E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

আমেরিকা এটিকে ‘জোকস’ হিসাবে নিলে ভালো! 

২০২৬ মে ৩০ ১৫:১৮:৩৩
আমেরিকা এটিকে ‘জোকস’ হিসাবে নিলে ভালো! 

শিতাংশু গুহ


কুরবানী ২০২৬, বাংলাদেশ। ঢাকার বড়বড় মিডিয়া জানাচ্ছে এবার কমবেশি ১কোটি পশু কোরবানী হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ১৭ জনের জন্যে ১টি পশু। এবার ঈদুল-আদহা’র মাহাত্ম্য হচ্ছে ট্রাম্পের নামে একটি মহিষ কোরবানী হবার কথা ছিলো। শেষপর্যন্ত সেটি হয়নি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিষটি কিনে নিয়ে চিড়িয়াখানায় দিয়েছেন, জানা যায়, এর নুতন নাম হয়েছে ‘সাদা মহিষ’। গুজব রয়েছে, মার্কিন দূতাবাসের ইচ্ছায় ট্রাম্প নামের মহিষটি বেঁচে গেছে। এনিয়ে আমেরিকায় বড়বড় মিডিয়ায় নিউজ হয়েছে। ঘটনা কি এখানেই শেষ হলো নাকি এর জের আরো টানতে হবে, কেউ জানেনা। এর কি আদৌ কোন প্রয়োজন ছিলো? আমেরিকা এটিকে ‘জোকস’ হিসাবে নিলে ভালো! শুধু ট্রাম্প কেন মোদী, নেত্তনাহু, পুটিন এবং এমনকি শুভেন্দু অধিকারীর নামেও গরু মার্কেটে এসেছে। মহিষ ট্রাম্প এসে পড়ায় বাকিদের নিয়ে তেমন হৈচৈ হয়নি। রাজনৈতিক বিবেচনায় শুভেন্দু’র উন্নতি হয়েছে, একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েও তিনি বিশ্বের বড়বড় নেতাদের সাথে নিজের নাম যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। কারণ সবাই জানে, বলেনা। চীনের শী জিং পিন-র নামে কোন গরুর নাম দেখা যায়নি। কারণ চীন হচ্ছে আমেরিকা ও ভারতের শত্রু, সুতারং বাংলাদেশের বন্ধু?

মমতা কি বাংলায় মোঘল সাম্রাজ্য কায়েম করেছিলেন?

বলা হয়, মমতার গুণ্ডাবাহিনীর ৯০% ছিলো মুসলমান, মমতা এদের তোয়াজ করতো। মুর্শিদাবাদের হুমায়ুন কবির, সন্দেশখালীর শাহজাহান শেখ, ফলতার জাহাঙ্গীর ও জলঙ্গীর বাবর -এরাই সবাই ছিলেন মমতা ব্যানার্জীর গুন্ডা। হুমায়ুন কবির অবশ্য নির্বাচনের ঠিক আগখান দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সরে পড়েছেন, বা তাকে বহিস্কার করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি ও বিজেপি’র বিজয়ের পরে ঐসব গুন্ডাদের পতন হয়েছে। এ যেন মোঘল সাম্রাজ্যের পতন! মমতা কি বাংলায় মোঘল সাম্রাজ্য কায়েম করেছিলেন?

‘কালে কালে আরো কত কি দেখিব’

বাংলাদেশে জন্ম নিয়ে এ জীবনে কত কিছু দেখলাম। পাকিস্তান ভাঙ্গা দেখলাম। স্বাধীন বাংলাদেশ দেখলাম। বঙ্গবন্ধুকে দেখলাম, তাঁর দেশে ফিরে আসা দেখলাম, তার শাসনামল দেখলাম, তাঁর মৃত্যু দেখলাম। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মেজর জিয়ার নির্মম হত্যাকান্ড দেখলাম। সাত্তারকে দেখলাম, বিনা রক্তপাতে এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণ দেখলাম। নূর হোসেনের ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লেখার কারণে পুলিশের গুলীতে হত্যা দেখলাম। শেখ হাসিনা’র আগমন দেখলাম। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন দেখলাম। এরশাদের পতন দেখলাম। খালেদা জিয়ার উত্থান দেখলাম। পতন দেখলাম। তত্বাবধায়ক সরকার দেখলাম, এর বিলুপ্তি দেখলাম। নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস দেখলাম। বিচার বিভাগ, মিডিয়া, শিক্ষা ব্যবস্থার ধ্বংস দেখলাম। শেখ হাসিনা’র শাসন দেখলাম, ক্ষমতাচ্যুতি দেখলাম। জুলাই ষড়যন্ত্র ও মব ভায়োলেন্স দেখলাম। জামাতের গর্তে থেকে বেরিয়ে এসে ক্ষমতার কাছাকাছি চলে আসা দেখলাম। বিশ্ব-বাটপার ইউনূসের দেশ-বিক্রী দেখলাম। এখন দেখছি তারেক জিয়ার উত্থান। এক জীবনে আর কি চাই? আপাতত: দু’টি জিনিষ দেখার অপেক্ষা (১) জুলাই জঙ্গীদের শেষ পরিণতি (২) শেখ হাসিনা’র পুন:-প্রত্যাবর্তন।

ভারত খারাপ, চীন ভাল

পাকিস্তানে কোন কম্যুনিষ্ট নেই, নেই বাম আন্দোলন। চীনে কোন ইসলামিষ্ট নেই, নেই কোন ইসলামিক জঙ্গী তৎপরতা। কারণ কি? কারণ হচ্ছে, ‘মাইরের ওপর ওষুধ নেই’। বাংলাদেশে সামাজিক সম্প্রীতি বলতে কিছু নেই, আছে শুধু বৈষম্য আর বৈষম্য। চরম ধর্মীয় বিভেদ থাকা সত্বেও এগুলো কোন ইস্যুই নয়? কারণ হচ্ছে, দেশটা কট্টর সাম্প্রদায়িক, সমাজটা সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পে ভরপুর। অন্যদিকে ভারতে আপনি কম্যুনিষ্ট পাবেন, বাম আন্দোলন পাবেন; ইসলামিষ্ট পাবেন, পাকিস্তানপন্থী সন্ত্রাসী পাবেন, ভারত ভাঙ্গার কথাবার্তা শুনবেন। সামাজিক মৈত্রীআছে-বৈষম্যও আছে; সাম্প্রদায়িকতা আছে- ব্যাপক অসাম্প্রদায়িকতা গোষ্ঠী ও চেতনা আছে!! একদল মুসলমানের বিপক্ষে আছে, বিশাল একটি জনগোষ্ঠী মুসলমানের পক্ষে দাঁড়িয়ে কথা বলে। অথচ ভারত ভালো না। বাঁশ দিলেও পাকিস্তান ভাল, চীন ভালো।

লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।

পাঠকের মতামত:

৩০ মে ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test