E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

ঈদের আগে গভীর রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে চান ব্যবসায়ীরা

২০২৬ এপ্রিল ২২ ১৩:৩৬:১৪
ঈদের আগে গভীর রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে চান ব্যবসায়ীরা

স্টাফ রিপোর্টার : মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে দেশে সৃষ্ট হওয়া জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এপ্রিলের শুরুতে প্রথমে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তা বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত করা হয়। তবে এর প্রভাবে বৈশাখের বেচাকেনায় ব্যাপক ধস নামে। সে অভিজ্ঞতা থেকে কোরবানি ঈদের আগে আগে দুপুরে খুলে গভীর রাত পর্যন্ত দোকানপাট খুলে রাখতে চান ব্যবসায়ীরা।

দোকান মালিক সমিতির দাবি অনুযায়ী, এবার বৈশাখে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পণ্য অবিক্রিত রয়ে গেছে। বৈশাখে এবার ২০ হাজার কোটি টাকার পণ্য বিক্রির লক্ষ্য থাকলেও বেচাকেনা হয়েছে মাত্র ৭ হাজার কোটি টাকার। বিক্রিতাদের দাবি, সরকারের এই সিদ্ধান্তে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বেচাকেনা অন্তত ৫০ শতাংশ কমে গেছে।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীরা এখনো দোকান বন্ধের সময় রাত ৯টা কিংবা ১০টা পর্যন্ত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। আর কোরবানির ঈদের আগের এক মাসের প্রথম ১৫ দিনে রাত ১০টা পর্যন্ত ও ঈদের আগের ১৫ দিন গভীর রাত অর্থাৎ ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ বলছেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মতো বাংলাদেশেও দুপুরে দোকান খুলে রাত ১০ থেকে ১২টা পর্যন্ত দোকান খোলার প্রথা চালু করা উচিত। দেশের সর্বস্তরের ব্যবসায়ীরা বলছেন, দুপুরে দোকান খুলে রাত পর্যন্ত তারা ব্যবসা করতে চান। কারণ সন্ধ্যার পরেই ক্রেতারা মার্কেটে আসেন।

বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান টিপু বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরেই দাবি করে আসছি রাত ৯টা কিংবা ১০টা পর্যন্ত যাতে দোকাপাট খোলা রাখা যায়। কিন্তু জ্বালানির বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার এখনো বিষয়টি বিবেচনায় নেয়নি। এবার বৈশাখে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। সন্ধ্যায় দোকানপাট বন্ধ করার কারণে এবার বেচাকেনা অন্তত ৫০ শতাংশ কমেছে। আমরা এবার ২০ হাজার কোটি টাকার বেচাকেনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম, কিন্তু বিক্রি হয়েছে মাত্র ৭ হাজার কোটি টাকার, অবিক্রিত রয়ে গেছে ১৩ হাজার কোটি টাকার পণ্য।’

দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কোরবানির ঈদের আগে অন্তত এক মাস আমাদের দোকান খোলার সময় বাড়াতে হবে। শুরুতে ১৫ দিন রাত ১০টা পর্যন্ত এবং পরবর্তী ১৫ দিন নন-স্টপভাবে রাত ১২টা-১টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ দিতে হবে। তা না হলে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে। সময় বাড়ানো গেলে আমরা হয়তো কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবো, নইলে ব্যবসার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যাবে।’

জানতে চাইলে ফ্যাশন হাউজ ‘সাদাকালো’র অন্যতম উদ্যোক্তা ও ফ্যাশন এন্টারপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এফইএবি) সভাপতি আজহারুল হক আজাদ বলেন, ‘সন্ধ্যায় সরকারের দোকান বন্ধের সিদ্ধান্তের পর থেকেই আমরা তা পুনর্বিবেচনার জন্য দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া পাইনি।’

তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যায় দোকানপাট বন্ধ হওয়ায় এবার বৈশাখের বেচাকেনায় ধস নেমেছ। আমাদের উৎপাদিত অনেক পণ্য অবিক্রিত রয়ে গেছে। এতে আমরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছি। কোরবানির ঈদের আগে সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত। রাত ৯টা কিংবা ১০টা পর্যন্ত আমাদের দোকানপাট খোলা রাখতে দেওয়া উচিত।’

পোশাক ব্র্যান্ড বিশ্বরঙ-এর কর্ণধার বিপ্লব সাহা বলেন, ‘সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর আমি নিজেই আমার কোনো শোরুমে যেতে পারছি না। কারণ কোনো কাজে বের হলে তা শেষ করে এসে মার্কেটে যাওয়ার আর সময় থাকে। তার আগেই মার্কেট বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের টিকে থাকার জন্য, ব্যবসা চালিয়ে নেওয়ার জন্য, আমরা এখনো দোকান খোলা রাখার সময় বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।’

(ওএস/এএস/এপ্রিল ২২, ২০২৬)






















পাঠকের মতামত:

২২ এপ্রিল ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test