E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘বিদেশে থাকা মেধাবীদের ফেরাতে নীতিমালার কাজ চলছে’

২০২৬ নভেম্বর ০৬ ১৪:৩৬:১৯
‘বিদেশে থাকা মেধাবীদের ফেরাতে নীতিমালার কাজ চলছে’

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, “পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় দেশের অনেক মেধাবী তরুণ বিদেশে কাজ ও বিনিয়োগ করছেন। তাদের দক্ষতা ও বিনিয়োগ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার একটি নীতিমালা তৈরির কাজ করছে।”

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’-এ এসব কথা বলেন তিনি।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে দেশে প্রথমবারের মতো একদিনের এ সম্মেলনের আয়োজন করে। ডিসিসিআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উদ্বোধনী অধিবেশনে আরো বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রুহুল কুদ্দুস দুলু এবং ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান। পরে তিনটি প্যানেল আলোচনায় দেশের এআই খাতের বর্তমান অবস্থা, বাধা ও করণীয় নিয়ে কথা বলেন মন্ত্রী, ব্যবসায়ী, দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।


‘এআইয়ের রূপান্তর মোকাবিলা: প্রয়োগ, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক অধিবেশন সঞ্চালনা করেন ডিসিসিআইয়ের সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, “ব্যবসা পরিচালনা, শিল্প উৎপাদন ও প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন বদলে দিচ্ছে এআই। বাংলাদেশেও এর ব্যবহার বাড়ছে। তবে সীমিত প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, দক্ষ পেশাজীবীর অভাব, বাস্তবায়নের উচ্চ খরচ এবং সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি এ অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। ”

শিল্প ও শিক্ষার মধ্যে সংযোগ জরুরি
‘শিল্প ও শিক্ষার মধ্যে সংযোগ: ব্যবসায়িক উদ্ভাবনে এআইয়ের প্রয়োগ’ শীর্ষক অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, “দেশে পর্যাপ্ত সুযোগের অভাবে বহু মেধাবী তরুণ বিভিন্ন দেশে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন, সেখানে বিনিয়োগও করেছেন। সরকার দেশে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যাতে এই বিনিয়োগ ও দক্ষ জনবল দেশে ফিরিয়ে আনা যায়। এ জন্য একটি কার্যকর নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।”

অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমান। তিনি বলেন, “এআই-উপযোগী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রমকে শিল্প ও ব্যবসা খাতের চাহিদার সঙ্গে মেলাতে হবে। এআই সাক্ষরতা, ডেটা বিশ্লেষণ ও বাস্তব সমস্যা সমাধানের দক্ষতার ওপর বিশেষ জোর দিতে হবে।” সরকার, শিল্প খাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলার তাগিদও দেন তিনি।

একই অধিবেশনে ব্যবসায়ী সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর জানান, শিক্ষা ও গবেষণায় বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে শুল্ক অব্যাহতি দেওয়া দরকার। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিদ্যমান মেধাস্বত্ব আইন যুগোপযোগী করাও জরুরি। শিল্পের সমস্যা সমাধানে স্থানীয় উদ্যোক্তারা এআই-ভিত্তিক সেবা চালু করতে পারেন বলে মত দেন তিনি।

ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী সিমিন রহমান বলেন, “শিল্পের উৎপাদন ও সক্ষমতা বাড়াতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।”

নিজের ভাষা ও সংস্কৃতির এআই
‘সবার জন্য এআই: স্থানীয় মেধা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে বাস্তবভিত্তিক করণীয়’ শীর্ষক তৃতীয় অধিবেশনে কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

তিনি বলেন, “দেশে এআইয়ের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে এআই এজেন্টগুলোকে নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনাচরণের উপযোগী করতে হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকেও এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।” দেশে তৈরি এআই অ্যাপ্লিকেশনের প্রসারে কূটনৈতিক আলোচনা ও বৈশ্বিক অংশীদারত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

সমাপনী অধিবেশনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসচিব মো. আনোয়ার হোসেন সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে জাতীয় এআই ইকোসিস্টেম গঠনের প্রস্তাব দেন।

বিভিন্ন অধিবেশনে আরো বক্তব্য দেন- ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক সৈয়দ মুনতাসির মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আব্দুর রাজ্জাক, ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর প্রধান নির্বাহী রাইসুল কবির এবং পাঠাওয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম আহমেদ।

নীতিমালা এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায়
দেশে জাতীয় এআই নীতিমালা এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। গত জুলাইয়ে চীনের সাংহাইয়ে বিশ্ব এআই সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছিলেন, সরকার একটি সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় এআই নীতি তৈরির কাজ করছে। গত মাসে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরামের এক সম্মেলনে নীতিমালাটি অবিলম্বে অনুমোদনের দাবি জানানো হয়।

এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি অগ্রগতি হয়েছে। গত ৬ অক্টোবর জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ এআই ও মানবাধিকার বিষয়ে বাংলাদেশের নেতৃত্বাধীন একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করে।

সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত ‘এআই বিজনেস এক্সপো’তে প্রায় দেড় শ স্টলে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান এআই-ভিত্তিক পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করে। দেশের ২০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ উদ্ভাবকেরাও নিজেদের উদ্ভাবিত পণ্য প্রদর্শন করেন।

(ওএস/এএস/নভেম্বর ০৬, ২০২৬)













পাঠকের মতামত:

০৬ নভেম্বর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test