E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘বেশি দামে কিনে কম দামে বিদ্যুৎ-জ্বালানি বিক্রি করছে সরকার’

২০২৬ অক্টোবর ২৭ ১৪:৪১:৩৭
‘বেশি দামে কিনে কম দামে বিদ্যুৎ-জ্বালানি বিক্রি করছে সরকার’

স্টাফ রিপোর্টার : বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলছেন, বেশি দামে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কিনে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে সরকারকে। এতে এ খাতে বড় ধরনের আর্থিক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু, জনগণ সরকারের সমস্যাগুলো বুঝতে চাইছে না।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তিন দিনব্যাপী ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্ট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

তিনি বলেন, কেউ বুঝতে চায় না আমাদের সমস্যা। আমরা এখনো সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করছি। জনগণ সেই দাম দিতে রাজি নয়।

বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক সংকট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা বাবদ নির্ধারিত অর্থ বা ক্যাপাসিটি চার্জে হাত দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। এতে হাত দিলেই ব্যাংকগুলো সামনে চলে আসবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র বসে থাকলেও সেগুলোর জন্য অর্থ দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ কেনা ও জ্বালানি সরবরাহ, কোনটিই ঠিকমতো করা যাচ্ছে না।

এলএনজি আমদানির সংকটের কথা উল্লেখ করে টুকু বলেন, এলএনজির জন্য কাতারের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। হামলার কারণে কাতার সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। ১০ থেকে ১২ ডলারের এলএনজি ৩০ ডলার দিয়ে কিনেছি।

তিনি বলেন, বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে, বিদ্যুৎ খাতে ভালো সেবা দেওয়া যাচ্ছে—এমন দাবি করব না। এ খাতে বিশাল ঘাটতি রয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হলেও কোনো সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করেছেন। বিশেষ জ্বালানি আইন পরবর্তী সংসদে উত্থাপন করা হবে।

বিগত সরকারের বিশেষ আইন নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, আগের সরকার চুরির উদ্দেশে এ ধরনের আইন করেছিল। তবে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সৌরবিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট সবকিছু শুল্কমুক্ত করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দেশের বিদ্যুৎ গ্রিড আধুনিক নয়। এ গ্রিডে পারমাণবিক, জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক ও নবায়নযোগ্য উৎসের বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। কিন্তু পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) এখনো এ জন্য প্রস্তুত নয়। পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল।

তিনি বলেন, আপনারা সহযোগিতা করলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারব।

দেশের ভূগর্ভস্থ জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধানে আগের সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, দেশের ভূগর্ভে বিপুল সম্পদ রয়েছে। কিন্তু, বিগত ১৭ বছরে একটি কূপও খনন করা হয়নি। ওই সময়ে অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে দেশকে আরও ৫০ থেকে ৬০ বছর ভুগতে হতে পারে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৬৫ শতাংশ সরকারি খাতে রাখার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু অর্থ উপার্জনের উদ্দেশে গত ১৭ বছরে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশ বেসরকারি খাতে।
(ওএস/এএস/অক্টোবর ২৭, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২৭ অক্টোবর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test