E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

আরসিইপিতে যোগ দিতে অস্ট্রেলিয়ার সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ

২০২৬ আগস্ট ১৪ ১২:৩৭:৩৮
আরসিইপিতে যোগ দিতে অস্ট্রেলিয়ার সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ

স্টাফ রিপোর্টার : বাণিজ্য ও শিল্প সহযোগিতা আরো জোরদারের পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্য জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিতে অতিরিক্ত সময় পেতে অস্ট্রেলিয়ার সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য দপ্তর (ডিএফএটি) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত দুটি পৃথক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।

অস্ট্রেলিয়ার ডিএফএটির ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রবি কেওয়ালরাম এবং সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়া ডিভিশনের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি সারা স্টোরির সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)-এ যোগদান, এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা ও সমর্থন চাওয়া হয়।

আরসিইপিতে অস্ট্রেলিয়ার সমর্থন চায় বাংলাদেশ
বৈঠকে আরসিইপিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ জানায়, ১৭ কোটি মানুষের বাজার নিয়ে আরসিইপিতে যোগদান দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে পূর্ব এশিয়া ও আসিয়ান অঞ্চলের অর্থনৈতিক সংযোগ আরো শক্তিশালী করতে পারে।

আরসিইপিতে যোগদানের জন্য বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক অ্যাকসেশন প্রশ্নমালা জমা দিয়েছে। একই সঙ্গে মেধাস্বত্ব, প্রতিযোগিতা এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষাসহ বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা আরসিইপির উচ্চমানের বাণিজ্য কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার কাজ চলছে।

আরসিইপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকার কথা তুলে ধরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ প্রক্রিয়ায় দেশটির সক্রিয় সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করা হয়।

এলডিসি উত্তরণে বাড়তি সময়ের আবেদন
বৈঠকে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যস্ফীতি, বাণিজ্য বিঘ্ন এবং সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশ ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সুপারিশ করেছে। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের আবেদনের প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সমর্থন কামনা করা হয়।

একই সঙ্গে এলডিসি উত্তরণের পরও বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজারসুবিধা অব্যাহত রাখায় অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ জানায় বাংলাদেশ।

এফটিএর প্রস্তাব বাংলাদেশের
দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরোও গভীর করতে একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের প্রস্তাবও দিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের প্রস্তাবের বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

এফটিএ হলে দুই দেশের পণ্য ও সেবার বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

পোশাক, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা
বাণিজ্য সম্পর্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন নতুন শিল্প খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখে দুই পক্ষ।

অস্ট্রেলিয়ার উন্নতমানের পশম ও তুলা ব্যবহার করে বাংলাদেশ উচ্চমূল্যের পোশাকপণ্য উৎপাদন করতে পারে বলে বৈঠকে মত দেওয়া হয়। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে অস্ট্রেলিয়ার প্রিমিয়াম প্রাকৃতিক তন্তুর সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারকারী হিসেবেও তুলে ধরা হয়।

এছাড়া, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ গ্রিড আধুনিকীকরণ এবং কর্মশক্তি উন্নয়নেও সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। অস্ট্রেলিয়ার টিভিইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে।

বাণিজ্য আলোচনায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অস্ট্রেলিয়ার সহায়তা এবং ‘বিল্যাটারেল ট্রেড নেগোশিয়েশনস’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে আরসিইপি অ্যাকসেশন প্রক্রিয়া, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পারস্পরিক সমন্বয় এবং ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক অ্যারেঞ্জমেন্ট (টিফা)-এর অধীনে কার্যকরী গ্রুপের মাধ্যমে নিয়মিত সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা আরো বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে আরসিইপিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে বাজারসুবিধা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

(ওএস/এএস/আগস্ট ১৪, ২০২৬)








পাঠকের মতামত:

১৪ আগস্ট ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test