E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশের উদ্যোগ

২০২৬ আগস্ট ১০ ১৪:০৪:২৬
নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশের উদ্যোগ

স্টাফ রিপোর্টার : নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে কৃষি-প্রযুক্তি, দুগ্ধশিল্প, সবুজ জ্বালানিসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিউজিল্যান্ড ট্রেড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব খাতে যৌথ বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক সংযোগ এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।

সভায় নিউজিল্যান্ড ট্রেড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজের মার্কেট ম্যানেজার (দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া) র‍্যাচেল ম্যাকগাকিয়ানের সঙ্গে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখানে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান।

প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন যুগ্মসচিব (এফটিএ) মো. ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ ও উপসচিব (এফটিএ) ফারহানা ইসলাম।

সোমবার (১০ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ড থেকে বাংলাদেশের আমদানিতে দুগ্ধজাত পণ্য ও ধাতব পণ্যের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ১৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার বড় অংশ তৈরি পোশাকনির্ভর।

বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের অ-পোশাক রপ্তানি খাত সম্প্রসারণে নিউজিল্যান্ড ট্রেড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজের সহযোগিতা কামনা করা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, টেকসই বস্ত্র এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নিউজিল্যান্ডের বাজারে নতুন সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের সক্ষমতা তুলে ধরে বৈঠকে জানানো হয়, দেশের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিভিন্ন সনদ ও উৎপাদন ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। ফলে নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্য খাতে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন জেনেরিক ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহের সুযোগ রয়েছে।

এছাড়া দেশের ৬ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীর দক্ষ জনশক্তির কথা তুলে ধরে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সফটওয়্যার, ফিনটেক ও ডিজিটাল সেবা খাতে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়।

দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিশেষায়িত পুষ্টিপণ্য, কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস, কৃষি-প্রযুক্তি, উন্নত উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি খাতে নিউজিল্যান্ডের বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিভিন্ন বিনিয়োগ সুবিধা রয়েছে। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগের পাশাপাশি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তর বাজারেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারে।

দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে বাস্তব রূপ দিতে তিনটি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রস্তাব করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—NZTE-এর দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া দলের সঙ্গে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন, বাংলাদেশি ফার্মাসিউটিক্যাল, আইটি ও চামড়া খাতের রপ্তানিকারকদের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের ব্যবসায়িক ক্রেতাদের ভার্চুয়াল B2B বৈঠকের আয়োজন এবং নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও কার্যকর করা।

এছাড়া উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসায়িক পরিষদ প্রতিষ্ঠা এবং বাণিজ্য মেলা আয়োজন ও অংশগ্রহণের বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়।

বৈঠকে উভয় দেশের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাংলাদেশের বৃহৎ বাজার ও উৎপাদন সক্ষমতার সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উচ্চমূল্যের রপ্তানি সক্ষমতার সমন্বয় দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হয়।

(ওএস/এএস/আগস্ট ১০, ২০২৬)




পাঠকের মতামত:

১০ আগস্ট ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test