E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

সিলেটি সংসদ সদস্যদের কাছে খোলা চিঠি

২০২৬ এপ্রিল ২০ ১৮:০৫:৪৫
সিলেটি সংসদ সদস্যদের কাছে খোলা চিঠি

আবদুল হামিদ মাহবুব


সিলেট বিভাগ থেকে যারা সংসদ সদস্য হয়েছেন, তাদেরকে বিলম্বিত অভিনন্দন। আপনারা পূর্বে যখন সংসদ সদস্য ছিলেন না, রাজধানীতে যাতায়াত করতেন, তখন হয়তো সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে গেছেন। কথাটা আমার অনুমান থেকে বললাম। কারণ খোঁজখবর নিয়ে দেখেছি আপনারা নির্বাচিত সকলেই সচ্ছল ব্যক্তি। এখনো হয়তো ঢাকা-সিলেট আসা-যাওয়া করেন উড়োজাহাজেই।

আমি সম্মানিত সংসদ সদস্যদের বলব, দয়া করে সড়ক পথে আসা-যাওয়া করুন। ঢাকা-সিলেট সড়কের হাল হকিকত জানুন। এই সড়ক পথের কিভাবে সুষ্ঠু সুরাহা করা যায়, আপনারা সবাই একবার সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করুন। সকল সংসদ সদস্যই আপনারা একটি দল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। এবং আপনাদের দলই ক্ষমতায় আছে। সিলেটের মানুষ সড়ক দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাক। আঞ্চলিক মহাসড়ক ও স্থানীয় সড়কগুলোর কথাও আপনারা স্মরণে রাখবেন। আপনাদের সম্মিলিত মহতী উদ্যোগের মাধ্যমে সকল সড়কের উন্নয়ন হবে বলে আমি আশা রাখছি।

একই সাথে রেলপথের কথাও ভাবুন। রেলের লাইন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। মাঝেমধ্যে নিশ্চয়ই রেলপথে ভ্রমণ করার অভিজ্ঞতা আপনাদের আছে। আপনারা অনেকেই ঝুঁকির বিষয়টা উপলব্ধি করেছেন। এখন আপনাদের নিজের হাতে সুযোগ এসেছে। এই রেলপথের উন্নয়নের জন্য আপনারা ভূমিকা রাখতে পারেন। ঢাকা সিলেট পথের সকল স্থানে দুই লাইন বিশিষ্ট রেলপথ নির্মাণসহ বর্তমান রেলপথের আমূল সংস্কার করার ব্যবস্থা করুন। অতি দ্রুত ঢাকা-সিলেট রেল পথে অন্তত উন্নত মানের দুইটি নতুন ট্রেন সংযোজনের ব্যবস্থা করুন।

আমি এটাও আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, মানুষ যখন আরাম-আয়েশে পড়ে যায়, তখন অতীতের দুঃখ ব্যাথা ভুলে যায়! আপনারা যখন সংসদ সদস্য ছিলেন না, তখন খুব একটা আরাম-আয়েশে ছিলেন না। সেই সময় নিজেদের অনেক কাজ নিজেরাই করেছেন। সেইসব কাজ করতে গিয়েও বিভিন্ন অফিস আদালতে অনেক ক্ষেত্রেই দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। একটা কাজ আদায় করার জন্য মাসের পর মাস ধর্ণাও দিয়েছেন। বিশেষ করে ভূমি অফিসগুলোর কথা আপনারা ভুলে যাননি নিশ্চয়। থানার পুলিশ কর্মকর্তারা আপনাদের সাথে কেমন দুর্ব্যবহার করত সেটাও মনে রাখুন। সকল ক্ষেত্রেই শৃঙ্খলা, জনবান্ধব সুলভ অবস্থা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা থাকতে হবে।

আপনাদের উদ্দেশ্যে বলছি যখন, তখন আপনারা যে পথ বেশি ব্যবহার করেন সেই সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কথাও বলি। আপনারা যখন বিমানবন্দর ব্যবহার করেন তখন ভিআইপি গেট দিয়ে ঢুকে সকল সুযোগ-সুবিধা নিয়ে গন্তব্যে যান অথবা আসেন। যাওয়ার সময় আপনাদের গাড়ি ভিআইপি গেটের কাছে গিয়ে থামে, আপনারা নেমে ঘটঘট করে ঢোকে যান। যখন আসেন তখনও সিঁড়ির কাছেই আপনাদের জন্য গাড়ি রেডি থাকে। সাধারণ যাত্রীরাও যে দিকে ঢুকে সেখানকার পরিবেশও মন্দ নয়। ওয়াশরুম টয়লেট সবই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনাও ভালো।

কিন্তু প্রবাসী যাত্রীদের সাথে তাদের যে স্বজনরা আসেন, তাদেরকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কেউ আসেন বিদায় জানাতে। কেউ আসেন স্বজনকে গ্রহণ করতে। বিদায় দেওয়া ও গ্রহণ করতে আসাদেরকে অভিহিত করা হয় দর্শনার্থী হিসেবে। এই দর্শনার্থীদের জন্য বাইরে অপেক্ষার তেমন কোনো ভালো সুযোগ নেই। বিমানবন্দরে গাড়ি রাখার যে জায়গা আছে, তার পশ্চিমে যদিও ছোট্ট একটি শেড দেওয়া আছে। সেখানে কিছু স্থায়ী বেঞ্চ আছে বসার জন্য। কিন্তু সেটা খুবই অপ্রতুল। টা টা রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। শেডের ওখানে নাই কোন ওয়াশরুম কিংবা টয়লেট। কোন অপেক্ষমান দর্শনার্থীর ওয়াশরুম কিংবা টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন হলে তাকে বেশ কিছু পথ হেঁটে বিমানবন্দরে ঢোকার রাস্তার দক্ষিণ পাশে একটি স্থানে যেতে হয়। সেখানে কিছু দোকান আছে। তার একপাশে আছে শৌচাগার। সকল সময় সেই শৌচাগারটিও খোলা পাওয়া যায় না। এর ফলে অপেক্ষমান দর্শনার্থীদের বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

এই কিছুদিন আগে আমার এই বিষয়ে একটি অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি বিমানবন্দরের পরিচালকের নজরে সেই বিষয়টি এনেছি। বাইরের ওই শৌচাগারের অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। কমোড, বেসিন সবই ভাঙাচোরা, মেঝেও অপরিষ্কার। শৌচাগারে পৌঁছার যে পথ তৈরি করা হয়েছে তা একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সাথে মানানসই নয়। আর বৃষ্টি বাদল আসলে তো সেই অপেক্ষমান দর্শনার্থীরা খুবই বিপাকে পড়েন। তাদের কথা চিন্তা করেও এই বিমানবন্দর কে আরো সুন্দর করে সাজানোর চিন্তা রাখতে হবে। আপনারা ভিআইপি গেট দিয়ে ঢোকার আগে; বিমানবন্দরের আঙ্গিনা ও আশপাশের পরিবেশটা একটু দেখে নেবেন। কথা আর বাড়াচ্ছি না।

আপনারা সকলে সফলতা লাভ করুন। সেই সাথে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সফলতা বয়ে আনুন সিলেটবাসীর জন্য।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও শিশু সাহিত্যিক।

পাঠকের মতামত:

২০ এপ্রিল ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test