E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

ট্রেজারি বিল-বন্ডে ব্যক্তি বিনিয়োগ কমেছে

২০২৬ আগস্ট ০৯ ১৩:৫২:৪৬
ট্রেজারি বিল-বন্ডে ব্যক্তি বিনিয়োগ কমেছে

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে ব্যক্তিপর্যায়ের বিনিয়োগ কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে এ খাতে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪৫০ কোটি টাকা কম। গত তিন বছরের মধ্যে এবারই প্রথম ব্যক্তি বিনিয়োগ কমলো।

তবে ব্যক্তি বিনিয়োগ কমলেও ব্যাংক, বিমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ায় সরকারি সিকিউরিটিজে মোট বিনিয়োগ বেড়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা। আগের অর্থবছর শেষে এর পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে সরকারি সিকিউরিটিজে মোট বিনিয়োগ বেড়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৩ সালের জুনে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে ব্যক্তিপর্যায়ের বিনিয়োগ ছিল ১ হাজার ১০২ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের জুনে তা বেড়ে ৩ হাজার ৯৭৪ কোটি এবং ২০২৫ সালের জুনে ৭ হাজার ৯১৯ কোটি টাকায় ওঠে। এরপর ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে তা কিছুটা কমে যায়।

ব্যাংকাররা জানান, ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ স্বল্পমেয়াদি ট্রেজারি বিলেই আগ্রহী। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ঋণের সুদহার নির্ধারণে স্মার্ট পদ্ধতি চালুর পর বাজারে সুদহার বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার ১২ শতাংশের ওপরে উঠে যায়। এতে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বাড়ে।

তবে পরবর্তীতে সুদহার কমতে শুরু করায় ব্যক্তি পর্যায়ে সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের আকর্ষণও কিছুটা কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯১ দিনের ট্রেজারি বিলের সুদহার ছিল প্রায় ১০ দশমিক ৫২ শতাংশ।

ব্যাংকারদের মতে, সরকারি বিল-বন্ড সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা তুলনামূলক কম। ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে এখনো ব্যাংকের আমানতকেই বেশি গুরুত্ব দেন অধিকাংশ ব্যক্তি বিনিয়োগকারী।

বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কম রয়েছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত টানা চার মাস ঋণপ্রবৃদ্ধি ছিল ৫ শতাংশের নিচে।

ব্যাংকাররা বলছেন, ঋণের চাহিদা কম থাকায় ব্যাংকের হাতে থাকা অতিরিক্ত অর্থের একটি বড় অংশ ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। তুলনামূলক নিরাপদ এবং নির্ধারিত রিটার্ন পাওয়ার সুযোগ থাকায় এ খাত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

(ওএস/এএস/আগস্ট ০৯, ২০২৬)



পাঠকের মতামত:

০৯ আগস্ট ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test