E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

খেজুরের শুল্ক কমানোর ঘোষণা আসতে পারে এ সপ্তাহে

২০২৬ অক্টোবর ০৩ ১৪:০৬:৫৭
খেজুরের শুল্ক কমানোর ঘোষণা আসতে পারে এ সপ্তাহে

স্টাফ রিপোর্টার : বাজারে মাল্টা, খেজুরসহ আমদানিনির্ভর ফলের সরবরাহ বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমদানিকারকদের দ্রুত ঋণপত্র (এলসি) খুলে আমদানি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে খেজুর আমদানিতে শুল্ক-কর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চলতি সপ্তাহেই জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত ও বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, খেজুরের শুল্কের বিষয়ে চলতি সপ্তাহেই সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

খেজুরের অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বা শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণের দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করবে।

বৈঠকে দেশে আমদানি হওয়া বিভিন্ন মান ও গ্রেডের খেজুরের আন্তর্জাতিক উৎসমূল্য যাচাই করে একটি যৌক্তিক নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে পাঠানো হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুল্কায়ন ব্যবস্থা এমন হতে হবে যাতে ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক অ্যাসেসমেন্টের শিকার না হন। একই সঙ্গে পণ্যের মূল্য কম দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগও রাখা যাবে না।

সরকার ও ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষকে স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো পক্ষ কারসাজির চেষ্টা করলে পুরো ব্যবস্থার ওপরই আস্থার সংকট তৈরি হয়।

সভায় এনবিআরের প্রতিনিধি জানান, বর্তমানে বিভিন্ন মান ও গ্রেডের খেজুরের প্রকৃত ক্রয়মূল্য আলাদা হলেও শুল্কায়নের ক্ষেত্রে সেই পার্থক্য সব সময় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। এ কারণে বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারদর ও উৎসমূল্য বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

খেজুর আমদানিকারকেরা জানান, আন্তর্জাতিক পরিবহন ও বন্দরের জটিলতার কারণে খেজুর বাংলাদেশে পৌঁছাতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে। তাই সময়মতো পর্যাপ্ত খেজুর আমদানি নিশ্চিত করতে শুল্কসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রয়োজন।

সভায় ব্যবসায়ীরা বিকল্প উৎস থেকে মাল্টাসহ বিভিন্ন বিদেশি ফলের আমদানি বাড়ানোর আশ্বাস দেন। সরকারের পক্ষ থেকেও শুল্ক-কর, শুল্কায়ন ও আমদানি প্রক্রিয়ায় যৌক্তিক সমস্যাগুলো পর্যালোচনার কথা জানানো হয়।

মতবিনিময় সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

(ওএস/এএস/অক্টোবর ০৩, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০৩ অক্টোবর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test