E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

দেশের রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ালো ৩৫.৬১ বিলিয়ন ডলার

২০২৬ মে ০৯ ১৪:৫৭:২৫
দেশের রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ালো ৩৫.৬১ বিলিয়ন ডলার

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ বেড়ে এখন ৩৫ দশমিক ৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই রিজার্ভের মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রায় গঠিত বিভিন্ন তহবিলও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার।

শুক্রবার (৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় স্থিতিশীল থাকা এবং আমদানি ব্যয়ে নিয়ন্ত্রণ আসার কারণে রিজার্ভ পরিস্থিতির এই উন্নতি হয়েছে। এর ফলে বৈদেশিক লেনদেনের ওপর চাপ কমছে এবং ডলারের বাজারেও ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে রিজার্ভ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে প্রবাসী আয়। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

একইসঙ্গে দেশের তৈরি পোশাক খাতের রফতানি প্রবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক ঋণ ও উন্নয়ন সহযোগিতার অর্থ ছাড় পাওয়ার কারণে রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসপণ্যের আমদানি কমে যাওয়ায় ডলারের ওপর চাপ আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বাজারে অতিরিক্ত ডলার বিক্রি করতে হচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, রিজার্ভ বাড়ার অর্থ হলো দেশের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হওয়া। বর্তমানে যে পরিমাণ রিজার্ভ রয়েছে, তা দিয়ে আগামী পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় অনায়াসে নির্বাহ করা সম্ভব। রিজার্ভ শক্তিশালী থাকলে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থা ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছায়। এতে বৈদেশিক লেনদেনে আস্থা বাড়ে এবং দেশের ক্রেডিট সক্ষমতাও উন্নত হয়।

এ ছাড়া রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতির ফলে ডলারের বাজারে অস্থিরতা কমবে, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।

গ্রস ও বিপিএম-৬ রিজার্ভের পার্থক্য
গ্রস রিজার্ভ হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট বৈদেশিক মুদ্রা ও সম্পদের হিসাব, যেখানে বিভিন্ন তহবিল ও দায় অন্তর্ভুক্ত থাকে। অন্যদিকে বিপিএম-৬ হচ্ছে আইএমএফের মানদণ্ড অনুযায়ী প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ। আন্তর্জাতিকভাবে বিপিএম-৬ হিসাবকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই হিসাবে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোকে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি বড় ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০২১ সালে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়েছিল। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, উচ্চ আমদানি ব্যয় এবং ডলারের অস্বাভাবিক চাহিদার কারণে পরবর্তী সময়ে রিজার্ভ দ্রুত কমতে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানি নিয়ন্ত্রণ, বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়ানো এবং বৈদেশিক ঋণ সহায়তা নিশ্চিত করার নানা উদ্যোগ নেয়। সাম্প্রতিক সময়ে সেই পদক্ষেপগুলোর ইতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান হচ্ছে।

(ওএস/এএস/মে ০৯, ২০২৬)













পাঠকের মতামত:

০৯ মে ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test