খেলাপি ঋণ আদায়ে দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল গঠনে বিলম্ব কেন
চৌধুরী আবদুল হান্নান
“বিবাদী গ্রাহকের প্রতি ট্রাইবুনালের দৃষ্টিভঙ্গি যদি এমন থাকে যে, টাকা পরিশোধ করুণ, অন্যথায় কারাগারে যেতে হবে, তাহলে তারা ব্যাংকমুখী হতে বাধ্য হবেন।”
দেশের বর্তমান বিচার ব্যবস্থায় ব্যাংক খাত দখলে রাখা দুষ্ট চক্রকে আটকানো সম্ভব হচ্ছে না, অনেক ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি রয়েছেন যারা ব্যাংকের মামলার কোনো পরোয়া করেন না। তারা দেখেন, তাদের নামে মামলা হলে কিছু সুবিধাও আছে। অনেক মামলা ১০ বছরেরও বেশি সময় চলতে দেখা যায়।বিবাদীর (ঋণ গ্রহীতা) পক্ষে নানা অজুহাত দেখিয়ে আদালতের কাছে বার বার সময় প্রার্থনা করেন, অন্যদিকে বাদী ব্যাংকের পক্ষে মামলা পরিচালনায় জোরালো ভূমিকা না থাকায় মামলা বছরের পর বছর চলতেই থাকে।
সুযোগ সন্ধানী এ সকল চতুর খেলাপিরা এক সময় নাম মাত্র ডাউন পেমেন্ট জমা দিয়ে বা না দিয়েই সুদ মওকুফসহ দীর্ঘ মেয়াদে পুনঃতফশিল করে নিতে সক্ষম হন। তাছাড়া, তাদের প্রতি যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের বাড়তি আনুকূল্য খাকে, তাহলে তো লুটপাটের অভয়ারণ্য হতে বাধ্য; হয়েছিলও তাই। বিপুল অঙ্কের মাসোহারার বিনিময়ে অনেককে অবাধে ব্যাংকের টাকা বের করে নিতে সুযোগ করে দিয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ মাথায় নিয়ে তাদের মধ্যে দুই সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর এবং মাসুদ বিশ্বাস বর্তমানে কারাগারে আছেন। আসলে বেড়ায় যখন ক্ষেত খায়, সে ক্ষেত রক্ষা করা যায় না।
এদিকে ব্যাংকের ঋণ আদায়ের সকল স্বাভাবিক পথ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সেই কারণে, ব্যাংকের টাকা আত্মসাতকারী এবং বিদেশে পাচারকারী সকল প্রবল ক্ষমতাধর ব্যক্তিকে পাকড়াও করতে অবিলম্বে দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল গঠন করতে হবে।
আমার জানা মতে, এমন প্রস্তাব ব্যক্তি পর্যায়ে প্রথম দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলাম তাঁর ৩ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত একটি নিবন্ধের মাধ্যমে। সেখানে বলা হয়েছে, আর বিলম্ব না করে প্রতিটি ব্যাংকের শীর্ষ দশ ঋণখেলাপিকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য “খেলাপি ব্যাংক ঋণ আদায় ট্রাইবুনাল” গঠন করা হোক।
তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নানা সমস্যা নিয়ে গবেষণা করছেন। ‘‘এ প্রফাইল অব ব্যাংক লোন ডিফল্ট ইন দ্য প্রাইভেট সেক্টর ইন বাংলাদেশ” নামে ২০১০ সালে প্রকাশিত তাঁর একটি বই রয়েছে এবং তাতে দেশের শীর্ষ ৩১ রাঘববোয়াল ঋণখেলাপির হাজার হাজার কোটি টাকা লুন্ঠনের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলামের মতামত গ্রহণ করা হলে ব্যাংক ও আর্থিক খাত বিষয়ক সমস্যা মোকাবিলা করা সহজ হবে।
১৯৯৮ সালে তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদও ট্রাইবুনাল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কারণ প্রধান বিচারপতি হিসেবে তিনি প্রচলিত বিচার ব্যবস্হায় দীর্ঘসূত্রতার সমস্যা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন।
বর্তমান সরকার খুনিদের বিচার নিয়ে যতটা তৎপর, অর্থ পাচারকারীদের পাকড়াও করতে ততটা মনোযোগী নয়।
হত্যার চেয়ে অর্থ পাচার বেশি গুরুতর, কারণ মানুষ হত্যা করলে একটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয় আর অর্থ পাচার করলে পুরো দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এটা স্বীকৃত যে, বিগত পতিত সরকারের সময়ে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে ব্যাংক খাতে। অর্থ লুন্ঠন এবং অর্থ পাচারে কোনো সীমা পরিসীমা ছিল না। মানুষ বলছে, যদি লুন্ঠিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত না করা যায়, তাহলে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের স্বার্থকতা রইলো কোথায়?
এখন তো অপসাশন উৎখাত হয়ে গেছে, তবু কেন দুষ্টচক্রকে ধরতে এখনই সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না ? বর্তমানে তো আর সেই সমস্যা নেই যে, ধরতে গেলে নিজের লোকই ধরা পড়বে।
বর্তমান পরিস্হিতিতে খেলাপি ঋণ ও পুঁজি পাচার মোকাবিলায় আর কালবিলম্ব না করে ট্রাইবুনাল গঠনের কোনো বিকল্প নেই।
ট্রাইবুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না, মামলায় অযৌক্তিক দীর্ঘসূত্রতাও থাকবে না। তাই রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হবে না।
ট্রাইবুনাল গঠন পদ্ধতি ও কার্যাবলী কী হবে?
আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ এবং বিচার বিভাগীয় ব্যক্তিদের পরামর্শক্রমে এই বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করতে হবে। দীর্ঘদিনের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতার আলোকে, এর কার্য প্রক্রিয়া বিষয়ে আমার কিছু মতামত রয়েছে:
(ক) টাকা আদায়ের স্বাভাবিক সকল পদক্ষেপ সম্পন্ন হওয়ার পর মামলা দায়ের করার পূর্বে ঋণ গ্রহিতাকে চূড়ান্ত নোটিশ দিতে হবে।
(খ) জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ান জারি করতে হবে, তবে শর্ত থাকতে পারে যে, জামিন পেতে দাবিকৃত টাকার আংশিক অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে।
(গ) জামিন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ব্যাংকের পক্ষ থেকে মতামত রাখার সুযোগ থাকতে পারে।
(গ) “ওয়ানটাইম এক্সিট” — এই প্রক্রিয়ায় গ্রাহকের আবেদনের প্রক্ষিতে ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া স্বল্প সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধের শর্তে সর্বোচ্চ সুদ মওকুফের সুযোগ রয়েছে।
(ঙ) প্রয়োজনীয় ডাউনপেমেন্ট জমা দিয়ে পুনঃতপশিল করার মাধ্যমে ঋণ হিসাবটি নিয়মিত করণ এবং ঋণ গ্রহীতার ব্যবসা চালু থাকা সাপেক্ষে ঋণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় গ্রাহক-ব্যাংকার সম্পর্কের ভিত্তিতে তাকে নতুন করে ঋণ দেওয়া যেতে পারে।
(চ) বিবাদী গ্রাহকের প্রতি ট্রাইবুনালের দৃষ্টিভঙ্গি যদি এমন হয় যে — “টাকা পরিশোধ করুণ, অন্যথায় কারাগারে যেতে হবে।”
গ্রাহকগণ আদালতের এমন কঠোর বার্তা পেলে তারা ব্যাংকমুখি হতে বাধ্য হবেন। যে কাজ স্বাভাবিক ও সহজ পথে না হয়, সেখানে শক্তি প্রয়োগ ছাড়া গত্যন্তর থাকে না।
ব্যাংক লুটেরা ও অর্থ পাচারকারীদের কঠোর শাস্তির মাধ্যমে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে যাওয়া জনগণের টাকা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে। এভাবেই ডুবে যাওয়া ব্যাংক ও আর্থিক খাত চাঙা হতে শুরু করবে।
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত ডিজিএম, সোনালী ব্যাংক।
পাঠকের মতামত:
- ‘ঈদ উপলক্ষে রবিবার থেকে আগের মতোই মিলবে অকটেন-পেট্রোল’
- 'ক্ষমতা লাভ করার জন্য আওয়ামীলীগই একমাত্র দল'
- ঈশ্বরদীতে ময়লার স্তূপ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার
- মহম্মদপুরে সড়ক সংস্কারে বিটুমিন কম দেওয়ার অভিযোগ, হাত দিলেই উঠে যাচ্ছে পাথর
- নড়াইলে বিএনপির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল
- মহম্মদপুরে ফসল তোলা নিয়ে মা-ছেলেকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ
- রাজবাড়ীতে বিদেশী পিস্তল-গুলিসহ অস্ত্র ব্যবসায়ী আটক
- প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে তদবির বন্ধে সতর্কতা জারি
- ময়মনসিংহ নগরীর ফুটপাত ইজারা দিয়েছেন কে বা কারা?
- ফরিদপুরে পল্লীকবি জসীম উদ্দিনের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
- বিকেএসপির সাবেক উপপরিচালক ও সংগঠক মিমুর চিরবিদায়
- ‘পহেলা বৈশাখে ২ কোটি ২০ লাখ কৃষক পাবে কৃষি কার্ড’
- সোনাতলায় মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন, হোটেল–রেস্তোরাঁয় অভিযান
- ভাবখালি ভূমি অফিস এখন ভূমি সেবার মানদন্ডে শীর্ষে
- জমে উঠেছে ধামরাইয়ের ঈদ বাজার, দরজি পাড়ায় বেড়েছে ব্যস্ততা
- প্রযুক্তির সহায়তায় জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ময়মনসিংহে প্রেস ব্রিফিং
- নড়াইলে শিশু ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেফতার
- নারায়ণগঞ্জে ‘সোনারগাঁ ওয়েলফেয়ার ইউকে লিমিটেড’র উদ্যোগে ৭০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা
- কুড়িগ্রামে হিন্দু ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি, স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা
- মধুমতির বুকে হাজারো ভ্রমণ পিপাসুর ভিড়
- ঈশ্বরগঞ্জে নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্ব শীর্ষক আলোচনা সভা
- সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসকের পরিচ্ছন্নতা অভিযান
- পেঁয়াজের দাম নিয়ে হতাশ কৃষক
- যুবককে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে আত্মহত্যার প্রচার
- সাংবাদিকতার মান-ইজ্জত ফিরিয়ে আনুন
- মেহেরপুরে ১৬০ টাকায় পুলিশে চাকরি
- নবীনগরে ৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজীর মামলায় গ্রেপ্তার ২
- পেকুয়ায় ডাম্পার ট্রাক-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৫
- ৪৪তম বিসিএসের ফলাফল পুনঃপ্রকাশ
- শেরপুরে বাসচাপায় অটোরিকশার চালকসহ ৬ যাত্রী নিহত
- মেহেরপুর জেলা জামায়াত ইসলামীর কর্মী সম্মেলন
- সিলেটে বিদ্যুতের খুঁটিতে প্রাইভেটকারের ধাক্কা, নিহত ৩
- আজও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি ক্ষিতিশ চন্দ্র সাহা
- নবীনগরে তিন দিনব্যাপী ফিজিওথেরাপি ক্যাম্পের উদ্বোধন
- আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বরগুনায় পুলিশ ও নাগরিকদের মতবিনিময় সভা
- বাংলাদেশ সাংবাদিক কমিউনিটির যাত্রা শুরু
- ‘দুই ম্যাডামের জন্য আমাদের চাকরি করাটাই এখন ‘টাফ’ হয়ে গেছে’
- ঠাকুরগাঁওয়ে আলু চুরির মিথ্যে অপবাদে কিশোরকে নির্যাতন, থানায় অভিযোগ
- বিশ্বের দীর্ঘতম সোজা রাস্তাটি এখন সৌদি আরবে
- ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালিত
- মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে রাজশাহীতে নাইট টুর্নামেন্ট উদ্বোধন
- ‘বিচার বিভাগকে আ. লীগ ইচ্ছেমতো ব্যবহার করেছে’
- ‘নিরপরাধ ব্যক্তিকে মিথ্যা মামলায় কখনও হয়রানি করা হবে না’
- ফরিদপুরে দেশ টিভি ও বাসস’র সাংবাদিক আনিচুর হামলার শিকার
- মিয়ানমার সীমান্তে একের পর এক বিস্ফোরণ, আতঙ্কে টেকনাফবাসী
-1.gif)








