E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care

For Advertisement

Mobile Version

নতুন বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব’ বললেন প্রধানমন্ত্রী

২০২৬ জুন ২৯ ১৩:৪৭:০১
নতুন বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব’ বললেন প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

তিনি বলেন, এই বাজেট শুধু বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর রূপরেখা।

আমাদের লক্ষ্য মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের কবল থেকে অর্থনীতিকে মুক্ত করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি সংসদ শুরু হওয়ার পর আমরা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ এখানে এসেছি।
আমরা অতীত নিয়ে আলোচনার চেয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে চাই। দেশের ২০ কোটি মানুষ চায় আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেট উপস্থাপনের দিনই ৬১টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক ও কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। অতীতে দেখা যেত বাজেটের আগে-পরে জিনিসের দাম বেড়ে যেত, কিন্তু আল্লাহর রহমতে এবার তেমন কিছু ঘটেনি। আমরা জনগণকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে পেরেছি।

তারেক রহমান বলেন, আমরা একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রা শুরু করেছি। দুর্নীতি, লুটপাট এবং তথাকথিত ভ্যানিটি প্রজেক্টের কারণে অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে গিয়েছিল। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে ঠেকেছিল। তবে আমরা এই সংকটকে অজুহাত বানাতে চাই না, বরং রাজনৈতিক সদিচ্ছা দিয়ে এটি মোকাবিলা করতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক চীন ও মালয়েশিয়া সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও আমাদের বিনিয়োগমুখী নীতির প্রশংসা করেছে। আমাদের তৃতীয় এবং সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ, উৎপাদন এবং কর্মসংস্থানের চাকা বেগবান করা। এ লক্ষ্যে উন্নয়ন ব্যয় ৫০ শতাংশেরও বেশি বাড়িয়ে ৩ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের অর্থনৈতিক কৌশল তিনটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা। রাজস্ব সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন ও রপ্তানি বহুমুখীকরণ। উদ্ভাবন নির্ভর প্রতিযোগিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লেই উন্নয়ন হয় না। উন্নয়ন তখনই হয় যখন সাধারণ মানুষের ঘরে স্বস্তি আসে, যখন কৃষক তার পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায় এবং তরুণরা যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পায়। আমরা একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এই বাজেট প্রণয়ন করেছি।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য নয় লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত এই বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

(ওএস/এএস/জুন ২৯, ২০২৬)





পাঠকের মতামত:

২৯ জুন ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test