E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘আলোর দিকে হাট’

২০২৬ মার্চ ১৯ ১৮:১৪:২৩
‘আলোর দিকে হাট’

শিতাংশু গুহ


শেখ হাসিনা’র সময় দুর্নীতি ছিলো, নির্বাচন ঠিকমত হয়নি, সংখ্যালঘু নির্যাতন ছিলো, ছিলো আরো অনেক অনিয়ম, এতকিছুর পরও দেশ আলোর দিকে হাঁটছিলো, উন্নয়ন ছিলো দৃশ্যমান। তাঁকে সরিয়ে যাঁরা ক্ষমতায় এসেছিলেন তারা অন্ধকারের দিকে হেঁটেছেন। অর্থাৎ দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে, দুর্নীতি বহুগুন বেড়েছে, উন্নয়ন থেমে গেছে, দেশ পেছন দিকে হেঁটেছে। শত অনিয়ম সত্বেও শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ‘আলোর দিকে হাঁটতে’ শিখিয়েছিলেন। 

অনেক দিন আগে ইতালীর এক বাবা ছোট্ট কন্যা মারিয়াকে ‘আলোর দিকে সাঁতার কাটো’ বলে সমুদ্রে ফেলে দিয়েছিলেন। সেটি ছিলো মারিয়া’র বাবার শেষ কথা। কথাটি মারিয়ার মনে ছিলো। বাবাকে যে তাঁকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসাবে জলে ফেলে দিয়েছিলো একথা বুঝতে মারিয়ার সিঁকি শতাব্দী সময় লেগেছিলো। বাংলাদেশের মানুষেরও আরো কিছুটা সময় লাগবে একথা বুঝতে যে, তারা স্বৈরাচারকে বিদায় দিয়ে মহা-স্বৈরাচারকে ডেকে এনেছিলো।

গল্পটা বলেই ফেলি? ১৯১৭ সালের অক্টোবর মাসে, ইতালীয় অভিবাসীদের নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী জাহাজ ভয়াবহ আটলান্টিক ঝড়ের কবলে পড়ে। সেই জাহাজে ছিলেন আটাশ বছর বয়সী কাঠমিস্ত্রি আন্তোনিও রুসো এবং তার পাঁচ বছরের মেয়ে মারিয়া। মধ্যপথে ভীষণ ঝড়, জাহাজে তরতর করে জল উঠছে, তারা নিচতলায়, বেরুনের উপায় নেই। বাবা বুঝলেন মৃত্যু সমাগত, একটি ভাঙ্গা জানালা দিয়ে দেখলেন আলোর ঝলকানি, বুঝলেন সাহায্য আসছে, কিন্তু ততক্ষনে জাহাজ তলিয়ে যাবে। বাবা দুই হাত দিয়ে মেয়েকে তুলে ওই ছোট্ট জানালা দিয়ে জলে ফেলে দিলেন, শুধু বললেন, ‘আলোর দিকে সাঁতার কাটো’। এর স্বল্প সময় পরে জাহাজটি ডুবে যায়, আরো অনেকের সাথে মারিয়ার বাবা মারা যান। মারিয়া বেঁচে যায়, উদ্ধারকারী জাহাজ তাঁকে উদ্ধার করে।

বাংলাদেশ আলোর দিকে হাঁটছে না, অন্ধকারের পানে ছুটছে। বাংলাদেশ জঙ্গী হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভারতীয় ভিসা বন্ধ হয়েছে। মার্কিন ভিসা বন্ধ। এরপর আসছে ইউরোপীয় ভিসা। পাকিস্তান দরজা খুলে দিয়েছে। আরো খোলা থাকছে প্রিয় মুসলিম দেশ আফগানিস্তান, ইরান, ইরাক, সিরিয়া, সোমালিয়া, সৌদি আরব বা এমন ক’টি শরিয়া ভিত্তিক দেশ। চলে আসুন, মুসলিম ভাই হিসাবে ‘নাররিকত্ব’ দিতেও পারে। ভারত হটাৎ করে বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিকদের দ্রুত সরিয়ে নিয়েছে, কারণ কেরানীগঞ্জে এক মাদ্রাসায় বোমা বিস্ফোরণে সুনির্দিষ্টভাবে জঙ্গী সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ এখন ‘কান্ট্রি অফ স্পেসিফিক কনসার্ন’। ঢাকায় পাকিস্তানী সন্ত্রাসীরা খোলামেলা ঘুরছে। খালিস্থানের অফিস বসেছে।

ইসলামাবাদে শুক্রবার (৬ফেব্রুয়ারি ২০২৬) একটি শিয়া মসজিদে জুম্মার নামাজে বোমা বিস্ফোরণে ২শ’ জন হতাহত হয়েছে। বাংলাদেশে কি এমন ঘটনা ঘটবে? এ পর্যন্ত লেখাটি ছিলো নির্বাচনের আগে, আজ ১৫ই মার্চ ২০২৬-এ বলা যায়, আপাতত: দেশ বেঁচে গেছে। একটি রাজনৌতিক সরকার ক্ষমতায় এসেছে। যদিও পার্লামেন্টে প্রথম দিনের সূচনা শুভ নয়, তবুও বলা যায়, ‘ইউনুস গেছে, দেশ বাঁচছে’। দেশ শেষপর্যন্ত বাঁচবে কিনা তা ভবিষ্যৎ বলবে। তবে খালেদা জিয়ার বিএনপি আলোআঁধারীর মধ্যে লুকোচুরি খেললেও তারেক জিয়ার বিএনপি যদি ‘আলোর পথে’ না হাঁটে তাহলে সমস্যা বাড়বে। বাংলাদেশকে বাঁচতে হলে গণতন্ত্র বা ‘আলোর পথে’ হাঁটতে হবে।

লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।

পাঠকের মতামত:

১৯ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test