E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

হাদির সাথে হিরো আলমের তুলনা চলে! 

২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ১৮:১১:০৩
হাদির সাথে হিরো আলমের তুলনা চলে! 

শিতাংশু গুহ


হাদির সাথে হিরো আলমের তুলনা চলে। না, তাও চলেনা, হিরো আলম তো বাংলাদেশের পক্ষে ছিলো, হাদি পাকিস্তানী? শা-মা হাদি পরকীয়া ও চাঁদার টাকা ভাগাভাগির কারণে গোষ্ঠীদ্ধন্ধে নিহত হলেও আপাতত: জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের পাশে শায়িত আছেন। কতদিন থাকবেন বলা মুশকিল, তবে ঢাকা ভার্সিটির ছাত্ররা প্রথম সুযোগেই তাঁকে নজরুলের পাশ থেকে সরিয়ে দেবে তা বলা বাহুল্য, শুধু সময়ের অপেক্ষা। আৎকে ওঠার কিছু নেই, কবর থেকে লাশ তুলে আগুনে পোড়ানো তো আপনারাই শিখিয়েছেন। দিপু দাসকে পুড়িয়ে মারতে যে ঘৃণার আগুন আপনারা জ্বালিয়েছেন, ঐ ঘৃণা এত তাড়াতাড়ি বন্ধ হবে না। 

একটি জাতির কতটা দুর্ভাগ্য হলে হাদি-মাদিকে নিয়ে আলোচনা হয়? হাদি কে? রাজাকারের নাতিপুতি? হাদিকে নিয়ে লাফালাফি করছে কারা? রাজাকারের নাতিপুতিরা! তাই বা বলি ক্যামনে! এরমধ্যে তো ড. ইউনুস আছেন, তিনি তো নাতিপুতি নন, তিনি রাজাকারের বাপ। একাত্তর সালে তিনি দেশের বাইরে ছিলেন, দেশে থাকলে রাজাকার কমান্ডার হতেন। বলা যায় না, হয়তো টিক্কা খানের সহচর হতে পারতেন। সুতারং হাদি রাজাকারের নাতিপুতি হলেও তার সমর্থকরা রাজাকার, রাজাকারের বাপ্-মা, ও নাতিপুতি। এক কথায় রাজাকার ও রাজাকার সমর্থক গোষ্ঠী, পাকিস্তানপন্থী পরাজিত শক্তি। এঁরা এখন দেশজুড়ে লাফাচ্ছে। হাদির লাশ পাকিস্তানীরা নিয়ে গেলে ক্যামন হয়?

এদের ধৃষ্টতা কতটা হলে এঁরা মুজিব হলের নাম পরিবর্তন করে শহীদ (শা-মা) ওসমান হাদি রাখে? হল কর্তৃপক্ষ সেটা অনুমোদন দিয়েছে। বেঈমান, নিমকহারাম কত প্রকার ও কি কি, ২০২৪-এ মেটিক্যুলাস ষড়যন্ত্র না হলে জাতি জানতেই পারতো না! কোথায় স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, আর কোথায় রাজাকারের নাতি হাদি; বাংলাভাষায় বলে, ‘কোথায় তালগাছ, আর কোথায় বা-গাছ’। এই হাদি নাকি এখন নুতন প্রজন্মের ‘আইকন’, তাহলে এই নুতন প্রজন্মের অবস্থাটা কি তা বুঝতে হয়তো কারো অসুবিধা হবার কথা নয়! হাদি অসভ্য তা না হয় বুঝলাম, পুরো প্রজন্মটাই কি অসভ্য ও অসুস্থ? হাদি’র নামের আগে ‘শহীদ’ লাগানো হয়েছে, দেশে আজকাল চোর-ডাকাত, রাজাকার মরলেও শহীদ হয়ে যাচ্ছে।

জাতীয় কবি নজরুলের পাশে হাদিকে কবর দিয়ে জাতীয় কবিকে অপমান করা হয়েছে। কোথায় কবি নজরুল, আর কোথায় লম্পট হাদি, কথায় বলে, ‘কোথায় আগরতলা আর কোথায় চৌকিরতলা’। এটি বাংলা সাহিত্যের অপমান। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপমান। শোনা যায়, ভারত তাদের কবি নজরুলের কবর সসম্মানে তাদের দেশে নিয়ে চুরুলিয়ায় দাফন করতে চায়। ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুর অনুরোধ ফেলতে পারেননি বিধায় তাকে ঢাকায় কবর দেয়া হয়েছিল। ইন্দিরাও নেই, শেখ মুজিবও নেই, ভারত এর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতেই পারে। যে জাতি নজরুলকে সন্মান দিতে পারেনা, তার কবর সেখানে রাখার কোন যুক্তি নেই।

বাঙ্গালীর একটি গৌরবান্বিত অতীত আছে, বর্তমান আছে, কোথাকার এক রাজাকার-শাবক হাদিমাদিকে ধরে এনে হিরো সাঁজিয়ে লাফালাফি করা জন্তু-জানোয়াররা বাঙ্গালী নয়; বন্যরা বনে সুন্দর, ওরা পাকিস্তানে। এদের পাকিস্তানেই পাঠাতে হবে, পাঞ্জেরী রাত আর কতদূর? অন্ধকার যত ঘনীভূত হয়, সূর্যোদয় ততই ত্বরান্বিত হয়; বাংলাদেশে প্রতিদিন অন্ধকার ঘনিভুত হচ্ছে, বিজয় ততই হাতছানি দিচ্ছে। একাত্তরের পরাজিত শক্তিকে আর একবার সমূলে ধ্বংশ করে শুভশক্তির বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। ইরানে মোল্লাতন্ত্রের পতন হোক, বাংলাদেশে জঙ্গীতন্ত্রের পতন নিশ্চিত। ঘৃণার যে আগুন ওঁরা সৃষ্টি করেছে, সেই আগুনেই ওদের আত্মহুতি দিতে হবে। শুধু একটু অপেক্ষা, আর একটি মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক্ষায়, জাগো বাহে—।

লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।

পাঠকের মতামত:

১৬ জানুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test