E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

জুনে এমএফএসের মাধ্যমে প্রবাসী আয় কমেছে

২০২৬ আগস্ট ২৩ ১৬:০৫:৪০
জুনে এমএফএসের মাধ্যমে প্রবাসী আয় কমেছে

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) বা মোবাইল আর্থিক সেবার ব্যবহার বাড়লেও জুন মাসে এ মাধ্যমে লেনদেন ও প্রবাসী আয়— দুটিই কমেছে। একই সঙ্গে এমএফএস হিসাবগুলোতে থাকা ই-মানির স্থিতিও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। তবে এ সময়ে মোট এমএফএস হিসাবের সংখ্যা সামান্য বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে এমএফএসের মাধ্যমে দেশে ২ হাজার ২২৯ কোটি টাকার প্রবাসী আয় এসেছে। মে মাসে এটি ছিল ২ হাজার ৮১৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে এমএফএসে আসা রেমিট্যান্স কমেছে ৫৮৯ কোটি টাকা বা প্রায় ২১ শতাংশ।

জুনে গ্রাম ও শহর— দুই এলাকাতেই এমএফএসের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে। ওই মাসে গ্রামীণ এলাকায় এ মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ২৪০ কোটি টাকা। মে মাসে যার পরিমাণ ছিল এক হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা। এ হিসাবে গ্রামীণ এলাকায় রেমিট্যান্স কমেছে ৩২৬ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, জুনে শহরাঞ্চলে এমএফএসের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৯৮৮ কোটি টাকা। মে মাসে এটি ছিল এক হাজার ২৫২ কোটি টাকা। অর্থাৎ শহরাঞ্চলে প্রবাসী আয় কমেছে ২৬৪ কোটি টাকা।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, জুনে এমএফএসের মাধ্যমে রেমিট্যান্স কমার পেছনে মৌসুমি প্রভাব থাকতে পারে। চলতি বছর মে মাসে ঈদুল আজহা হওয়ায় ঈদকেন্দ্রিক বাড়তি রেমিট্যান্সের পরের মাসে স্বাভাবিকভাবেই প্রবাহ কিছুটা কমেছে। সাধারণত ঈদ সামনে রেখে প্রবাসীরা পরিবারের সদস্যদের কাছে তুলনামূলক বেশি অর্থ পাঠিয়ে থাকেন।

শুধু এমএফএস নয়, জুনে দেশের সামগ্রিক রেমিট্যান্স প্রবাহও কমেছে। ওই মাসে দেশে ২৮২ কোটি ডলারের বেশি প্রবাসী আয় এসেছে, যা মে মাসের ৩৪৪ কোটি ডলারের তুলনায় ১৮ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ কম।

এমএফএস হিসাবগুলোতে থাকা ই-মানির পরিমাণও জুনে বড় ধরনের পতন হয়েছে। জুন শেষে ই-মানির স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। মে মাসে এ স্থিতি ছিল ২৪ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা।

সে হিসাবে এক মাসে এমএফএসে থাকা ই-মানির স্থিতি কমেছে ৪ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা।

জুনে এমএফএসের মাধ্যমে মোট লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ওই মাসে এমএফএসের মাধ্যমে মোট ২ লাখ ৮ হাজার ৮১১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। মে মাসে এ লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা।

অর্থাৎ এক মাসে এমএফএস লেনদেন কমেছে ৩৮ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা বা ১৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

লেনদেন ও ই-মানির স্থিতি কমলেও জুনে এমএফএস হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে। মে শেষে দেশে এমএফএস হিসাব ছিল ২৫ কোটি ৫৭ লাখ ৬১ হাজার ৫৭টি। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৬৬ হাজার ৫১৭টিতে।

এক মাসে হিসাব বেড়েছে ১২ লাখ ৫ হাজার ৪৬০টি, যা শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রামীণ ও ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এমএফএস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। লেনদেন ও রেমিট্যান্সের পরিমাণ সাময়িক কমলেও হিসাবের সংখ্যা বাড়তে থাকায় দেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবার পরিধি যে সম্প্রসারিত হচ্ছে, তা বোঝা যায়।

বিশেষ করে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দ্রুত পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে এমএফএস গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তাই কোনো এক মাসে এ মাধ্যমে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার বিষয়টি সামগ্রিক রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক চ্যানেলের ব্যবহারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

(ওএস/এএস/আগস্ট ২৩, ২০২৬)


পাঠকের মতামত:

২৩ আগস্ট ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test