E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

একটি কঠিন লেখা! 

২০২৬ জানুয়ারি ১১ ১৯:২৯:৪২
একটি কঠিন লেখা! 

শিতাংশু গুহ


বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা রজার খলিলুর রহমান আমেরিকা এসেছেন, এবং ইতিমধ্যে তিনি ক’টি বৈঠক সেরেছেন। এগুলো লোক দেখানো, আসল রহস্য অন্যত্র। তাকে আসলে ডেকে আনা হয়েছে? এর কারণ বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে যুদ্ধ বিমান কিনবে বলে প্রস্তুতি নিচ্ছে, এ বিমান পাকিস্তানের নয় চীনের। ক’দিন আগে বিমান বাহিনী প্রধান পাকিস্তান সফরে গিয়ে পাকিস্তানের মাধ্যমে চীনা যুদ্ধবিমান কেনার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন। শোনা যায়, রজার রহমানকে বলা হয়েছে যে, নির্বাচন দিয়ে মানে মানে কেটে পড়ুন। যদিও ড. ইউনুস নির্বাচনটি করবেন যুক্তরাষ্ট্র এব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চত নয়? হাদি হত্যা ও দিপু চন্দ্র দাস-র বর্বর হত্যাকাণ্ড নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমেরিকার একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ইতিমধ্যে ড. ইউনুসকে এ নিয়ে ফোন করলে তিনি আশ্বস্থ করেছেন যে, নির্বাচনটি যথাসময়ে হচ্ছে। 

বাংলাদেশ সরকার চীনের সাথে বেশি মাখামাখি করুক যুক্তরাষ্ট্র তা আগেও চায়নি, এখনো চায়না। শেখ হাসিনা সরকার পতনের মূল কারণ চীনের সাথে দহরম-মহরম। দিল্লির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, শেষদিকে শেখ হাসিনা চীনের বন্ধু ছিলেন, ভারতের নয়? শেখ হাসিনা’র শেষ চীন সফর তড়িঘড়ি শেষ করে দেশে ফিরে আসা ঘটনা সবার মনে আছে? দেশে ড্যান মাজিনা থেকে শুরু করে ও পিটার হাস-কে নিয়ে রঙ্গতামাশা কম হয়নি। শেখ হাসিনা একদিকে যেমন চীনের দিকে ঝুঁকছিলেন, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রকে শত্রু শিবিরে ঠেলে দিচ্ছিলেন। ভারত তাঁকে সচেতন করেছে, শেখ হাসিনা পাত্তা দেননি। অখ্যাত মিডিয়া ও বিভিন্ন ইউটিউবার বলতে চাচ্ছে যে, রজার খলিলকে এও বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে উগ্রবাদী ইসলামী মৌলবাদী শক্তি ক্ষমতায় আসুক সেটি যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দ নয়। আসলে ভেতরে ভেতরে কি ঘটছে বলা মুশকিল, কিন্তু ‘ডাল মে কুছ কালা হ্যায়’।

ভেনিজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান নিয়ে এ সময়ে পুরো বিশ্বে কথাবার্তা হচ্ছে। সেদেশের প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তদীয় পত্নী এখন যুক্তরাষ্ট্রে ‘নার্কোটেররিস্ট’ আইনে বিচারের মুখোমুখি। সবাই বলছে ভেনিজুয়েলার মজুদ তেল নিয়ে এ রাজনীতি। সকল ফ্যাক্টরই কিছুকিছু সত্য, কিন্তু মূল ঘটনা হচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকায় চীনের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ ঠেকানো। দক্ষিণ আমেরিকায় সকল দেশকে বার্তা দেয়া যে, চীনের সাথে মেলামেশা কমাও। ওই অঞ্চলের রাষ্ট্রনায়করা ইতিমধ্যে এনিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন, এবং কোন কোন দেশ চীন থেকে আমদানীর ওপর উচ্চ ট্যারিফ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভেনিজুয়েলার মার্কিন অভিযান নিয়ে চীনের প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট নমনীয়, কারণ চীন জানে এটি ‘ঝি-কে মেরে বৌকে বোঝানো’? ভেনিজুয়েলায় চীনের বিনিয়োগ ৬০-১০৬ বিলিয়ন ডলার। ভেনিজুয়েলার তেল মধ্যপ্রাচ্যের মত তরল নয়, এটি বেশ ঘন, এর ৮৫% প্রক্রিয়াজাতকরণ হয় চীনে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ভেনিজুয়েলার তেলের অবকাঠামো ঠেলে সাজাঁবে। কিছু বোঝা গেল?

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পানামা ক্যানেল এবং গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দিয়ে রেখেছেন। দু’টোই চীনকে লক্ষ্যে রেখে। গ্রীনল্যান্ড অবশ্য চীন-রাশিয়ার দিকে নজর রাখতে। ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়া বা চীন ওটা নিয়ে নিতে পারে। ডেনমার্কের প্রতিনিধি এ সময়ে ওয়াশিন্টনে এনিয়ে আলোচনা করছেন। ডেনমার্ক ন্যাটোর প্রাথমিক সদস্য, পুরোপুরি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, গ্রীনল্যান্ড নিয়ে হয়তো একটি আপোষ হবে। চীনও থেমে নেই, তাইওয়ান দখলে নেয়ার ধান্ধা করছে। একটা সময় হয়তো আসছে যখন চীন তাইওয়ান, রাশিয়া কিছুটা ইউক্রেন, আমেরিকা এদিক-ওদিক দখল নেবে, সবাই মিলেমিশে ভাগাভাগি আরকি। বাংলাদেশে সাবেক ভিসি প্রফেসর কলিমুল্লাহ এ সম্পর্কে প্রায়শ: একটি থিওরি দেন্, ইউনুস তাকে জেলে পুড়ে রেখেছে, কিন্তু তার কথা সত্য। তিনি ভারতকে এ দলে ফেলেন। ভারত এখন পুরানো গান্ধীবাদী নীতি থেকে বেরিয়ে আসছে। ট্রাম্পের পীড়াপীড়িতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ স্থগিত করেছে, বন্ধ করেনি। সামনে একটি ভারত-পাকিস্তান পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্ভবনা উজ্জ্বল। ভারত এবার আমেরিকার কথা শুনবে না, হয়তো একারণেই ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক আরো কিছুদিন খারাপ থাকবে।

লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।

পাঠকের মতামত:

১২ জানুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test