সংসদ ও শহীদ মিনার বঞ্চিত জননেতা তোফায়েল আহমেদ: ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়
মানিক লাল ঘোষ
একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদা কেবল তার ভৌগোলিক সীমানা বা শাসনতন্ত্র দিয়ে নির্ধারিত হয় না, বরং সেই জাতি তার মহান সন্তানদের বিদায়লগ্নে কতটা শ্রদ্ধাশীল, তার ওপরই নির্ভর করে ওই জাতির মানস ও নৈতিক উচ্চতা। বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য নাম তোফায়েল আহমেদ—যিনি ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক, তৎকালীন ডাকসুর তুখোড় ভিপি এবং বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের অন্যতম প্রধান রূপকার। তিনি মুজিব বাহিনী গঠনেও রেখেছিলেন ঐতিহাসিক ভূমিকা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য থেকে শুরু করে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দলের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। বেশ কয়েকবার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যিনি জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন, সেই মহান নেতার শেষ বিদায়লগ্নে রাষ্ট্র এক নজিরবিহীন উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে। মৃত্যুশয্যায় থাকা অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে যে আইনি হয়রানি চালানো হয়েছে এবং নিজ জেলা ভোলা—যেখানে সর্বত্র ছড়িয়ে আছে তাঁর উন্নয়নের ছোঁয়া—সেই ভোলার মাটিতে জানাজায় বিএনপির স্থানীয় সহযোগী সংগঠনের মাধ্যমে যে নক্কারজনক বাধা প্রদানের চেষ্টা করা হয়েছে, তা কেবল এক ব্যক্তির অপমান নয়; বরং এটি আমাদের জাতীয় রাজনীতির চরম সংকীর্ণতা ও দেউলিয়াত্বের এক নির্মম দলিল।
রাষ্ট্রের এই বৈরী আচরণের বিপরীতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ১ জুনের জানাজায় ছিল এক অন্যরকম দৃশ্যপট। হাজারো শোকার্ত মানুষের উপস্থিতিতে ঢাকার সেই প্রথম জানাজায় আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের শ্লোগান “জয় বাংলা” দিয়ে। যে মহানায়ক আজীবন রাজপথে লড়াই করেছেন, সেই বীরকে সেদিন নেতাকর্মীরা অশ্রুসিক্ত নয়নে আর অগ্নিঝরা শ্লোগানে বিদায় জানিয়েছেন। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় হলো, সেই জানাজা শেষে যখন জাতি শোকাভিভূত, ঠিক তখনই অগণিত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি অভিযান চালিয়ে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা হয়। যে মানুষটি আজীবন মানুষের অধিকারের কথা বলেছেন, তাঁর বিদায়লগ্নে তাঁর অনুসারীদের ওপর এই দমন-পীড়ন ক্ষমতার চরম দম্ভেরই বহিঃপ্রকাশ।
তোফায়েল আহমেদ কোনো নির্দিষ্ট দলের গণ্ডিতে আবদ্ধ ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের সংসদীয় রাজনীতির এক জীবন্ত প্রতিষ্ঠান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি প্রদান থেকে শুরু করে স্বাধীনতার প্রতিটি লড়াইয়ে তাঁর ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। রেকর্ড সংখ্যক ৯ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন জনগণের সাথে তাঁর নাড়ির সম্পর্ক কত গভীর। যে সংসদকে তিনি দশকের পর দশক নিজের প্রজ্ঞা ও ক্ষুরধার যুক্তিতে মুখরিত রেখেছেন, সেই জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে তাঁর শেষ বিদায়ের আয়োজনটুকু না হওয়া কেবল এক প্রশাসনিক ভুল নয়, এটি আমাদের সংসদীয় সংস্কৃতির এক গভীর ক্ষত। যেখানে একজন বর্ষীয়ান পার্লামেন্টারিয়ানের প্রতি ন্যূনতম রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার প্রদর্শিত হয়নি, সেখানে এটি স্পষ্ট যে, সংকীর্ণতা আমাদের নীতিনির্ধারণী স্তরে কতটা বাসা বেঁধেছে।
ব্যথিত হওয়ার এখানেই শেষ নয়। বাঙালির ভাষা ও চেতনার প্রতীক—কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাঁকে নাগরিক শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগটুকুও কেন দেওয়া হলো না, সেই প্রশ্ন আজ সচেতন মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। এরপর ভোলার মাটিতে তাঁর শেষ বিদায়লগ্নে যে প্রতিহিংসামূলক আচরণ ও বাধার সৃষ্টি করা হয়েছে, তা কেবল একজন জাতীয় নেতার প্রতি অপমান নয়, এটি আমাদের রাজনৈতিক নৈতিকতার চরম পরাজয়।
অথচ তোফায়েল আহমেদ নিজে ছিলেন এক উদার ও পরমতসহিষ্ণু রাজনীতির প্রতীক। চরম রাজনৈতিক মেরুকরণের যুগেও তিনি যেভাবে ব্যক্তিগত সৌজন্য বজায় রেখে চলতেন, তা ছিল এক বিরল দৃষ্টান্ত। আজ যখন তাঁকে এবং তাঁর আদর্শকে সম্মান দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনীতির প্রতিপক্ষ এমন দেউলিয়াত্বের পরিচয় দেয়, তখন বুঝতে কষ্ট হয় না যে, আমরা এক কতটা অসহিষ্ণু সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।
গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটলের ভাষায়, "রাজনীতি হলো সর্বোচ্চ মানবিক কল্যাণ সাধনের শিল্প।" তোফায়েল আহমেদ আজীবন সেই শিল্পকেই চর্চা করেছেন। যে মানুষটি নিজের প্রতিপক্ষকেও সর্বদা সম্মানের চোখে দেখেছেন, বিদায়বেলায় রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁকে ন্যূনতম নাগরিক সম্মানটুকু না দিয়ে নিজেদের দেউলিয়াত্বই প্রকাশ করেছে। ইতিহাসের অমোঘ সত্য হলো, সাময়িক রাষ্ট্রীয় অবহেলা কিংবা সংকীর্ণতার দেয়াল দিয়ে তোফায়েল আহমেদের মতো বিশাল ব্যক্তিত্বকে ম্লান করা সম্ভব নয়। তিনি কোটি মানুষের হৃদয়ে থাকবেন অমর হয়ে। তবে, তাঁর জানাজায় বাধা প্রদান, আইনি হয়রানি এবং শহীদ মিনার ও সংসদ থেকে বঞ্চিত করার এই কলঙ্কিত অধ্যায় ইতিহাসের পাতায় এক চরম ধিক্কার হিসেবেই লেখা থাকবে। বীরদের সম্মান দিতে না জানা জাতি যে নতুন কোনো বীরের জন্ম দেওয়ার নৈতিক অধিকার রাখে না— এই সত্যটিই আজ আবারও প্রমাণিত হলো।
লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
পাঠকের মতামত:
- পাংশায় ট্রেনের ছাদ থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার
- অম্লান ইতিহাস
- সংসদ ও শহীদ মিনার বঞ্চিত জননেতা তোফায়েল আহমেদ: ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়
- নড়াইলে নবগঙ্গা নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার
- ফরিদপুরে এলজিইডি'র পাকা রাস্তা দখল করে ঘর ও প্রাচীর নির্মাণ
- সাতক্ষীরায় বিএনপির নাম ভাঙিয়ে আ.লীগ সমর্থকের ঘের দখল, মারপিট
- গোপালগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো এক শিশুর মৃত্যু
- ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন
- সালথায় দুই দলের সংঘর্ষে আহত ১৫, বাড়িঘর ভাঙচুর
- ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে ইউনিসেফ প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
- ‘রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ’
- চীন সফরে গেলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ ১৫ কর্মকর্তা
- দেশে ফিরেছেন ১৭ হাজারের বেশি হাজি
- ‘বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ধর্মীয় খাতে কাজের পরিধি বিশালতা পাবে’
- মাসজুড়ে একাধিক তাপপ্রবাহের শঙ্কা, কমবে বৃষ্টি
- শ্যামনগরে ডাকাতের সহযোগীকে আটক করে পুলিশে দিলো এলাকাবাসী
- নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের মিছিলে ধাওয়া
- নারায়ণগঞ্জে কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
- ‘ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক বন্ধুত্বের’
- ‘২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন হতে পারে’
- হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু
- কমেছে এলপি গ্যাসের দাম, সন্ধ্যা থেকে কার্যকর
- পূর্ব বাংলার সাম্প্রতিক ট্রাজেডি কখনোই পাকিস্তানের ঘরোয়া বিষয় হতে পারে না
- ঈদের নামাজে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি মামলা
- সান্তাহারে রেলভূমির ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন
- ছেলের মাদককাণ্ড নিয়ে অবশেষে মুখ খুলছেন শাহরুখ খান
- কুষ্টিয়ায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতার ওপর ছাত্রদলের হামলা
- বেলকুচি উপজেলা যুবলীগের কক্ষে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও শেখ মনির সাথে একই সারিতে পৌর মেয়র রেজার ছবি, সমালোচনার ঝড়
- বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে মহাকাব্য ‘শেখ মুজিবের বাংলায়’
- পঞ্চগড় সোহান স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন বোদা টুস্টার
- সাংবাদিক তুহিন হত্যার বিচার দাবিতে ঝালকাঠিতে মানববন্ধন বিক্ষোভ সমাবেশ
- ছেংগারচর বাজারে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে চারটি দোকান, ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি
- ইজিবাইক থেকে ছিটকে পড়ে স্কুলছাত্রী নিহত
- আনন্দ শোভাযাত্রায় মোটিফ বানানো চিত্রশিল্পীর বাড়িতে আগুন
- পুতুলের গায়ে ১০১টি সুচ, এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি
- ‘পলিটিক্যাল স্টান্টবাজিই বিএনপির রাজনীতিতে টিকে থাকার কৌশল’
- চাঁদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ তালিকাভুক্ত ৫ কিশোর গ্যাং সদস্য আটক
- স্বর্ণকলি স্কুলের ১৬ শিক্ষার্থী পেল বেস্ট স্টুডেন্ট এওয়ার্ড
- চীন সফরে গেলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ ১৫ কর্মকর্তা
- ঝালকাঠিতে ভবন নির্মাণ কাজের চাঁদা না পেয়ে হামলা
- খুব কাছে এসো না
- আড়াইশ’ বছরের ঐতিহ্য নিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ দুর্গা মন্দিরে চলছে পূজার প্রস্তুতি
- বিয়ের প্রলোভনে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের ঘটনায় কলেজছাত্র কারাগারে
- দেশে ফিরেছেন ১৭ হাজারের বেশি হাজি
- আট বছর আগে একদিন
-1.gif)







