ দিন বেশি লাগে। ভিয়েতনামের একজন শ্রমিক যেখানে ঘণ্টায় ৩২০ পিস উৎপাদন করেন, সেখানে বাংলাদেশের শ্রমিকের উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ পিস। এ ছাড়া গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বেশি। ইন্টারেস্ট রেট বেশি। এত অসুবিধা নিয়ে আমরা যে প্রতিযোগিতায় টিকে আছি, এটাই তো বেশি।

তথ্যসূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

(ওএস/এএস/জানুয়ারি ২৪, ২০২৬)







পাঠকের মতামত:

২৪ জানুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test