E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

নতুন গভর্নরকে নিয়ে সমালোচনা যে কারণে

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১৭:৪৯:০১
নতুন গভর্নরকে নিয়ে সমালোচনা যে কারণে

চৌধুরী আবদুল হান্নান


ড. আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে দিয়ে ব‍্যবসায়ী নেতা মোস্তাকুর রহমানকে কেন্দ্রীয় ব‍্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এ নিয়োগকে নজিরবিহীন বলা হচ্ছে এই কারণে যে, ব‍্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেন্দ্রীয় ব‍্যাংকে একজন সক্রিয় ব‍্যবসায়ীকে ইতিপূর্বে কখনও নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

অনেক সময় তাঁকে ব‍্যবসায়ীদের সাথে বিশেষ করে ঋণখেলাপিদের সাথে মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে, তাছাড়া বাণিজ‍্যিক ব‍্যাংকের সাথে ঋণ বিতরণ, আদায় ইত‍্যাদি নিয়ে ব‍্যবসায়ীদের সাথে দ্বন্দ্ব তো লেগেই থাকে। অবশেষে সমস‍্যা নিরসনে কেন্দ্রীয় ব‍্যাংককেই এগিয়ে আসতে হয়।

ব‍্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের সমস‍্যা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের একটি বড় ক্ষত। নবনিযুক্ত গভর্নর নিজেই ঋণখেলাপি ছিলেন, মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট জমা দিয়ে বাংলাদেশ ব‍্যাংকের বিশেষ ঋণ পুনঃতপসিলের আওতায় তাঁর খেলাপি ঋণ নিয়মিত করা হয়েছে। তবে নিয়োগকালে তিনি ঋণখেলাপি ছিলেন না।

দেশের ঋণখেলাপি ব‍্যবসায়ীরা গভর্নরকে তাদের একজন বড় মিত্র ভাবতে শুরু করলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না এবং সেক্ষেত্রে বেশি সুবিধা পাওয়ার আশায় বাড়তি চাপ প্রয়োগের আশঙ্কা থাকবে। তিনি ব‍্যাংকের নীতিমালা ঠিক রেখে কীভাবে এ সকল চাপ মোকাবিলা করবেন, তা এক বড় প্রশ্ন।

গভর্নরের সহকর্মী যারা আছেন, তারা কতটা দক্ষ, বিচক্ষণ ও সৎ তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, কারণ তাদের বিগত দিনের কর্মকান্ড যথেষ্ট হতাশাজনক।

বাংলাদেশ ব‍্যাংকের অনেক কর্মকর্তার ক্ষমতার অপব‍্যবহার আর আর্থিক দুর্নীতির কথা মানুষ ভুলে যায়নি।

প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা করে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে একজন নির্বাহী পরিচালককে কেন্দ্রীয় ব‍্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

পরিদর্শন বিভাগের কিছু কিছু কর্মকর্তা ছিলেন যারা নিয়মিত ব‍্যাংক পরিদর্শনে যেতেন, তারা প্রায়ই ঘুষ গ্রহণ করতেন এই শর্তে যে, কোনো অনিয়ম বের হলেও তা রিপোর্ট করবেন না।

সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর ও সাবেক নির্বাহী পরিচালক শাহ আলম, তাদের অনৈতিক কাজ বাংলাদেশ ব‍্যাংকের এক কলঙ্কের ইতিহাস।

স্বাধীন স্বায়ত্তশাসিত এ সংস্থাটি দুর্বল হতে হতে এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে, ব‍্যাংক ও আর্থিক খাতের ওপর তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না।

বাংলাদেশ ব‍্যাংকের গভর্নর যখন ব‍্যাংকিং বিষয়ে সরকারের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের সাথে সুর মিলান, তখন সর্বনাশ তো হবেই এবং হয়েছেও তাই।

সরকার পতনের পর একজন গভর্নর লুকিয়ে পড়েছিলেন এবং লুকিয়ে থেকেই পদত‍্যাগ করার ঘটনা বেশি দিনের নয়।

ব‍্যবসায়ী নেতা মোস্তাকুর রহমানের একটি বড় রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে, তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সদ‍্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস‍্য ছিলেন।

তিনি নিজ দলীয় লোকদের বেশি সুযোগ করে দেবেন, তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠা অস্বাভাবিক নয়।

আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হিসেবে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনে পদত‍্যাগ করার মানসিকতা নিয়ে যদি সাহসী ভূমিকায় থাকতে পারেন, তা হলে তিনি সফলতার দিকে অগ্রসর হতে পারেন।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত ডিজিএম, সোনালী ব‍্যাংক।

পাঠকের মতামত:

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test