E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

গ্যাসের অনুসন্ধানে ১৫০টি কূপ খনন করবে সরকার

২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৮:৩৪:০৭
গ্যাসের অনুসন্ধানে ১৫০টি কূপ খনন করবে সরকার

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে গ্যাসের অনুসন্ধানে ১৫০টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে গ্যাসের আমদানি বাড়াতে তিন থেকে চারটি নতুন ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া, মাতারবাড়ীর পাশাপাশি খুলনার কাছে নতুন একটি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে বড় জাহাজ থেকে সরাসরি তেল ও এলএনজি খালাসের সুবিধাসম্পন্ন আধুনিক টার্মিনাল স্থাপন করা হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ফোরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) আলোচনা সভায় এসব তথ্য জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ‘সাসটেইনেবল পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি: ড্রাইভিং ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ সভায় দেশের জ্বালানি খাত ও অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আগের সরকারের কাছ থেকে পাওয়া রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা ও বিদেশে ডলার পাচারের মতো সংকট মোকাবিলায় বর্তমান সরকার কাজ করছে।”

গ্যাস অনুসন্ধানের পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, স্থলভাগ ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চুক্তিভিত্তিক অনুসন্ধানের পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানিকে (বাপেক্স) শক্তিশালী করে ১৫০টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।

গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় তিন থেকে চারটি নতুন এফএসআরইউ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এ উদ্যোগে কোরিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হচ্ছেন।

মাতারবাড়ীর পাশাপাশি খুলনার কাছে ২০ মিটার ড্রাফটের একটি নতুন স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে উল্লেখ করে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সেখানে বড় জাহাজ থেকে সরাসরি তেল ও এলএনজি খালাসের সুবিধাসম্পন্ন আধুনিক টার্মিনাল স্থাপন করা হবে। ওই এলাকায় জ্বালানি হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে পূর্ণাঙ্গ কর ছাড় ও প্রণোদনা সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বসতবাড়ি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌর বিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এসব প্যানেল থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ স্বাভাবিক ট্যারিফের চেয়ে বেশি দামে কিনে নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

জ্বালানি খাতের পাশাপাশি রাজস্ব ও আর্থিক খাতেও সংস্কারের পরিকল্পনার কথা জানান আমির খসরু। তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন—এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নীতি প্রণয়নে স্বার্থের সংঘাত ও দুর্নীতি কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।

ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজার পুনর্গঠনের পাশাপাশি ব্যবসার ব্যয় কমিয়ে ব্যবসা পরিচালনা সহজ করতে নিয়ন্ত্রণমূলক বাধা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, হংকংয়ের পুঁজিবাজারে বাংলাদেশের জন্য পৃথক ইকুইটি ফান্ড চালু করা হচ্ছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজার ও বন্ডে বড় অঙ্কের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ পাওয়ার প্রত্যাশা করছে সরকার।
একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত স্থিতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। এরপর অর্থনীতি স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে এবং একপর্যায়ে প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ং, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ এবং এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক। এছাড়া, এফআইসিসিআইয়ের প্রতিনিধিরা, ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

(ওএস/এএস/অক্টোবর ১৯, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১৯ অক্টোবর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test