E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

পোশাক খাতে কম সুদের অর্থায়ন চান উদ্যোক্তারা

২০২৬ আগস্ট ১৭ ১৪:২৭:৫৩
পোশাক খাতে কম সুদের অর্থায়ন চান উদ্যোক্তারা

স্টাফ রিপোর্টার : তৈরি পোশাক খাতকে পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানিসাশ্রয়ী করতে আন্তর্জাতিক তহবিলের কম সুদের অর্থায়ন সহজ শর্তে উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

তারা বলেন, আন্তর্জাতিক তহবিল থেকে কম সুদে অর্থায়নের সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশে সেই অর্থ পেতে উদ্যোক্তাদের উচ্চ সুদ, বড় অঙ্কের জামানত, প্রশাসনিক জটিলতা ও নানা কঠিন শর্তের মুখে পড়তে হচ্ছে।

ফলে সবুজ রূপান্তরের প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের সক্ষমতা না থাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) কারখানাগুলো এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

রবিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক ইন-এ ‘পোশাক খাতে শিল্প কার্বন নিঃসরণ হ্রাসকরণ বিষয়ক আলোচনা: কীভাবে এটিকে এগিয়ে নেওয়া যায়?’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ আন্তর্জাতিক তহবিলের স্থানীয় অর্থায়ন ব্যবস্থার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) থেকে আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী কম সুদে অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে।

তবে বাংলাদেশে এ তহবিলের অর্থায়নকারী অন্যতম প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) উদ্যোক্তাদের ৫ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে সুদে অর্থায়ন করতে চায় না। এর পাশাপাশি ঋণ নিতে ৮০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত জামানত দাবি করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১৪-১৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে কারখানাকে সবুজ প্রযুক্তিতে রূপান্তর করতে গেলেও উদ্যোক্তাদের নানা প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পোশাক খাতের বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিজেদের সক্ষমতায় সবুজ রূপান্তরে এগিয়ে গেলেও অধিকাংশ মাঝারি ও ছোট কারখানার পক্ষে এ ধরনের বিপুল বিনিয়োগ করা কঠিন।

ডলারের বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রেও মুদ্রার অবমূল্যায়নজনিত বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রতিযোগী দেশগুলোর উদাহরণ তুলে ধরে মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও ভারত বিভিন্নভাবে শিল্প খাতে সরকারি সহায়তা দিচ্ছে। ভারতের কিছু অঞ্চলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে জ্বালানি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সহসভাপতি ব্যারিস্টার বিদ্যা আমিন বলেন, চড়া সুদ, কঠিন শর্ত এবং যথাযথ নীতিগত সহায়তার অভাবে পোশাক খাতের পরিবেশবান্ধব রূপান্তর বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক তহবিলের প্রকৃত সুবিধা তৃণমূল পর্যায়ের এসএমই কারখানাগুলোতে পৌঁছাচ্ছে না।

তিনি বলেন, স্থানীয় বাজারে জ্বালানিসংকট এবং পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গাজীপুরের মতো শিল্পাঞ্চলে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া ও শ্রমিকদের কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বিদ্যা আমিন আরও বলেন, আইএফসি বা এডিবির মতো আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থার বিভিন্ন শর্ত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে। বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান তুলনামূলকভাবে কম হলেও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাপে দেশের পোশাক কারখানাগুলোকে সবুজ প্রযুক্তিতে রূপান্তর করতে হচ্ছে। তাই শুধু শর্ত আরোপ না করে রূপান্তরের আর্থিক ব্যয় বহনে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোকেও যৌথ দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি জানান, বিজিএমইএ নিজস্ব উদ্যোগে সাশ্রয়ী মূল্যে ৩ হাজার ৩০০টি জ্বালানিসাশ্রয়ী ফ্যান বিতরণ করেছে। পাশাপাশি ইডকল ও দেশীয় স্টার্টআপগুলোর সঙ্গে সৌরবিদ্যুতে রূপান্তরের প্রক্রিয়া সহজ করতে কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর পরিচালিত একটি জরিপের তথ্য তুলে ধরেন সিপিডির প্রোগ্রাম সহযোগী সামি মোহাম্মদ। গবেষণায় বলা হয়, কারখানায় জ্বালানিসাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি স্থাপন করা গেলে গড়ে ১০ দশমিক ১৭ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব। এর পরিমাণ বছরে প্রায় ২৫ হাজার ৩৩০ মেগাওয়াট ঘণ্টা।

তবে সেলাই ও কাটিংয়ের কিছু অপরিহার্য যন্ত্রপাতির বিকল্প না থাকায় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।

জরিপে আরও দেখা যায়, কারখানার আকারভেদে জ্বালানি সাশ্রয়ের সম্ভাবনায় বড় পার্থক্য রয়েছে। প্রাথমিক বিনিয়োগের অভাবে পিছিয়ে থাকা ছোট কারখানাগুলোতে দক্ষ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত শক্তি সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে। বড় কারখানার ক্ষেত্রে এ সম্ভাবনা প্রায় ৯ শতাংশ।

সিপিডির হিসাব অনুযায়ী, পুরো পোশাক খাতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে। এর প্রায় ৭০ শতাংশ বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে বড় কারখানাগুলোতে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে তৈরি পোশাক খাত, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তারা বক্তব্য দেন।

(ওএস/এএস/আগস্ট ১৭, ২০২৬)











পাঠকের মতামত:

১৭ আগস্ট ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test