E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

ক্রেতা না থাকায় নদীর পাড়ে ফেলা হচ্ছে কোরবানির পশুর চামড়া  

২০২৬ মে ৩০ ১৪:৪৮:১৩
ক্রেতা না থাকায় নদীর পাড়ে ফেলা হচ্ছে কোরবানির পশুর চামড়া  

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানিকৃত পশুর চামড়া বিক্রি না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগরের সাধারণ মানুষ ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। কোনোভাবেই বিক্রি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলছেন, নদীতে ফেলে দিচ্ছে ও নদী পাড়ে ফেলে দিচ্ছে অনেকেই।

শুক্রবার (২৯ মে) সকাল ১০টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এমন চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন থেকে আসা চামড়া বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের নীলডুমুর বাজারে ডাকবাংলোর সামনে খোলপেটুয়া নদীর পাড়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।

ঈদের দিন সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এতিমখানা-মাদরাসার লোকজন। কিন্তু দিনভর ঘুরেও আশানুরূপ ক্রেতা না পাওয়ায় অধিকাংশ চামড়া অবিক্রিত থেকে যায়। ছাগল, খাসি, গরুর চামড়ার কোনো ক্রেতা না থাকায় অনেকেই তা ফেলে দেন কিংবা মাটিতে পুঁতে ফেলেন।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার চামড়ার বাজার আরও খারাপ। আড়তদাররা কম দামে চামড়া কিনতে চাইলেও পরিবহন খরচ ও লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা লোকসানের আশঙ্কায় চামড়া কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে সাধারণ মানুষ চরম হতাশায় পড়েছেন।

বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট জামে মসজিদের ইমাম ও বাগে জান্নাত হাফিজিয়া মাদ্রাসার খতিব হাফেজ রেজাউল করিম বলেন, সারাদিন ও সারারাত অপেক্ষা করেও কেউ চামড়া নিতে আসেনি। পরে দুর্গন্ধ ছড়ানোর ভয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হচ্ছে । গাবুরা চাঁদনীমূখা মাদ্রাসার সভাপতি মো. আবু ও একই অভিযোগ করেন।

স্থানীয় মাদরাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ জানান, প্রতিবছর কোরবানির চামড়া বিক্রির অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের খরচের একটি অংশ চালানো হয়। কিন্তু এবার চামড়ার দাম না থাকায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

এদিকে সরকার কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করলেও মাঠপর্যায়ে তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত আড়ত না থাকায় চামড়ার বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান কনক বলেন, কোরবানির আগে এতিমখানার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছিল তারা চামড়াগুলো সংরক্ষণ করে রাখবেন। পরবর্তীতে দুই এক দিন পরে বিক্রি করার কথা। কিন্তু এভাবে নষ্ট করার কথা ছিল না। বিষয়টা তিনি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন।

(আরকে/এসপি/মে ৩০, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

৩০ মে ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test