E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

ইউক্রেনের মত ইরান যুদ্ধ কি ঝুলে যাবে?

২০২৬ মার্চ ২০ ১৫:৫৪:১৮
ইউক্রেনের মত ইরান যুদ্ধ কি ঝুলে যাবে?

শিতাংশু গুহ


যুদ্ধ চলছে। কোথায় যুদ্ধ? এতো দেখছি মাঝে-মধ্যে গিয়ে কিছু বোমা মেরে আসা! বিশ্ব এই প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল যুদ্ধ দেখছে। যুদ্ধ কবে থামবে কেউ জানেনা? আজকাল যুদ্ধ এমনই, যাঁরা শুরু করে তারাও জানেনা এর শেষ কোথায়। যেমন ইউক্রেন যুদ্ধ, চলছে তো চলছেই। গাজা যুদ্ধ, কাগজে-কলমে শেষ, কিন্তু বাস্তবে ‘শেষ হইয়াও হইলো না শেষ’। গাজা শেষ, ইউক্রেন ধুঁকছে, ইরান শেষ। জানি, ইরান শেষ বলায় অনেকে দু:খ পাচ্ছেন, কিন্তু কিচ্ছু করার নাই, ইরান ছারখার হয়ে যাচ্ছে। ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে বটে, কিন্তু সেটা অনেকটা, ‘জিদের ভাত কুত্তারে খাওয়ানোর মত’! জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের কোন দায়িত্ববোধ নাই বলেই ইরান গায়ের জোরে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রবল দুই শক্তির বিরুদ্ধে ইরান তিন সপ্তাহ দাঁড়িয়ে আছে, এটা বিশ্ব দেখেছে, এখন সময় থাকতে ইরান সম্মানের সাথে যুদ্ধবিরতি করা দরকার। যুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরাইলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে, কিন্তু যুদ্ধ জয়ের কোন সম্ভবনা ইরানের নেই? যে যুদ্ধে জেতা যাবেনা, বুদ্ধিমান সেই যুদ্ধ করেনা। আমেরিকার সাথে যুদ্ধ করার ক্ষমতা এসময়ে বিশ্বের কোন দেশের নেই, ইরান তো শিশু, যুদ্ধ বন্ধ না হলে ইরান অচিরেই গাজায় পরিণত হবে।

প্রোপাগান্ডা হলো ‘নেত্তনাহু’ নিহত হয়েছেন। ইরানের বড় বড় সব নেতা শেষ, গর্ত থেকে বেরুলেই বোমা বা ড্রোন। ইরান প্রতিশোধ চায়, ‘নেত্তনাহু’-কে হত্যা করে সমর্থকদের চাঙ্গা করতে চায়। ‘নেত্তনাহু’ নিহত হলে আর এক ‘নেত্তনাহু’ জন্ম নেবে। তাতে যুদ্ধ থামবে না? এটি ডিজিটাল যুদ্ধ, ইসরাইল প্রযুক্তিতে বিশ্বসেরা, এর কাছে ইরানের হাঁড়ির খবর আছে, ইরানের তা নেই, ধর্মীয় জোশে যুদ্ধ জেতা যাবেনা। আবাবিল পাখিরা আরব্য উপন্যাসে মানায়, বাস্তবে নয়! ১৭ বছর একটানা ক্ষমতায় থেকে শেখ হাসিনা স্বৈরাচার হয়েছেন, আর খামেনী ১৯৭৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থেকে লক্ষ লক্ষ ইরানীকে খুন করে, ক.মাস আগে ৩০হাজারের বেশি নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের খুন করেও বাংলাদেশের মানুষের প্রানপ্রিয় নেতা! বাংলাদেশ সরকার অবশ্য শোক জানায়নি, কারণ ড.ইউনুস মাত্র ১৮ মাসে দেশের ‘পাইন’ মেরে দিয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষ এক আজব চিজ, এঁরা আমেরিকার ধ্বংস চায়, আবার আমেরিকার ভিসা চায়। ইরান আবার সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছে, দুবাইতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। যুদ্ধ আরো চললে আশেপাশের মুসলিম দেশগুলো জড়িয়ে যাবে।

যুদ্ধ ভাল নয়, কিন্তু যুদ্ধ ছাড়া উপায় নাই? ইসরাইল চায় ইরানের ধ্বংস, সৌদি আরবও চায় ইরানের ধ্বংস। ক’টি সুন্নি দেশ শিয়া ইরানের ধ্বংস চায়। বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ইসলামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ জনতা ইরানের পক্ষে, অথচ এঁরা শিয়া মসজিদে বোমা মারে, এমনকি মহররমের ‘তাজিয়া’ বের হতে দেয়না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী খোলার ব্যাপারে ইউরোপ ও ন্যাটোর সাহায্য চেয়েছিলেন, তারা রাজি হননি। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তাঁরা এখন বলছেন, আমরা রাজি, ট্রাম্প বলছেন, দরকার নাই! ইরান বলেছে, ইসরাইল ট্রাম্পকে যুদ্ধে টেনে নামিয়েছে। নেত্তনাহু বলেছেন, ট্রাম্পকে টেনে যুদ্ধে নামানো যায়, একথা কি কেউ বিশ্বাস করবে? ইসরাইল ইরানের বৃহত্তর তেলক্ষেত্রে আক্রমন চালিয়েছিল, ইরানও পাল্টা কুয়েত ও সৌদি আরবে তেলক্ষেত্রে হামলা চালায়। এরপর ট্রাম্প ইসরাইলকে তেলক্ষেত্রে আক্রমন না করার পরামর্শ দেন, ইসরাইল তা মেনে নিয়েছে। তেলের দামের উর্দ্ধগতি ঠেকাতে রাশিয়া ও ইরানের ওপর আরোপিত তেলবিক্রীর নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্র তুলে নিয়েছে। রিয়াদে মুসলিম দেশগুলোর সেনাবাহিনী গঠন নিয়ে সদ্য এক বৈঠক হয়, বাংলাদেশ আমন্ত্রণ পায়নি। কেউ কেউ এটিকে সুন্নিবাহিনী বলতে চাচ্ছেন। এই বাহিনী কি ভবিষ্যতে দুর্বল ইরানের ওপর হামলা চালাবে?

লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।

পাঠকের মতামত:

২০ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test