E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

ইতিবাচক ধারায় পোশাক রপ্তানি : প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি

২০২৬ অক্টোবর ০২ ০০:৪০:১২
ইতিবাচক ধারায় পোশাক রপ্তানি : প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি

স্টাফ রিপোর্টার : বৈশ্বিক নানা প্রতিকূলতা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পোশাক রপ্তানি আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই তিন মাসে পোশাক খাতের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশে। উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্টরা বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক বলে মনে করছেন।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে মোট আয় হয়েছে ১ হাজার ৫৭ কোটি ৮৫ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার (যা প্রায় ১০.৫৮ বিলিয়ন ডলার)। আগের অর্থবছরের ঠিক একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৯৯৭ কোটি ৪ লাখ ২০ হাজার ডলার বা ৯ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এক বছরের ব্যবধানে এই খাতের রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আলোচ্য সময়ে পোশাক খাতের দুই প্রধান উপখাত নিটওয়্যার এবং ওভেন, উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

এর মধ্যে নিটওয়্যার পোশাক রপ্তানি ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি, ওভেন পোশাক রপ্তানি ৫ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

রপ্তানি আয়ের মাসভিত্তিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৩৮৮ কোটি ৬৭ লাখ ২০ হাজার ডলার। এরপর আগস্টে কিছুটা কমে ৩৬০ কোটি ৮৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং সর্বশেষ সেপ্টেম্বরে ৩০৮ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার ডলারে দাঁড়ায়।

একক মাস হিসাবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে আগের বছরের তুলনায় ১.৯২ শতাংশ কমেছে। দ্বিতীয় মাস আগস্টে ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়েছে এবং তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ জোরালো প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা সামগ্রিক চিত্রকে বদলে দিয়েছে।

দেশের পোশাক খাতের এই ইতিবাচক ধারা এবং চলমান সংকটের মধ্যেও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখাকে অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক হিসেবে দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক এবং বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েজের সিইও মহিউদ্দিন রুবেল বাংলানিউজকে বলেন, ‘মাসিক হিসাবে প্রবৃদ্ধির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হলেও, সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির ধারা টিকিয়ে রাখতে এটিকে নিয়মিত মেইনটেইন করে যেতে হবে। জ্বালানি সংকটসহ অতীতে যে ধরনের তীব্র চ্যালেঞ্জ বা জ্বালানির সংকট ছিল, তা এখন আর নেই; ফলে অন্যান্য সহযোগিতাগুলোকে কাজে লাগিয়ে প্রবৃদ্ধি আরও এগিয়ে নেওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বার্ষিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। শুধু সংখ্যাগত বা অংকের হিসেবে প্রবৃদ্ধি বাড়লেই হবে না, উৎপাদন খরচ ও অন্যান্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা আসছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। কারণ, প্রকৃত প্রবৃদ্ধি তখনই সম্ভব যখন তা টেকসই মুনাফা অর্জনের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায়।’

তৈরি পোশাক শিল্পের অপর খাত নিট তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সিনিয়র সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জানান, আগস্টে সম্পূর্ণ মাস জ্বালানি সংকটে থাকলেও সেপ্টেম্বরের এই রপ্তানির প্রবৃদ্ধি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। বেশিরভাগ কারখানা সংকটে থাকার পরেও নিশ্চয় কেউ কেউ নিজ দক্ষতায় অতিরিক্ত রপ্তানি করার কারণেই এই প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে ধারণা করা যায়।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা ধরে রাখতে এবং তৈরি পোশাক খাতের এই ধারাবাহিক অগ্রগতি বজায় রাখতে হলে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পণ্যের বহুমুখীকরণ ও গুণগত মান বজায় রাখার ওপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে। যথাযথ নীতিসহায়তা এবং উদ্যোক্তাদের দক্ষতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পোশাক খাত ভবিষ্যতে আরও বড় মাইলফলক স্পর্শ করতে সক্ষম হবে।

(ওএস/এএস/অক্টোবর ০২, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০২ অক্টোবর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test