ক্যান্সার: নীরব সংকট, কারণ, ঝুঁকি ও বিশ্বব্যাপী বাস্তবতা
ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
ক্যান্সার বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে ধরা হচ্ছে। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশ, অঞ্চল বা মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ধনী দেশ হোক বা উন্নয়নশীল, সর্বত্রই ক্যান্সারের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। আধুনিক জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, দূষণ, ধূমপান, স্থূলতা, নিষ্ক্রিয় জীবনধারা এবং দীর্ঘায়ু—এই সমস্ত কারণে ক্যান্সার আজ একটি নীরব কিন্তু গভীর সংকটে পরিণত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগটি দেরিতে শনাক্ত হয়, ফলে মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। ক্যান্সারের প্রতিকূল প্রভাব শুধু স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নয়, এটি পরিবার, সমাজ ও অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলে। এটি ব্যক্তির কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়, পরিবারে মানসিক চাপ বাড়ায় এবং আর্থিক বোঝা সৃষ্টি করে।
ক্যান্সার কী
মানবদেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত। প্রতিটি কোষ জন্মায়, বৃদ্ধি পায়, কাজ করে এবং একসময় নষ্ট হয়। এই প্রক্রিয়া জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। যখন কোনো কারণে কোষের বিভাজন ও বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ হারায়, তখন কোষগুলো অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এই অনিয়ন্ত্রিত কোষ বৃদ্ধি ক্যান্সারের মূল কারণ।
ক্যান্সার সাধারণত হঠাৎ করে হয় না। একটি স্বাভাবিক কোষ ধীরে ধীরে একাধিক ধাপ অতিক্রম করে ক্যান্সার কোষে পরিণত হয়। এটি বছরের পর বছর ধরে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। কখনও কখনও, ক্যান্সারের প্রথম ধাপগুলি এত সূক্ষ্ম যে তা লক্ষণ প্রকাশ করে না।
ক্যান্সারের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে—অনিয়ন্ত্রিত কোষ বৃদ্ধি, আশেপাশের টিস্যু ধ্বংস করা এবং দূরবর্তী অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা। এটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা কঠিন, তাই সচেতনতা ও নিয়মিত পরীক্ষা অপরিহার্য।
বিশ্বে ক্যান্সারের বর্তমান চিত্র
বিশ্বব্যাপী ক্যান্সার একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে ধরা হচ্ছে।
* প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ২ কোটি মানুষ নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
* বছরে প্রায় ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষ ক্যান্সারে মারা যান।
* প্রতি ৫ জন মানুষের মধ্যে ১ জন জীবদ্দশায় কোনো না কোনো ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।
* ভবিষ্যতে বছরে নতুন ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা ৩ কোটি ৫০ লাখে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ফুসফুস, স্তন, বৃহদান্ত্র, প্রোস্টেট ও যকৃতের ক্যান্সার। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ক্যান্সারের বোঝা দ্রুত বাড়ছে, কারণ সচেতনতা ও প্রাথমিক শনাক্তকরণের সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম।
স্বাস্থ্যসেবা খাতেও চাপ বেড়ে গেছে। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর বিছানা সীমিত এবং বিশেষায়িত বিভাগ কম। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীরা সঠিক যত্ন পাচ্ছেন না।
বাংলাদেশে ক্যান্সারের পরিস্থিতি
বাংলাদেশে ক্যান্সার একটি নীরব জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে।
* প্রতিবছর নতুন ক্যান্সার রোগী প্রায় ১ লাখ ৬০–১ লাখ ৭০ হাজার।
* বছরে ক্যান্সারে মৃত্যু প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার।
* দেশে আনুমানিক ১৮–২০ লাখ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত।
* প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে গড়ে ১০৬ জন ক্যান্সারে আক্রান্ত।
বড় সমস্যা হলো রোগ শনাক্তে বিলম্ব। অধিকাংশ রোগী তখনই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন যখন রোগ অনেকটাই অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছে। গ্রামাঞ্চলে এই প্রবণতা আরও বেশি।
ক্যান্সারের কারণে পরিবার ও সমাজেও বড় প্রভাব পড়ে। পরিবার আর্থিক চাপের মধ্যে পড়ে, রোগী সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারেন। অনেক সময় রোগী কর্মক্ষমতা হারায় এবং শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়।
ক্যান্সারের ঝুঁকিপূর্ণ কারণসমূহ
ক্যান্সার সাধারণত একাধিক ঝুঁকির সমন্বয়ে তৈরি হয়।
১. তামাকজাত দ্রব্য :- * সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুল ও ধোঁয়াবিহীন তামাক। * ফুসফুস, মুখ, গলা, খাদ্যনালী ও মূত্রথলির ক্যান্সারের প্রধান ঝুঁকি। * মোট ক্যান্সারের প্রায় ৩০ শতাংশ তামাকের সঙ্গে সম্পর্কিত।
২. খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন:-* অতিরিক্ত ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার। * শাকসবজি ও ফলমূলের স্বল্পতা। * শারীরিক পরিশ্রমের অভাব। * স্থূলতা ও অতিরিক্ত ওজন।
৩. সংক্রমণজনিত কারণ:-মোট ক্যান্সারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত— * এইচপিভি (HPV) → জরায়ুমুখ ক্যান্সার * হেপাটাইটিস বি ও সি → যকৃত ক্যান্সার * হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি → পাকস্থলী ক্যান্সার
৪. পরিবেশ ও কর্মক্ষেত্র:- * বায়ু দূষণ * কীটনাশক ও রাসায়নিক পদার্থ
* ভারী ধাতু * অতিরিক্ত সূর্যালোক
৫. জীবনযাত্রা ও মানসিক চাপ
* অতিরিক্ত মানসিক চাপ * ঘুমের অভাব * দীর্ঘ সময় কম শারীরিক কার্যকলাপে থাকা * ধূমপান বা মাদক ব্যবহার। এই সমস্ত কারণে দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সহজ হয়ে যায়।
ক্যান্সারের প্রধান প্রকারভেদ
কারসিনোমা
* সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। * ত্বক, ফুসফুস, স্তন, অন্ত্রসহ বিভিন্ন অঙ্গে হয়।
সারকোমা
* হাড়, পেশি ও সংযোজক টিস্যুতে হয়।
লিউকেমিয়া
* রক্ত ও অস্থিমজ্জায় হয়। * শিশুদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
লিম্ফোমা
* লিম্ফ নোড ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় হয়।
অন্যান্য প্রকার
* মস্তিষ্কের ক্যান্সার * থাইরয়েড ক্যান্সার * যকৃত ও পাকস্থলী ক্যান্সার
ক্যান্সারের লক্ষণ
* অকারণে ওজন কমে যাওয়া
* দীর্ঘদিনের ক্লান্তি
* শরীরের কোথাও গাঁট বা ফোলা
* ক্ষত বা ঘা দীর্ঘদিন ভালো না হওয়া
* অস্বাভাবিক রক্তপাত
* দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা কণ্ঠস্বর পরিবর্তন
* পায়খানা বা প্রস্রাবে রক্ত
* হঠাৎ খাবারের আগ্রহ কমে যাওয়া বা হজমজনিত সমস্যা
ক্যান্সারের জটিলতা
* শরীরের অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়া
* আক্রান্ত অঙ্গের স্বাভাবিক
* কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়া
* রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া
* রক্তস্বল্পতা ও সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি
* শারীরিক দুর্বলতা ও কর্মক্ষমতা হ্রাস
* মানসিক চাপ ও হতাশা। ক্যান্সার শুধু রোগীর শরীর নয়, পরিবার ও সামাজিক জীবনেও বড় প্রভাব ফেলে।
ক্যান্সার নির্ণয়
* রোগীর শারীরিক পরীক্ষা ও ইতিহাস মূল্যায়ন
* রক্ত ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষা
* চিত্রায়ন পরীক্ষা (এক্স-রে, কম্পিউটেড টমোগ্রাফি, চৌম্বকীয় রেজোন্যান্স)
* টিস্যু পরীক্ষা বা কোষ্ঠি পরীক্ষা
* রোগের বিস্তার নির্ধারণ (পর্যায় নির্ণয়) সঠিক নির্ণয় ছাড়া ক্যান্সার মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং স্ক্রিনিং ক্যান্সার শনাক্তকরণের জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে ৪০–৫০ বছরের পর বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে বছরে অন্তত একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত। স্তন ক্যান্সারের জন্য ম্যামোগ্রাফি, জরায়ুমুখের জন্য প্যাপ স্মিয়ার পরীক্ষা, এবং যকৃত সংক্রান্ত পরীক্ষা সময়মতো করা গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো শনাক্তকরণ চিকিৎসার সম্ভাবনা বাড়ায় এবং জীবন রক্ষা করতে সাহায্য করে।
সামাজিক বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশে ক্যান্সার নিয়ে এখনও অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকেই এটিকে নিয়তির বিষয় মনে করেন বা লুকিয়ে রাখেন। ফলে রোগ শনাক্তে দেরি হয়। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ব্যয় পরিবারকে আর্থিক চাপের মুখে ফেলে। ক্যান্সারের কারণে পরিবারে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়। রোগী সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারেন, কাজ ও শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়, এবং সন্তান বা পরিবারকে দৈনন্দিন দায়িত্ব সামলাতে অসুবিধা হয়।
পরিশেষে বলতে চাই,ক্যান্সার আর বিরল কোনো রোগ নয়। এটি একটি বৈশ্বিক বাস্তবতা। সচেতনতা, ঝুঁকি সম্পর্কে জ্ঞান এবং সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
ক্যান্সার সম্পর্কে জানা মানেই ভয় পাওয়া নয়। সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ অসংখ্য জীবন রক্ষা করতে পারে। প্রতিটি মানুষকে তার জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাস এবং পরিবেশ সচেতনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি একটি সামাজিক ও জাতিগত দায়িত্ব।
লেখক: কলাম লেখক ও গবেষক, প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি।
ক্যান্সার কী
মানবদেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত। প্রতিটি কোষ জন্মায়, বৃদ্ধি পায়, কাজ করে এবং একসময় নষ্ট হয়। এই প্রক্রিয়া জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। যখন কোনো কারণে কোষের বিভাজন ও বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ হারায়, তখন কোষগুলো অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এই অনিয়ন্ত্রিত কোষ বৃদ্ধি ক্যান্সারের মূল কারণ।ক্যান্সার সাধারণত হঠাৎ করে হয় না। একটি স্বাভাবিক কোষ ধীরে ধীরে একাধিক ধাপ অতিক্রম করে ক্যান্সার কোষে পরিণত হয়। এটি বছরের পর বছর ধরে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। কখনও কখনও, ক্যান্সারের প্রথম ধাপগুলি এত সূক্ষ্ম যে তা লক্ষণ প্রকাশ করে না।ক্যান্সারের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে—অনিয়ন্ত্রিত কোষ বৃদ্ধি, আশেপাশের টিস্যু ধ্বংস করা এবং দূরবর্তী অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা। এটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা কঠিন, তাই সচেতনতা ও নিয়মিত পরীক্ষা অপরিহার্য।
বিশ্বে ক্যান্সারের বর্তমান চিত্র
বিশ্বব্যাপী ক্যান্সার একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে ধরা হচ্ছে।
* প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ২ কোটি মানুষ নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
* বছরে প্রায় ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষ ক্যান্সারে মারা যান।
* প্রতি ৫ জন মানুষের মধ্যে ১ জন জীবদ্দশায় কোনো না কোনো ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।
* ভবিষ্যতে বছরে নতুন ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা ৩ কোটি ৫০ লাখে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ফুসফুস, স্তন, বৃহদান্ত্র, প্রোস্টেট ও যকৃতের ক্যান্সার। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ক্যান্সারের বোঝা দ্রুত বাড়ছে, কারণ সচেতনতা ও প্রাথমিক শনাক্তকরণের সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম।স্বাস্থ্যসেবা খাতেও চাপ বেড়ে গেছে। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর বিছানা সীমিত এবং বিশেষায়িত বিভাগ কম। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীরা সঠিক যত্ন পাচ্ছেন না।
বাংলাদেশে ক্যান্সারের পরিস্থিতি
বাংলাদেশে ক্যান্সার একটি নীরব জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে।
* প্রতিবছর নতুন ক্যান্সার রোগী প্রায় ১ লাখ ৬০–১ লাখ ৭০ হাজার।
* বছরে ক্যান্সারে মৃত্যু প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার।
* দেশে আনুমানিক ১৮–২০ লাখ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত।
* প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে গড়ে ১০৬ জন ক্যান্সারে আক্রান্ত।
বড় সমস্যা হলো রোগ শনাক্তে বিলম্ব। অধিকাংশ রোগী তখনই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন যখন রোগ অনেকটাই অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছে। গ্রামাঞ্চলে এই প্রবণতা আরও বেশি।
ক্যান্সারের কারণে পরিবার ও সমাজেও বড় প্রভাব পড়ে। পরিবার আর্থিক চাপের মধ্যে পড়ে, রোগী সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারেন। অনেক সময় রোগী কর্মক্ষমতা হারায় এবং শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়।
ক্যান্সারের ঝুঁকিপূর্ণ কারণসমূহ
ক্যান্সার সাধারণত একাধিক ঝুঁকির সমন্বয়ে তৈরি হয়।
১. তামাকজাত দ্রব্য :- * সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুল ও ধোঁয়াবিহীন তামাক। * ফুসফুস, মুখ, গলা, খাদ্যনালী ও মূত্রথলির ক্যান্সারের প্রধান ঝুঁকি। * মোট ক্যান্সারের প্রায় ৩০ শতাংশ তামাকের সঙ্গে সম্পর্কিত।
২. খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন:-* অতিরিক্ত ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার। * শাকসবজি ও ফলমূলের স্বল্পতা। * শারীরিক পরিশ্রমের অভাব। * স্থূলতা ও অতিরিক্ত ওজন।
৩. সংক্রমণজনিত কারণ:-মোট ক্যান্সারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত—* এইচপিভি (HPV) → জরায়ুমুখ ক্যান্সার * হেপাটাইটিস বি ও সি → যকৃত ক্যান্সার * হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি → পাকস্থলী ক্যান্সার
৪. পরিবেশ ও কর্মক্ষেত্র:- * বায়ু দূষণ * কীটনাশক ও রাসায়নিক পদার্থ* ভারী ধাতু * অতিরিক্ত সূর্যালোক
৫. জীবনযাত্রা ও মানসিক চাপ
* অতিরিক্ত মানসিক চাপ * ঘুমের অভাব * দীর্ঘ সময় কম শারীরিক কার্যকলাপে থাকা * ধূমপান বা মাদক ব্যবহার। এই সমস্ত কারণে দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সহজ হয়ে যায়।
ক্যান্সারের প্রধান প্রকারভেদ
কারসিনোমা
* সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। * ত্বক, ফুসফুস, স্তন, অন্ত্রসহ বিভিন্ন অঙ্গে হয়।
সারকোমা
* হাড়, পেশি ও সংযোজক টিস্যুতে হয়।
লিউকেমিয়া
* রক্ত ও অস্থিমজ্জায় হয়। * শিশুদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
লিম্ফোমা
* লিম্ফ নোড ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় হয়।
অন্যান্য প্রকার
* মস্তিষ্কের ক্যান্সার * থাইরয়েড ক্যান্সার * যকৃত ও পাকস্থলী ক্যান্সার
ক্যান্সারের লক্ষণ
* অকারণে ওজন কমে যাওয়া* দীর্ঘদিনের ক্লান্তি* শরীরের কোথাও গাঁট বা ফোলা* ক্ষত বা ঘা দীর্ঘদিন ভালো না হওয়া* অস্বাভাবিক রক্তপাত* দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা কণ্ঠস্বর পরিবর্তন* পায়খানা বা প্রস্রাবে রক্ত* হঠাৎ খাবারের আগ্রহ কমে যাওয়া বা হজমজনিত সমস্যা
ক্যান্সারের জটিলতা
* শরীরের অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়া* আক্রান্ত অঙ্গের স্বাভাবিক* কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়া* রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া* রক্তস্বল্পতা ও সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি* শারীরিক দুর্বলতা ও কর্মক্ষমতা হ্রাস* মানসিক চাপ ও হতাশা। ক্যান্সার শুধু রোগীর শরীর নয়, পরিবার ও সামাজিক জীবনেও বড় প্রভাব ফেলে।
ক্যান্সার নির্ণয়
* রোগীর শারীরিক পরীক্ষা ও ইতিহাস মূল্যায়ন* রক্ত ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষা* চিত্রায়ন পরীক্ষা (এক্স-রে, কম্পিউটেড টমোগ্রাফি, চৌম্বকীয় রেজোন্যান্স)* টিস্যু পরীক্ষা বা কোষ্ঠি পরীক্ষা* রোগের বিস্তার নির্ধারণ (পর্যায় নির্ণয়) সঠিক নির্ণয় ছাড়া ক্যান্সার মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং স্ক্রিনিং ক্যান্সার শনাক্তকরণের জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে ৪০–৫০ বছরের পর বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে বছরে অন্তত একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত। স্তন ক্যান্সারের জন্য ম্যামোগ্রাফি, জরায়ুমুখের জন্য প্যাপ স্মিয়ার পরীক্ষা, এবং যকৃত সংক্রান্ত পরীক্ষা সময়মতো করা গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো শনাক্তকরণ চিকিৎসার সম্ভাবনা বাড়ায় এবং জীবন রক্ষা করতে সাহায্য করে।
সামাজিক বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশে ক্যান্সার নিয়ে এখনও অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকেই এটিকে নিয়তির বিষয় মনে করেন বা লুকিয়ে রাখেন। ফলে রোগ শনাক্তে দেরি হয়। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ব্যয় পরিবারকে আর্থিক চাপের মুখে ফেলে।ক্যান্সারের কারণে পরিবারে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়। রোগী সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারেন, কাজ ও শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়, এবং সন্তান বা পরিবারকে দৈনন্দিন দায়িত্ব সামলাতে অসুবিধা হয়।
পরিশেষে বলতে চাই,ক্যান্সার আর বিরল কোনো রোগ নয়। এটি একটি বৈশ্বিক বাস্তবতা। সচেতনতা, ঝুঁকি সম্পর্কে জ্ঞান এবং সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর উপায়।ক্যান্সার সম্পর্কে জানা মানেই ভয় পাওয়া নয়। সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ অসংখ্য জীবন রক্ষা করতে পারে। প্রতিটি মানুষকে তার জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাস এবং পরিবেশ সচেতনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি একটি সামাজিক ও জাতিগত দায়িত্ব।
লেখক, কলাম লেখক ও গবেষকপ্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটিইমেইল, [email protected]
পাঠকের মতামত:
- সাতক্ষীরায় জামাতের নির্বাচনী পথসভা ও মিছিল
- গোপালগঞ্জ- ১ আসনে প্রার্থীদের নিয়ে আচরণবিধি সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা
- ‘আমি এমপি হলে সাতক্ষীরা–দেবহাটার প্রতিটি মানুষই এমপি হবে’
- রাজবাড়ী- ২ আসনে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা
- ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বাজিদাদপুর সার্বজনীন রক্ষাচণ্ডী পূজা ও লোক কবিগান
- টাঙ্গাইলে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ৩ জনকে দল থেকে বহিষ্কার
- স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী সভায় যাওয়ার পথে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ৩
- জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের দিনাজপুরে আগমনে সংবাদ সম্মেলন
- গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনভেস্টমেন্ট ইন ক্যাপিটাল মার্কেট শীর্ষক কর্মশালা
- অনুমতি না পেয়ে গেটে দাঁড়িয়ে শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত স্বতন্ত্র প্রার্থীর
- লৌহজংয়ে ইয়াবাসহ দুই বোন গ্রেপ্তার
- সংবাদকর্মীদের আস্থার আকাশ: অধিকার আদায়ের মিছিলে অবিনাশী আলতাফ মাহমুদ
- ঠাকুরগাঁও ১ আসনে মির্জা ফখরুলের পক্ষে প্রচারণা শুরু, নেতৃত্বে মির্জা ফয়সল
- কাপ্তাইয়ে কেআরসি উচ্চ বিদ্যালয়ে মেধা বৃত্তি বিতরণ
- অনলাইন জিডির আড়ালে অবৈধ লেনদেন
- বিএনপি নেতাকে গলা কেটে হত্যা: অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন, বৃদ্ধার মৃত্যু
- নগরকান্দায় বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, আটক ১৮
- ক্যান্সার: নীরব সংকট, কারণ, ঝুঁকি ও বিশ্বব্যাপী বাস্তবতা
- ‘মানসিকভাবে মিরাজ খুব একটা শান্ত অবস্থায় ছিল না’
- ‘কিছু মানুষকে কৃতিত্ব দিতে হবে’
- ঢালিউডে বড় চমক, জুটি বাঁধছেন আফরান নিশো ও মেহজাবীন
- ‘ব্যাংকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে সতর্ক থাকার তাগিদ’
- ‘আজকের লড়াই স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে’
- বাংলাদেশের নির্বাচনে ১৪ সদস্যের পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে কমনওয়েলথ
- নড়াইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল দল থেকে বহিষ্কার
- পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রংপুরে বেরোবি শিক্ষার্থী নিহত
- 'কী কঠিন হৃদয় তার! এই জন্যই বুঝি তিনি সানগ্লাসে চোখ ঢেকে রাখতেন; চোখ দেখলেও নাকি খুনী চেনা যায়!'
- ‘ভারতের সঙ্গে আর নিরবতা নয়’
- ‘অবিলম্বে সেলিম তালুকদারের হত্যকারী জালিমদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে’
- নবীনগরে সুশান্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩
- ভাত নাকি রুটি, কার জন্য কোনটা ভালো
- বরগুনায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান
- দশ মাসে আ.লীগের ৩ হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
- খুদে কবিদের পদভারে মুখর নীলফামারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ
- ৭১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকার কেসিসির বাজেট ঘোষণা
- সঞ্চালক হিসেবে আবারও স্বীকৃতি পেলেন সাংবাদিক গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু
- বঙ্গোপসাগরে নৌকাডুবি, শিশুসহ ৯ রোহিঙ্গার মৃত্যু
- ‘শাহজালালের আগুন ফ্যাসিস্ট হাসিনার নাশকতার অংশ’
- সংবাদকর্মীদের আস্থার আকাশ: অধিকার আদায়ের মিছিলে অবিনাশী আলতাফ মাহমুদ
- পারিবারিক ষড়যন্ত্রের শিকার ব্যবসায়ী আবুল বাশার শামীম
- বন্যার পানিতে পাঁচ দিন ধরে বন্ধ কুমিল্লা ইপিজেড
- ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু
- বিএনপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে জমে উঠেছে সমীকরণ
- 'পিতা যদি রাষ্ট্রপতির প্রটোকল মেনে বঙ্গভবনে থাকতেন, তাহলে বাঙালির এতো বড় মহাসর্বনাশ কেউ করতে পারতো না'
- ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল মাদরাসা শিক্ষার্থীর
-1.gif)








